খুনীরা আইন দ্বারা সুরক্ষিত জেনে শৈশবে বিস্মিত হয়েছিলেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ১৯, ২০১৭ , ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: প্রতিবেদন

ইবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি যখন প্রথম শুনেছিলেন যে তার নানার খুনীরা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের দ্বারা সুরক্ষিত, তখন তিনি খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মার্ডার কেস : জার্নি, একম্প্লিশমেন্টস অ্যান্ড রিমেইনিং চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে রাদওয়ান সিদ্দিক এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ইনডেমনিটি আইনের কথা শুনে খুব আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। কীভাবে এমন একটি আইন হতে পারে?’

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পর বিচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য তৎকালীন খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকার ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন বিএনপি সরকার ১৯৭৯ সালে সংসদে এই অর্ডিন্যান্স অনুমোদন করে। ১৯৭৭ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জড়িত ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে বিদেশে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে আমরা যখন ঢাকায় আসি তখন বনানীর ওই কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি হই। কিন্তু পরে আমি ওই স্কুল পরিবর্তন করি।’

রাদওয়ান বলেন, ‘তখন কেন আমার ওই স্কুল পরিবর্তন করা হলো তা মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। মা উত্তরে বলেছিলেন, ওই স্কুলে খুনীদের ছেলেরা রয়েছে।’ আমি তখন জিজ্ঞাসা করি, খুনীরা কিভাবে এখনো রয়েছে? তখন আমি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স সম্পর্কে জানতে পারি।’

তার বয়সী ছেলেমেয়েরা তখন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কিছুই জানতো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবার আমাদের কাছে কখনো ইতিহাস গোপন করেনি। তাই আমাদেরকে ওই বর্বরতা সম্পর্কে জানানো হতো।’

আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এই সেমিনারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চিফ প্রসিকিউটর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এতে সঞ্চালক ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

আলোচনার প্যানেলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, ঢাবির সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন ও দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সিআরআই ট্রাস্টি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন ও জাদুঘরের কিউরেটর ও সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান।