[…]প্রধান বিচারপতি কি জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন! […]প্রধান বিচারপতি কি জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন!

প্রধান বিচারপতি কি জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ২৩, ২০১৭ , ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: প্রতিবেদন

বিশেষ প্রতিবেদন: সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল মৌলবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রবল আপত্তির মুখে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি এই নিয়োগকে স্বাগত জানায়। পরস্পরবিরোধী আদর্শের দু্টি শক্তির সমর্থনের মেরুকরণ ঘটতে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন সময় থেকে।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সাথে বৈঠক, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সহানুভূতিশীল মন্তব্য ইত্যাদি কারণে এসকে সিনহা ক্রমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিরাগভাজন হতে শুরু করে। সর্বশেষ পাকিস্তানের অনুকরণে ১৯৭৭ সালে প্রচলন করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখতে জাতীয় সংসদে প্রণীত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষণা, রায়ের পর্যবেক্ষণে অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক মন্তব্য, ভুল তথ্য উল্লেখ ও রায়ের অসম্পূর্ণতার কারণে জনমনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হতে থাকে। গত ১৯ আগস্ট আদালতে একটি মামলার শুনানীকালে নওয়াজ শরীফকে বহিষ্কারের দৃষ্টান্ত দিয়ে পাকিস্তানের সাথে তুলনা করায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের সাথে তুলনা করার প্রতিবাদ জানিয়ে জনগণের কাছে বিচার চেয়েছেন।

ইতোপূর্বে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মূলত আ’লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও ছাত্রলীগসহ কয়েকটি সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের ইস্যুতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে পদত্যাগ করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। গতকাল দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট বারের সামনে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এসময় পাকিস্তানের সাথে তুলনা দেয়ায় প্রধান বিচারপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেন নেতারা।।

এদিকে, আজ বুধবার বিকেল ৪.৩০ মিনিটে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে কালো পতাকা মিছিল ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভা আহবান করা হয়েছে।

একুশে টিভির অঞ্জন রায় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সকলকে প্রতিবাদে সমাবেত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। একই আহবান জানিয়েছেন অন্যান্য সাংবাদিক, শিল্পি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা।


 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে আমাদের অপমান করবেন না।
শিগগিরই বাংলাদেশ চীনের বিকল্প হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন কারও কারও মুখে পাকিস্তানের নাম শুনি, কিন্তু তারা জানে না, পাকিস্তান এক ব্যর্থ রাষ্ট্র। পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে আমাদের অপমান করবেন না।

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণের সমালোচনা করে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৯৪৮ সালের পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনও দিন পূর্ব পাকিস্তান উচ্চারণ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি পূর্ব বাংলা অথবা বাংলা অথবা বাংলাদেশ বলেছেন।

বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা বলে, বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ হয়নি, তারা মূর্খ ছাড়া আর কিছই নয়। কারণ, ওই সময় আওয়ামী লীগে অনেক কর্মী ছিল, কিন্তু নেতা ছিলেন একজনই; তিনি বঙ্গবন্ধু, অবিসংবাদিত নেতা।’

ডা: সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায় ছিল, আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন ঘটানোর ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনার দৃঢ়তা এবং বিচক্ষণতায় এই ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে।

তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় সংসদ, সংসদ সদস্য সম্পর্কে মন্তব্য গুলো পরিকল্পিত, দুরভিসন্ধিমূলক এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এই রায়ের উদ্দেশ্য ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা ছিল না। এই রায় গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর কালিমা লেপনের এক চক্রান্ত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

 

অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রশ্ন রেখেছেন পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্র উদাহরন হতে পারে কিনা!

 

 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন প্রধান বিচারপতি মানুষের গালাগাল আর সমালোচনা শুনে বাকি জীবন কাটাবেন কিনা তা নিয়ে।

 

লেখক ও কলামিস্ট মাসুদা ভাট্টি ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
 

 

প্রীতি ওয়ারেসা লিখেছেন, শেষমেশ আসল কথাটা জনাবের মুখ দিয়ে বেরই হয়ে গেল!
 
সর্বত্রই এখন আলোচিত হচ্ছে প্রধান বিচারপতির কর্মকাণ্ড। তাঁর মেয়াদ রয়েছে আর পাঁচ মাস। তিনি নিজেই তাঁর অবস্থান ও ভবিষ্যত চূড়ান্ত করবেন।