আগস্ট ট্র্যাজেডির সঙ্গে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর প্রাসঙ্গিকতা

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ২৯, ২০১৭ , ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: অভিমত

আবদুল লতিফ সিকদার: রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধুকে একজন একনায়ক হয়ে ওঠার জন্য সমালোচনা করা হলেও পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকরা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার শুধু অক্ষুণ্নই রাখেননি, সত্তুর দশকের বাকি সময় এবং পুরো আশির দশকজুড়ে রাজনৈতিক দলহীন, সংসদবিহীন বিরাজমান এক ধরণের শূন্যতার মাঝে শাসন, শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জবাবদিহিবিহীন ও ভারসাম্যহীন স্বৈরশাসনের স্টিমরোলার চালাতে থাকে। সমগ্র সময়টা ছিল নৈশকালীন কারফিউ আচ্ছাদিত তমসাচ্ছন্ন দুঃসময়ের কাল।
পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট যখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংস ও নিষ্ঠুর নির্মমতায় হত্যা করা হয় তখন বিদেশি গণমাধ্যমে সেটাকে সেনা অভ্যুত্থান বলে প্রচার করা হলেও আসলে সেটা যে ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তির চক্রান্তের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের ডানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানপ্রেমীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ এবং কতিপয় চাকরিচ্যুত ও অন্যান্য কারণে হতাশাগ্রস্ত (disgruntled) সেনা সদস্যের সম্মিলিত ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বর্বর ঘটনা এটা আজ আর কারও অজানা নয়। এ হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার গভীর চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা না গেলেও স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আলোকিত বাংলাদেশকে দ্বিজাতি তত্ত্বের পরিত্যক্ত আদর্শের পথে নিয়ে গিয়ে এক তমসাচ্ছন্ন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। প্রতিকারহীন ও প্রতিবাদহীন সেই দুঃসময়ের যুগে এ হত্যাকা-কে জায়েজ করার হীন উদ্দেশ্যে চক্রান্তকারী স্বার্থান্বেষী মহল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে সব অমূলক অপপ্রচার চালিয়েছিল তার মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছিল সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর বিষয়টি। বলা হয়েছিল যে, চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা শেখ মুজিব (‘বঙ্গবন্ধু’ অভিধাটি তখন থেকে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল) সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে ‘বাকশাল’ নামক একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থায় একজন একনায়কে পরিণত হয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালের পঁচিশে জানুয়ারী জাতীয় সংসদের নয়-দশমাংশরও বেশি সংসদ সদস্যদের ভোটে আইনানুগভাবে পাসকৃত সংবিধান চতুর্থ সংশোধনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং বিধানাবলী বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অপপ্রচারের আসল স্বরূপ উদঘাটিত হবে। চতুর্থ সংশোধনীকে বঙ্গবন্ধু ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। কারণ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় পরিচালিত দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পরিণতিতে সংঘটিত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি রাষ্ট্র বিপ্লব, বাংলাদেশের প্রথম বিপ্লব। দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে বঙ্গবন্ধু ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ঘোষিত চারটি মূলনীতির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা অধরাই থেকে যায়। কেননা, পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অধীন এ দুটি মূলনীতি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাই দ্বিতীয় বিপ্লবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই ছিল অন্যান্য অনেক গণমুখী কর্মসূচির সঙ্গে মূলত সমাজতান্ত্রিক ও অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রধান বিষয়টি ছিল ‘বাকশাল’ নামক একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন। অথচ সংবিধানে নতুন সন্নিবেশিত ‘ষষ্ঠ-ক’ ভাগ এর অধীন ‘জাতীয় দল’ শিরোনামে যে রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা অর্পণ করা হয় তা কোন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে সংযোজিত ছিল না। আসলে এটা ছিল একটি সর্বদলীয় রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠনের ব্যবস্থা। এ সম্পর্কিত সংবিধানের ১১৭-ক অনুচ্ছেদে বিধৃত ছিল যে, সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহের কোন একটা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি আদেশ দ্বারা রাষ্ট্রে শুধু একটি রাজনৈতিক দল (‘জাতীয় দল’ নামে অভিহিত) গঠন করতে পারবেন, যার ফলে রাষ্ট্রের সব রাজনৈতিক দল ভেঙে যাবে। তা ছাড়া জাতীয় দলের নামকরণ, কর্মসূচি, সদস্য ফি, ভুক্তিসহ রাজনৈতিক দল গঠন সম্পর্কিত সব বিষয় রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার বিধান ছিল। সংবিধানের এইরূপ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু কর্তৃক আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-মোজাফফর) সমন্বয়ে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামক রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। এসব দলের সদস্যগণ সমষ্টিগতভাবে ‘বাকশালে’ যোগদান করেন। রাজনৈতিক দলসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও সব দলের সদস্যদের জন্য বাকশালের দ্বার উন্মুক্ত ছিল। ফলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বাকশালে যোগদান করেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাকশালে যোগদানের বিধান থাকার ফলে অনেক সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বাকশালে যোগ দিতে দেখা যায়। কাজেই এটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত যে ‘বাকশাল’ গঠন করে বঙ্গবন্ধু একদলীয় শাসন ব্যবস্থা নয়, একটি রাজনৈতিক প্লাটফরমের অধীন এক ধরনের সর্বদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। এটা প্রমাণিত সত্য যে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের অভিযোগটি ছিল স্রেফ গুজবনির্ভর ভিত্তিহীন অপপ্রচার। এরপর যখন সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় চতুর্থ সংশোধনীতে ‘জাতীয় দল’ গঠনের সাংবিধানিক বিধানটি সামরিক ফরমান জারির মাধ্যমে বাতিল করা হলো তখন থেকে দেশে আর কোন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব রইল না। তারপর দীর্ঘ কয়েক বছর সময় ধরে সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকল এবং দেশের মানুষ সব মৌলিক অধিকারহীন নাগরিক হয়ে গেলেন।

সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের যে ডাক দিয়েছিলেন তার মর্মকথা ছিল বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূূল পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বৈপ্লবিক সংস্কার। এ লক্ষ্যে তিনি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন। সংবিধানে নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কিত চতুর্থ ভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনপূর্বক বিধান করা হয় যে বাংলাদেশে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি থাকবেন, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন উপরাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং রাষ্টপতিকে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার ও পরামর্শদানের জন্য একটি মন্ত্রিপরিষদ থাকবে, যে পরিষদে রাষ্ট্রপতি একজন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। সংবিধানের উক্ত সংশোধিত বিধানমতে জাতীয় সংসদ কর্তৃক বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধুকে একজন একনায়ক হয়ে ওঠার জন্য সমালোচনা করা হলেও পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকরা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার শুধু অক্ষুণ্ণই রাখেননি, সত্তুর দশকের বাকি সময় এবং পুরো আশির দশকজুড়ে রাজনৈতিক দলহীন, সংসদবিহীন বিরাজমান এক ধরণের শূন্যতার মাঝে শাসন, শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জবাবদিহিবিহীন ও ভারসাম্যহীন স্বৈরশাসনের স্টিমরোলার চালাতে থাকে। সমগ্র সময়টা ছিল নৈশকালীন কারফিউ আচ্ছাদিত তমসাচ্ছন্ন দুঃসময়ের কাল।

চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লবের অন্যতম লক্ষ্য ছিল গণমুখী শাসন প্রবর্তনের জন্য দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। বিকেন্দ্রীকৃত এ নতুন ব্যবস্থায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ৬০টি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরপূর্বক জেলার শাসন ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত একজন জেলা গভর্নরের নেতৃত্বে একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করা হয়। নিয়োগকৃত জেলা গভর্নররা ১ জুলাই থেকে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা শুরু করলেও সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণের কোন সুযোগই পাননি। কার্যত দ্বিতীয় বিপ্লবের ঘোষিত শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার গণমুখী প্রশাসনিক সংস্কারের এ কর্মসূচি সামরিক স্বৈরশাসকদের চরম অপছন্দের বিষয় ছিল।

দ্বিতীয় বিপ্লবের আর একটি কর্মসূচি ছিল গ্রামীণ কৃষি ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক কাঠামোয় সামাজিক সম্পর্কের বৈপ্লবিক বিবর্তন ঘটানো। পঞ্চাশের দশক থেকে গণচীনের গ্রামীণ সমাজে প্রবর্তিত ‘People’s Commune’ এর আদলে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল বলে মনে হয়। কারণ, পঞ্চাশের দশকে ছাত্রজীবনে বরিশালের ‘হেলাল-ই-পাকিস্তান’ নামক সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশের জন্য এর বামপন্থি সম্পাদক আজাদ সুলতানের অনুরোধে ‘A Village Moves to Socialism’ পুস্তিকাটি ‘সমাজতন্ত্রের পথে একটি গ্রাম’ নামে অনুবাদ করতে গিয়ে গণচীনের গ্রামীন অর্থনীতিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে ’People’s Commune’ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হতে দেখেছিলাম তার সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে বঙ্গবন্ধুর সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বণ্টন কর্মসূচির বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় গণচীনের স্থপতি মাও জেদং (Mao Zedong) কর্তৃক পঞ্চাশের দশকে প্রবর্তিত ’’People’s Commune” চীনের গ্রামীণ জীবন যখন আশির দশকের মধ্যে শহর জীবনে (township) উন্নীত হয়ে সে দেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থানের সোপান নির্মাণ করে তখন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রবর্তিত সমবায়ভিত্তিক অনুরূপ গ্রামীণ উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা একইভাবে এদেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দিতে সক্ষম হতো। কিন্তু এই গণমুখী বৈপ্লবিক কর্মসূচি অগণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়াশীল পশ্চাদমুখী পাকিস্তানপ্রেমী স্বৈরশাসকদের চরম অপছন্দের বিষয় হিসেবে পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং সেই সোনালি সম্ভাবনার অকাল মৃত্যু ঘটে। তেজগাঁওয়ে অবস্থিত পুরাতন সংসদ ভবন নামে পরিচিত যে ঐতিহাসিক ভবনটিতে বাংলাদেশ গণপরিষদ কর্তৃক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান প্রণীত ও গৃহীত হয় সেই ভবনটি দখলে নিয়ে প্রধান সামরিক শাসকের কার্যালয়ে রূপান্তর কেন্দ্রীভূত একক স্বৈরশাসনের প্রতীকে পরিণত হয়।

একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পঁচাত্তরের আগস্ট ট্র্যাজেডির রক্তাক্ত পথে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরশাসকরা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বিপ্লবের পরিবর্তে তাদের ‘প্রিয় দেশবাসী’কে একটি পশ্চাদগামী পাকিস্তানপন্থি প্রতিবিপ্লব উপহার দিয়েছিল। এবং তারপর থেকে বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান সামরিক ফরমানের বুটের তলায় নিষ্পিষ্ট হতে থাকে।

[লেখক : সাবেক সদস্য, পিএসসি]