বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামীরা কে কোথায়!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ৭, ২০১৭ , ৫:০৮ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: এডিটরস' পিক

নিম্ন আদালতে দুজনকে ফাঁসি দেয়া হয়। যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১১ জন পলাতক থাকায় আপিল করার সুযোগ পাননি। হাই কোর্টের রায়ে তাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করা হয়নি। ফলে মাথার ওপর যাবজ্জীবন সাজাই বহাল রয়েছে।

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামীদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম একটি অনুসন্ধানী প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানা যায়:

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড পেয়েছেন সুনামগঞ্জের মনতলার কেশবপুরে সুখেন চন্দ্র তালুকদারের ছেলে রাজন তালুকদার কলকাতায় পালিয়ে আছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি মীর মো. নূরে আলম (লিমন)-এর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সুল্লিপাড়ার মীর মো. নুরুল ইসলামের ছেলে লিমন বর্তমানে মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন বলে তার এক বন্ধু কে জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে যাবজ্জীবন পাওয়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ ও জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন আছেন কারাগারে।

ভোলার দৌলতখানের আবদুর রহমানের ছেলে নাহিদ জগন্নাথের বাংলা বিভাগের; যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ কাইবা পূর্বপাড়া এলাকার আকরাম আলীর ছেলে এমদাদ দর্শন বিভাগ এবং খুলনার পাইকগাছা উপজেলার জিএম লুৎফর রহমানের ছেলে শাওন ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের নারায়ণপুর এলাকার মৃত আব্দুল কাইয়ূমের ছেলে মো. কামরুল হাসান এখন আছেন মালয়েশিয়ায়। সেখান থেকে ফেইসবুকে পোস্টও দিচ্ছেন জগন্নাথের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের এই বহিষ্কৃত ছাত্র।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস আলী শেখের ছেলে আল আমিন শেখ নিম্ন আদালতে রায় হওয়ার পরপরই কলকাতায় পালিয়ে গিয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেন বলে তার বন্ধু ও নিকটজনদের ভাষ্য।

তার এক বন্ধু ও ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছুদিন আগে আল আমীন কলকাতা থেকে আমাকে ফোন দিয়েছিল।”

নোয়াখালীর ওবায়দুল কাদের ওরফে তাহসিন ভারত হয়ে দুবাই পালিয়ে গেছেন বলে তার বন্ধুদের মাধ্যমে জানা যায়। তিনি হাতিয়ার এক নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশের মাওলানা মহিউদ্দিনের ছেলে।

বগুড়ার সেওজ আমতলা এলাকার সামসুজ্জোহার ছেলে তারিক বিন জোহর ওরফে তমালও নিম্ন আদালতে রায় হওয়ার পর প্রথমে মালয়েশিয়ায় এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে চলে যান বলে ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

ফরিদপুরের সদরপুরের চরচাঁদপুর এলাকার মীর আব্দুল জলিলের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে ইমরান ও নড়াইলের কল্যাণখালী এলাকার নূর মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম রাজধানীতেই রয়েছেন বলে তাদের বন্ধুরা জানিয়েছেন।

ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাগুরার গাংনালিয়ার খন্দকার ইয়াকুব আলীর ছেলে ইউনুস আলী মাঝেমধ্যেই বাড়ি আর ঢাকায় যাতায়াত করেন। ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গেও তাকে দেখা যায়।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শ্রীনগর এলাকার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মোশারেফ হোসেন পুরান ঢাকার ওয়ারীতে এক নেতার বাসায় থাকতেন। তবে এখন তিনি কোথায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।
ছাত্রলীগের কর্মী ও বন্ধুদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার খানজাহান আলী থানার গিলাতলা এলাকার শেখ আ. মান্নানের ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে আজিজ এলাকাতেই আছেন।

পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ মো. আলাউদ্দিন গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন বলে তার স্বজনদের তথ্য। আলাউদ্দিন পঞ্চগড়ের আটোয়ারির ছোট ধাপ এলাকার হবিবুর রহমানের ছেলে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জের ভৈরবের রাধানগর মধ্যপাড়া মোল্লাবাড়ির আ. হাসেমের ছেলে মনিরুল হক ওরফে পাভেল ঢাকাতেই আছেন বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছে।

এছাড়া নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা এবং যাবজ্জীবনের আসামি গোলাম মোস্তফা ও এ এইচ এম কিবরিয়া হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন। এই চারজনই আছেন কারাগারে।