[…]বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্খার বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়া […]বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্খার বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়া

বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্খার বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়া

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ২৯, ২০১৭ , ১০:১০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: এডিটরস' পিক

ড. আতিউর রহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির জনক। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য জীবনভর লড়াই করে গেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ যখন তার নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ঘাতকেরা তাকে সপরিবারে হত্যা করে। নির্মম এ হত্যাকা-ের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের জন্য অবকাঠামো, বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছিলেন। এক বছরের মধ্যে আমাদের জন্য একটি সংবিধান রচনা করলেন। আমাদের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পাস করে তা বাস্তবায়নও শুরু করে দিয়েছিলেন। নদী-বন্দর, রেলপথ, সড়ক যোগাযোগ প্রায় সমস্ত কিছু আগের মতো চালু করতে পেরেছিলেন। পুরো পৃথিবীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন এমন দেশগুলোর স্বীকৃতিও তিনি আদায় করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ইঞ্জিনটা শুধুমাত্র রেললাইনে রেখে চালু করেছিলেন, কিন্তু ডেসটিনেশনে পৌঁছানোর আগেই হঠকারীরা তাকে শারীরিকভাবে হত্যা করল।

যে চেতনা বা ভাবনা নিয়ে দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মধ্যদিয়ে সেই চেতনারও মৃত্যু ঘটল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল, তারা মূলত পাকিস্তানি শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিল। তাদের আদর্শটা যদি আমরা দেখি তাহলে দেখবÑ অসাম্প্রদায়িক ও গরিবমুখী বাংলাদেশ ভাবনার একেবারে বিপরীত পাকিস্তানি শক্তির প্রতিনিধি তারা। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। অর্থাৎ যে ট্রেনটা যাওয়ার কথা ছিল পশ্চিম দিকে তারা সেটা উত্তর দিকে চালু করে দিলেন। যে রকম বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম সেটা বাধাগ্রস্ত হলো। তবে সেখান থেকে বাংলাদেশকে আবারও মূল জায়গায় নিয়ে আসলাম। কীভাবে এটা সম্ভব হলো? এমনি এমনি তা সম্ভব হয়েছে? না কিন্তু। তার জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিলেন। ’৯৬ সালে দীর্ঘ একুশ বছর পর রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা সেই কাজগুলো আবারও শুরু করলেন। জাতির জনককে হত্যার পর অপশক্তিগুলো অনেক হৃষ্ট-পুষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করতে পারেননি, তবে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছিলেন। বিচার হলেও তা কার্যকর করে যেতে পারেননি। অনেক সংস্কার তিনি শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। ২০০১ সালের পর যদি তিনি আরেকটি টার্ম রাষ্ট্রপরিচালনা করতে পারতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তার চেতনার বাংলাদেশকে তিনি অনেক দূর নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু মাঝখানে একটা ছন্দপতন ঘটল। ২০০৯ সালে আবারও তিনি এদেশের রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পেলেন জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে। ক্ষমতায় এসে তিনি আবারও অসমাপ্ত কাজগুলো শুরু করেছেন। শুরু করলেও তা বাস্তবায়ন এত সহজ ছিল না তার জন্য। কারণ শত্রু তো এখনো রয়েই গেছে। তারা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বসে আছে। এখন হয়তো রং বদলাচ্ছে।

বাংলাদেশ অনেকদিকে সফল এই অর্থে যে, দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে। সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষের জীবনের আয়ু বেড়েছে। যেগুলো বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সামনে এখনো সীমাহীন চ্যালেঞ্জ। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা চেষ্টা করে যাচ্ছেন সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। যারা বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না তারা কিন্তু বসে নেই। বিভিন্ন রূপ ধারণা করে চেষ্টা করছে কোনোভাবে তাকে অস্বস্তিতে ফেলা যায় কিনা। আমাদের এখন চেষ্টা করে যেতে হবে যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যেন একটা স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারেন।

আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছেÑ বঙ্গবন্ধু যে রকম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তা গড়ার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। যারাই এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর, স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে গেলে যে ধরনের অবকাঠামো দরকার, অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়নে যেন কেউ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। সময়মতো যেন উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে প্রচুর গলদ রয়ে গেছে, তা দূর করতে হবে। যে রকম শিক্ষাব্যবস্থা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তা দাঁড় করাতে হবে। যে রকম চেহারা দিতে চেয়েছিলেন সমাজ ও গণতন্ত্রকে সে রকম একটা সমাজ যাতে আমরা তৈরি করতে পারি সেজন্য সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই বঙ্গবন্ধুকন্যাকে এগোতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র যোগসূত্র বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের। এই যোগসূত্র রক্ষা করতে হলে তার হাতকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দিয়েই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ কারণেই সম্ভব যে, বঙ্গবন্ধু কি চেয়েছিলেন তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন। কারণ অন্য যে কারোর চেয়েই তিনি বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সুতরাং শেখ হাসিনাকে আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যে যেখানেই থাকি না কেন, সেখান থেকেই সমর্থনটা দিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে তাকে সমর্থন দিই তাহলে তিনি বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন। সেই সামর্থ্য ও সাহস তার রয়েছে।

পরিচিতি: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক