বিএনপির দৃষ্টিতে ঘটনা ও দুর্ঘটনা

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অগাস্ট ৩১, ২০১৭ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: অভিমত

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী: ‘২১ আগস্ট নিছক দুর্ঘটনা’—এমন বক্তব্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। গত ২১ আগস্ট একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংবাদে ড. মোশাররফ হোসেন ও আবদুল্লাহ আল নোমানের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। ২১ আগস্ট সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান টিভি সাংবাদিক জানতে চাইলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখেই বললেন, এটি একটি দুর্ঘটনা মাত্র। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই, পৃথিবীর অনেক দেশেই এমনটি ঘটে থাকে। তা ছাড়া এটি বেশ আগের দুর্ঘটনা। তিনি সাংবাদিকের প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের আর কোনো উত্তর দিতে চাইলেন না। তবে ড. মোশাররফের মুখ থেকে এমন কথা যাঁরা শুনেছেন তাঁরা কতখানি হতবাক হয়েছেন জানি না। কেননা ওই দিনই ২১ আগস্টের ভয়াবহ দৃশ্যসংবলিত ফুটেজ টিভি চ্যানেলগুলোয় দেখানো হচ্ছিল, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের নানা দিক মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছিল। এসব হত্যাকাণ্ড যেকোনো দুর্ঘটনার বিষয় ছিল না, বরং পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ছিল—যার প্রধান লক্ষ্য ছিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের শেষ করে দেওয়া, সেটি অনেক আগেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। ১২টি আর্জেস গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে স্থান ত্যাগ করতে পেরেছিল, শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যা করতে না পেরে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল, তাতে তাঁর দেহরক্ষী অকুস্থলেই প্রাণ ত্যাগ করেন। দৈবক্রমে এবারও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

এমন হত্যাকাণ্ডকে যিনি ‘দুর্ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দিতে চান, তিনি কোনো স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কি না সেটি নিয়েই প্রশ্ন জাগে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ড. মোশাররফ হোসেন দুর্ঘটনার সাধারণ সংজ্ঞা এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের পার্থক্যকে কেন অস্বীকার করতে চাইলেন? অবশ্যই এটি তাঁর দলের রাজনীতি, সেটিই তিনি করেছেন। তিনি বলতে চাইলেন দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। তিনি ভালো করতেন যদি দুর্ঘটনার একটি অভিনব সংজ্ঞাও তিনি জাতিকে বা বিশ্বসমাজকে জানিয়ে উপহার দিতেন। কেননা তিনি তো বলেছেন এ ধরনের দুর্ঘটনা পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও নাকি ঘটে, ঘটেছে। এ ক্ষেত্রেও তিনি খুবই ভালো করতেন যদি সে ধরনের কিছু দুর্ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরতেন। তিনি আরো যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, অনেক আগের কোনো বিষয় নিয়ে পড়ে থাকার সময় এখন নেই, তিনি এবং তাঁর দল অতীত নিয়ে পড়ে থাকার দল নয়। সেই প্রসঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছি না। আপাতত তিনি যা বলেছেন, টিভি সংবাদে আমরা যতটুকু শুনতে পেরেছি, তাতে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, একসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত নেতাও ছিলেন। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপিই করেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ, প্রভাবশালী ও নীতিনির্ধারণী নেতাদের অন্যতম একজনও তিনি। বিএনপির মতো এত বড় দলের এমন একজন নীতিনির্ধারক যখন ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করেন তখন এটিকে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মতামত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তা ছাড়া তিনি কথাটি বলেছেন ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বর্ষপালনের দিন, যখন বর্বরতার সেই সব ফুটেজ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিত হচ্ছে, প্রিন্ট মিডিয়ায় দৃশ্যসহ ছাপা হয়েছে, যখন জাতির একটি বড় অংশই এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যে ঘৃণা প্রকাশ করছে, যখন দেশব্যাপী আরেকটি শোকাবহ ১৫ আগস্টের আবহ বিরাজ করছে, তখন বিএনপির কোনো নীতিনির্ধারক যদি এটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন, তাহলে বুঝতে হবে সেই দলের মানসিকতা ও ভাবাদর্শের মধ্যেই মৌলিক কতগুলো সমস্যা রয়েছে, যার নিরসন না হলে দেশ কোনো দিনই হত্যা, ক্যু ও বর্বরতামুক্ত হওয়ার নয়। দেশে গণতন্ত্র দূরে থাক, মানুষের ন্যূনতম সম্মান ও বাঁচার অধিকারও এই পক্ষ দ্বারা স্বীকৃত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

অনিচ্ছাকৃত ও আকস্মিকভাবে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনায় যখন কেউ হতাহত হয়, ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, সেটাকেই সাধারণত দুর্ঘটনা বলা হয়। একজন গাড়িচালকের ভুলে পুরো যানটিই দুর্ঘটনাকবলিত হতে পারে, একজন পথচারীর অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারলে অনেক দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষাও পাওয়া যায়। সাধারণত ঘটনা ও দুর্ঘটনার এসব ধারণার কথা আমাদের সবারই জানা আছে। কিন্তু ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট কি সে রকম কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল? কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কি বাংলাদেশে মনে করে যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যেসব আর্জেস গ্রেনেড সন্ত্রাসবিরোধী আওয়ামী লীগের সমাবেশে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, সেগুলো দুর্ঘটনার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে কোনোভাবে মেলানো সম্ভব? বরং এমন একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে তা ২১ আগস্ট কার্যকর করা হয়েছিল—যেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, অবহিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু জঙ্গি এবং তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশ্বস্ত কিছু সন্ত্রাসীও যুক্ত হয়েছিল। সেই অপারেশন সফল করতে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনীর বিশেষ অংশকে ব্যবহার করা হয়েছিল, নিক্ষেপ করার জন্যই এসব গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছিল, যা তখন একটি বাংলাদেশবিরোধী রাষ্ট্র থেকে গোপনে সরবরাহ করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে রাতেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা ছিল, আলামত ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা হলো, আহত-নিহতদের উদ্ধারে কোনোভাবে সহযোগিতা তো করাই হলো না, বরং বাধাও প্রদান করা হলো, অনুগত বিচারপতি দিয়ে তদন্ত করা হলো, যিনি পুরো হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রতিবেশী ভারত জড়িত বলে হাস্যকর, বালখিল্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গ্রেনেড বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার হাতব্যাগে নাকি লুকিয়ে রাখা ছিল—এমন আজগুবি বক্তব্যও তখন সরকারের শীর্ষ পদ থেকে, এমনকি সংসদেও দেওয়া হয়েছিল। অথচ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার লক্ষ্য পূর্বনির্ধারিত ছিল। সে জন্যই আর্জেস গ্রেনেড বিদেশ থেকে আনা, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নিয়োগ করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। নির্দয় ব্যাপার হলো, ঢাকা মেডিক্যাল এবং তৎকালীন পিজি হাসপাতালে কর্মরত জামায়াত-বিএনপির ডাক্তাররা আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছিলেন। এমন মনোবৃত্তি শুধু রাজনৈতিকই নয়, পৈশাচিক মানসিকতা লালনকারীদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। আওয়ামীবিরোধিতা যুক্তিহীন, আদর্শহীন ও মানবতা বিবর্জিতভাবে কোনো দলের ওপর থেকে তলা পর্যন্ত যখন লালিত-পালিত হয়ে থাকে, নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মানস গঠনে যখন প্রচারিত হয়ে থাকে তখনই কেবল ডাক্তারি পেশায় কর্মরত ডাক্তার আওয়ামী লীগের সমাবেশে নিহত-আহতদের মানুষ-রোগী মনে না করে শত্রু হিসেবে ভেবে চিকিৎসা প্রদান থেকে নিজেদের দলবদ্ধভাবে উহ্য রাখতে পারেন। ঢাকা মেডিক্যাল বা পিজি হাসপাতালের ডাক্তাররা কি আগে থেকেই জানতেন যে ওই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে এমন একটি হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হবে, সেখানে যাঁরা মৃত্যুবরণ করবেন, তাঁদের সঙ্গে মৃত্যুর মিছিলটি আরো বড় করতে চিকিৎসা সেবাদান না করে হত্যাকারীদের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করবেন। এ ধরনের আরো অসংখ্য অমানবিক ঘটনা তখন ঘটেছিল, যেগুলোর পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে যে কেউ নিশ্চিত হতে পারেন যে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যা ঘটেছিল তা ছিল সম্পূর্ণরূপে পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড; যার সঙ্গে দল, রাষ্ট্র, সরকার ও সমর্থকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ বা সমর্থন ছিল। এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজজীবনের সব কিছু থেকে নিশ্চিহ্ন করার মানসিকতা কার্যকর ছিল। নিজেদের সম্পৃক্ততা ঢাকতে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়েছিল।

