[…]ঘটনা গুরুতর: প্রধান বিচারপতির উত্তরের আশায় পুরো বাংলাদেশ! […]ঘটনা গুরুতর: প্রধান বিচারপতির উত্তরের আশায় পুরো বাংলাদেশ!

ঘটনা গুরুতর: প্রধান বিচারপতির উত্তরের আশায় পুরো বাংলাদেশ!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ২৩, ২০১৭ , ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: অভিমত

রাসেল রহমান

লেখার শুরুতেই রুবাইয়াৎ-ই ওমর খৈয়ামের স্রষ্টা কবি ও বৈজ্ঞানিক ওমর খৈয়োমকে নিয়ে প্রচলিত একটি ঘটনার বয়ান করে নেই। সুরাভক্ত বিখ্যাত এই পারসিক কবিএক রাতে কাব্য সাধনায় রত ছিলেন। এসময় তার প্রচণ্ড সুরাতেষ্টা পেল।

কিন্তু তিনি পণ করেছেন, আর গোটা দুই রুবাই না লিখে উঠবেনই না। শেষে যখন উঠলেন তখন শহরের সব পানশালা বন্ধ হয়ে গেছে, একটি ছাড়া। খৈয়াম সেখানে গিয়ে হাঁক ছাড়লেন- এক বোতল শিরাজি দাও!

শাসক নিজাম উল মূলকের বন্ধু এবং দেশখ্যাত কবি খৈয়ামকে দেখে দোকানের মালিক দৌড়ে এসে করজোড়ে বললো- হুজুরের সেবায় আমার জান কোরবান! কিন্তু খুবই শরমের বাত হচ্ছে- আপনার প্রিয় ব্রান্ড শিরাজি তো নেই!

ওমর তখন এক চুমুক সুরার জন্য অস্থির। বললেন, শিরাজি নেই তো কুচ পরোয়া নেই! অন্য যে কোনো ব্রান্ড হলেও চলবে!

শরাবওয়ালা জিভ কেটে বললো, হুজুরের জন্য আমার মা-বাপ কোরবান! আজ খদ্দের বেশি ছিল, তাই কোনো মদের বোতলই দেওয়া যাচ্ছে না। সব শেষ!

কবি তবু দমলেন না, বললেন- বোতলের দরকার নেই, আমাকে একগ্লাস দিলেও চলবে! আজ আমি শরাব চাখতে না পারলে…

এবার সুরিখানার বস তার পায়ে লুটিয়ে পড়লো, হুজুর এক গেলাসও দিতে পারবো না! সব বিক্রি হয়ে গেছে!

তাতেও নিরাশ হলেন না কবিবর। বললেন, বোতল-সোরাইয়ের তলানিতে যা থাকে, তা সব মিলিয়ে আমাকে একটা গ্লাস বানিয়ে দাও!

সুরিওয়ালা দরদর করে ঘামতে লাগলো। ভয়ে আতঙ্কে কেঁদে ফেললো- হুজুর আমার মা-বাপ! গেলাস-বোতল সব ধুয়ে ফেলা হয়েছে যে! আপনাকে আমি…

এবার কবি দরাজ গলায় হুঙ্কার দিলেন, ওরে হার্মাদ! ওই ধুয়ে ফেলা বোতলগুলো ধুয়ে আমাকে অন্তত এক গ্লাস পানি এনে দে! ঘাবড়াও মাৎ, নেশার দায়িত্ব আমার!

আমাদের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কর্মকাণ্ড বা কাণ্ডকারখানা দেখে অতি আত্মবিশ্বাসী কবি ওমর খৈয়ামের এই গল্পটি মনে পড়ে গেল। তিনি যা বুঝছেন, তিনি যা মনে করছেন বা কোনো আপাত অদৃশ্য শক্তিকেন্দ্র তাকে যা মনে করাচ্ছে- তিনি বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে তাই দেখতে চাইছেন, দেখাতে চাইছেন! তিনি ভুলে যাচ্ছেন এই দেশটা কোনোমতেই পাকিস্তান না।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে অন্ধকারের পথে টানা একুশ বছর চালিয়েও শেষতক তা যে পাকিস্তানের যমজ বানানো যায়নি এবং তা বানানো সম্ভবও না- তা তিনি কোনো মতেই বুঝতে চাইছেন না। তার আচার-আচরণ অনেকটাই মনে হচ্ছে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতোই।

কেন এমন কথা বলছি তা নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন, তবে কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্রে এক্বেবারে টাটকা যে খবর জানতে পারা গেছে- তা শুনলে আপনারা আরও জোর দিয়ে বলবেন, আমি মোটেই বাড়িয়ে বলছি না কিছু।

প্রসঙ্গত, গতকাল প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্মরণ সভায় প্রধান বিচারপতির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। পাকিস্তানের আদালত কর্তৃক সেদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তের বিষয়টি

অপ্রাসঙ্গিকভাবে আমাদের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা গত রবিবার উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন এক অনুষ্ঠানে। যা শুনে প্রধানমন্ত্রীসহ বিবেকবান স্বাধীনচেতা ব্যক্তিমাত্রেই মর্মাহত হয়েছেন।
তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী জনতার কাছে বিচার চাইতেই পারেন। তিনি তাই করেছেন।

কিন্তু এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২২ আগস্ট (মঙ্গলবার) প্রধান বিচারপতি অন্যান্য বিচারপতিদেরকে তার দপ্তরে ডেকে প্রধানমন্ত্রীর আগেরদিনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মতামত জিজ্ঞাসা করেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, সেখানে যাওয়া অনেকেই বিষয়টি আদালতের বিরুদ্ধে নয় বরং তাদের কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বলে মত দেন। অবশ্য এর সঙ্গে কয়েকজন দ্বিমতও পোষণ করেন।

এছাড়াও আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ানো উচিৎ কি না তাও তিনি জানতে চান সবার কাছে। বিচারপতিদের অনেকেই বিষয়টি বিচারাধীন বলে এড়িয়ে যান, অনেকেই অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন, প্রধান বিচারপতির এহেন ‘রাজনৈতিক কায়দার’ঘোঁট পাকানো আচরণে স্পষ্টত কেউ কেউ ছিলেন ব্রিবতও। ফলে তারা একপর্যায়ে সবাই তার কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।
খুবই সরল সিধা একটি প্রশ্ন এখানে এসে যায়- তিনি কি আসলেই এমন করতে পারেন? একজন প্রধান বিচারপতি হয়ে? এটা কি কোনো বিচারকি বেঞ্চ ছিল নাকি যেখানে বিভিন্নজনের মতামত যাচাই করে রায় দেওয়া হয়? নাকি আমাদের উচ্চ আদালত কোনো ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন, কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস বা কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন? যেখানে কোনো একটি বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভোটের এমন ক্যানভাসিং আচরণ চলে? তার নিজের ওই ‘ওমর খৈয়ামি’মতের পক্ষে সমর্থন টানার চেষ্টা কি কোনো সভ্য আইনি সমাজ সমর্থন করে? কোন শক্তি তাকে এসবে চালিত করছে?

এর সমান্তরালে, একইদিন আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালে অপ্রাসঙ্গিকভাবে আসামি পক্ষের আইনবিদ ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন- Supreme court is now under attack. রোকনউদ্দিন এরপর বলেন, এমনকি প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে শোনা যাচ্ছে, সুতরাং রায় প্রদানের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিটা যেন বিবেচনায় নেয়া হয়, যে বিষয়ে আদালতকে অনুরোধ করছি।

এটা কি প্রধান বিচারপতির হারিয়ে ফেলা নৈতিক অবস্থানকে ঠেকা দিয়ে, ঠেস দিয়ে ফের কোনোমতে দাঁড় করিয়ে রাখার কূটচাল নয়? আপন বিষে জর্জরিত কারও নিজের শিরা কেটে বাঁচতে চাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা নয়! রোকনউদ্দিনকে শেষে উকিল ধরলেন এই ‘রাজনীতিজ্ঞ’ প্রধান বিচারপতি!

দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতির এহেন বেএক্তিয়ার আচরণে প্রাসঙ্গিকভাবে জনমনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, তার অধীনে আমাদের বিচার বিভাগ আসলেই কতটুকু স্বাধীন? প্রধান বিচারপতির এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ যে আচরণ, তার পেছনের যে শক্তি- তার উৎস কী?

অনেকেই হয়তো ভাবছেন, ইতোমধ্যেই যথেষ্ট জল ঘোলা করার পরও এমন ঘটনা কি সত্যিই ঘটিয়েছেন তিনি! এক্ষেত্রে সূত্রের নিশ্চয়তা দিয়ে জোর গলায় বলতে পারি- যদি এমন না ঘটে থাকে তাহলে সর্বশ্রদ্ধাভাজন প্রধান বিচারপতি তার প্রমাণ দিন!

এই প্রমাণ কি তিনি দেবেন? নাকি তার সেই পেয়ারে মূলক যার বিচার বিভাগের রেফারেন্স তিনি টেনেছেন, সেই পাকিস্তানের উর্দু ভাষার একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রবাদের মতোই তিনিও ভাবেন, কানুন জাননেওয়ালোকো কানুন কেয়া কারেগা? অর্থাৎ আইন জাননেওয়ালাদের (আইনবিশারদদের) বিরুদ্ধে আইন কী করতে পারে?

আসলেও কি তাই?

তার উত্তরের আশায় রয়েছে সমগ্র বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ।

অভিমত - বিভাগের আরও সংবাদ