[…]পিকেএসএফের প্রশিক্ষিতদের ৭০ শতাংশ চাকরি পেয়েছে […]পিকেএসএফের প্রশিক্ষিতদের ৭০ শতাংশ চাকরি পেয়েছে

পিকেএসএফের প্রশিক্ষিতদের ৭০ শতাংশ চাকরি পেয়েছে

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ১, ২০১৭ , ৭:০৫ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: কর্মসংস্থান

কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ কর্মসূচির (এসইআইপি) আওতায় পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) গত দেড় বছরে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের যে ৫ হাজার ৬০১ জন তরুণকে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিল তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ এখন কর্মসংস্থানে নিয়োজিত রয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন এসইআইপি প্রকল্পের আওতায় তিন বছরে দশ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে পিকেএসএফ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। ১৩টি কারিগরি ট্রেডে তিন মাস ও ছয় মাস মেয়াদি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি নারী সদস্য।

এ বিষয়ে পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন,দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে না পারলে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত অসম্ভব।ব্যক্তিগত জীবনেও যেমন দক্ষতা প্রয়োজন,তেমনি দেশের উন্নয়নেও দরকার দক্ষ মানবসম্পদ।এই উপলব্ধি থেকে সরকার এসইআইপি প্রকল্প চালু করেছে।

তিনি বলেন,বাজার চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রকল্পের আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।এরপর প্রশিক্ষিত তরুণদের উৎপাদনশীল মজুরীভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে অথবা তারা নিজেরা আত্ম-কর্মসংস্থানে নিয়োজিত হচ্ছেন।

প্রশিক্ষণার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে এসইআইপি প্রকল্প সমন্বয়ক মো. আবুল কাশেম বলেন,পিকেএসএফ এর সহযোগি সংস্থার অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থায়ন কর্মসূচিভূক্ত দরিদ্র পরিবারের আগ্রহী তরুণ সদস্যদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।তবে উপকূলীয়,প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলের অধিবাসীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।সহযোগি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করে থাকে।
তিনি জানান,প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য পিকেএসএফ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২২টি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে।সেখানে আইটি আউটসোর্সিং,অটোমোবাইল মেকানিকস,ওয়েল্ডিংএন্ড ফেব্রিকেশন,মেকানিকাল এগ্রিকালচার ফার্মিংসহ মোট ১৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর পিকেএসএফ ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিভিন্ন নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে।এর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত তরুণরা নিজেরা আত্ম-কর্মসংস্থানেও নিয়োজিত হচ্ছেন।

আবুল কাশেম বলেন, ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত ২২৬টি ব্যাচে মোট ৫ হাজার ৬০১ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৫৬২ এবং নারী এক হাজার ৩৯ জন। প্রশিক্ষিত এসব তরুণদের ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান,প্রশিক্ষিতদের মধ্যে যারা নিজেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী অথবা বিদেশে যেতে চায় তাদের সহযোগি সংস্থা থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,প্রশিক্ষণার্থীদের ফলপ্রসু অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পের শর্তানুযায়ী কেবলমাত্র আবাসন ও খাবার বাবদ মোট খরচের ১০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে বহন করতে হয়।তিন মাস মেয়াদি কোর্সের জন্য দুই হাজার তিনশ’ এবং ছয় মাস মেয়াদি কোর্সের জন্য সাড়ে চার হাজার টাকা প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করতে হয়। এদিকে সরকার তিন মাসের জন্য ৪১ হাজার এবং ছয় মাসের জন্য ৬৭ হাজার টাকা প্রশিক্ষণার্থী প্রতি ব্যয় করছে।



নির্বাচন বার্তা