রাজনীতিতে ২১ আগস্টকেন্দ্রিক ঘটনার পূর্বাপর এতটাই হিংস্র, নির্দয়, নিষ্ঠুর ও বিবেকহীনদের নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়, যাদের হাতে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রতিষ্ঠানের কোনো কিছুই নিরাপদ হতে পারে না, আধুনিক বিবেকসম্পন্ন হওয়া তো বেশ দূরের কথা। বরং পলপটের কম্বোডিয়া কিংবা অনুরূপ মানসিক বিকারগ্রস্ত শক্তির হাতে নিঃশেষিত হওয়ারই ধারণা দিয়ে থাকে। এখন ড. মোশাররফ হোসেন সেই ২১ আগস্টকে কোনোভাবেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হিসেবে দেখছেন না, নিতান্ত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। বলা শ্রেয় হতে পারে, ২১ আগস্ট সেই সময় কোনো বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ডও ছিল না, বরং ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে একের পর এক আওয়ামী নেতাকর্মীকে হত্যা করার পরিচালিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ছিল। ২১ আগস্ট ছিল দলীয় প্রধানকে হত্যার চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারিত। তাতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদেরও মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়টিকে ‘আওয়ামী নিধনের’ পর্ব হিসেবেও অভিহিত করা হচ্ছিল। সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার ঘটনাবলি, বিচারক হত্যাসহ যা কিছু হচ্ছিল, তা ছিল প্রতিপক্ষ সব শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে রাষ্ট্রক্ষমতায় জোট সরকার, তাদের সমর্থকদের জীবন-জীবিকা একচ্ছত্র ও নিরাপদ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা—যা একেবারেই উদ্ভট।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমন একটি হত্যাকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা বলছেন। ধৃষ্টতা বটে! ওই হত্যাকাণ্ডই শুধু নয়, সেই পাঁচ বছরের শাসনকালে যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেগুলোর পেছনে যারা সরাসরি জড়িত ছিল কিংবা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি হয়ে যারা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে চায় তাদের দিয়ে শেষ বিচারে কোনো সভ্য রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করা যায়? উত্তরে বলব, না, কোনো মতেই নয়, বরং তাতে একটা বর্বর সমাজের দিকেই চলে যাওয়ার শক্তি বৃদ্ধি করা হবে। অথচ বিএনপি ২১ আগস্ট এলেই নীরব হয়ে থাকে, এত বছর সেভাবেই ছিল। এখন তাতে নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন ড. মোশাররফ হোসেন। তিনি ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন অর্থাৎ এর চরিত্রকে তিনি অস্বীকার করছেন, লঘু করে দেখাতে চাচ্ছেন। তাঁর এই বার্তা তাঁর দলের নেতাকর্মীরা সেভাবেই এখন থেকে নিতে থাকবে—যেভাবে ১৫ আগস্টকে বিএনপি তাদের দলের চেয়ারপারসনের একটি জন্মদিন বানিয়ে ১৯৯৬ সাল থেকে পালনের ধারা শুরু করেছে। ২০০১-২০০৬ সালে সাড়ম্বরে তারা ১৫ আগস্টকে দলের চেয়ারপারসনের জন্মদিন হিসেবেই পালন করেছিল, বাতিল করা হয়েছিল জাতীয় শোক দিবসের ধারণাই। এর মাধ্যমে যে ধারণাটি বিএনপি স্পষ্ট করছে, তা হলো ১৫ আগস্ট কিংবা ২১ আগস্ট বিএনপির কাছে ভিন্নভাবেই গুরুত্ব বহন করে, এগুলোর দুঃখজনক স্মৃতি বিএনপিকে কাঁদায় না, স্পর্শ করে না, ভাবায় না, বিএনপি এ সব কিছুকে নিছক বা দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখতে চায়, এর বেশি কিছু হোক তা তারা চায় না। কারণ তাহলে তাদের রাজনীতির অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। জাতীয় এমন শোকাবহ ঘটনায় যাদের রাজনীতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অস্তিত্বের হুমকিকে দেখা হয়, বিবেচনা করা হয়, সেই রাজনীতি দেশ ও জাতির কল্যাণে, নাকি অকল্যাণে ভূমিকা রাখছে বা রাখবে সেটি খুঁজে বের করা হলেই অনেক সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়