[…]সিনহার এ্যাকাউন্টে দুই পে অর্ডারেই জমা ৪ কোটি টাকা। আয়কর রিটার্নে অসঙ্গতি! […]সিনহার এ্যাকাউন্টে দুই পে অর্ডারেই জমা ৪ কোটি টাকা। আয়কর রিটার্নে অসঙ্গতি!

সিনহার এ্যাকাউন্টে দুই পে অর্ডারেই জমা ৪ কোটি টাকা। আয়কর রিটার্নে অসঙ্গতি!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭ , ১০:২০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: এডিটরস' পিক

আরাফাত মুন্না ॥ সোনালী ব্যাংক সুপ্রীমকোর্ট শাখায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। গত আড়াই বছরে এই এ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। বেতন ছাড়াও লাখ ও কোটির হিসাবে টাকা জমা হয়েছে ২৬ বার। এর মধ্যে গত বছর ৯ নবেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা জমা হয় প্রধান বিচারপতির এ্যাকাউন্টে। এর আগে ৮ নবেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে মোঃ শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার ঋণ এ্যাকাউন্ট থেকে এই চার কোটি টাকার পে-অর্ডার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে ইস্যু করা হয়।

জানা গেছে, মোঃ শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ৬ নবেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় দুটি ঋণ এ্যাকাউন্ট খোলা হয়। দুটি এ্যাকাউন্টের তথ্য ফর্মেই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে লেখা রয়েছে প্রধান বিচারপতির উত্তরার বাড়ির ঠিকানা (সেক্টর ১০, সড়ক নম্বর ১২, বাড়ি নম্বর ৫১)। দুই জনেরই স্থায়ী ঠিকানা প্রধান বিচারপতির সাবেক পিএস রঞ্জিতের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি এলাকায়। রঞ্জিত বর্তমানে সিঙ্গাপুর প্রবাসী। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে তিনি প্রধান বিচারপতির উত্তরার বাড়িতেই থাকতেন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ জনকণ্ঠের হাতে রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বেসরকারী টেলিভিশন (একাত্তর) এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রচার করে।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আয়কর রিটার্ন ও স্থাবর সম্পত্তিতে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়যায়। গত বছরের নবেম্বরে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে ভাইয়ের নামে বরাদ্দ রাজউকের প্লটের ওপর নির্মিত বাড়ি নিজের নামে দেখিয়েছেন তিনি। আবার নিজের নামে বরাদ্দ প্লট আয়কর রিটার্নে দেখাননি। প্রধান বিচারপতির ভাইয়ের প্লটের আকার ও আয়াতনও বদল হয়েছে। উত্তরায় ওয়াসার পানির পাম্পের ভেতরে দেয়াল তুলে ওই প্লটটি তৈরি করে রাজউক। আইনজ্ঞরা মনে করেন, সম্পদের সঠিক বিবরণ দাখিল না করলে দুর্নীতি দমন আইনের ২৬ ও ২৭ ধারার আওতায় অপরাধ ছাড়াও আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় বিচার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতিকে টাকা প্রদানকারী একজন মোঃ শাহজাহান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ৯৩১২৫৪৭৪৩১২০৩)। তার পিতার নাম আমির হোসেন (মৃত)। ঋণ আবেদনে নিজের পেশা হিসেবে চাকরি ও ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার টিআইএন উল্লেখ নেই আবেদনে। গত বছরের ৬ নবেম্বর ঋণ এ্যাকাউন্ট (এ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৩৫০০১৫৭২৮৬) খোলার পর ৮ নবেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে দুই কোটি টাকার পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে পে-অর্ডার ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ (পে-অর্ডার নম্বর-০০৯২০৪৭)। পে-অর্ডারের পর এই এ্যাকাউন্টে আর কোন লেনদেনও হয়নি।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতিকে টাকা দেয়া আরেকজন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ১৯৭৬৯৩১২৫৪৭০০০০০১)। পিতার নাম গোলক চন্দ্র সাহা। নিরঞ্জনের পেশা উল্লেখ নেই ব্যাংকের তথ্য ফর্মে। উল্লেখ নেই টিআইএনও। গত বছরের ৬ নবেম্বর ঋণ এ্যাকাউন্ট (এ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৩৫০০১৫৭২২৪) খোলার পর তিনিও ৮ নবেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে দুই কোটি টাকার পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পে-অর্ডার ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ (পে-অর্ডার নম্বর-০০৯২০৪৬)। মোঃ শাহজাহানের মতোই নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার এ্যাকাউন্টেও পে-অর্ডারের পর আর কোন লেনদেন নেই।

সোনালী ব্যাংক সুপ্রীমকোর্ট শাখায় থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টেও এসব তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। গত বছরের ৯ নবেম্বর এই হিসাবে জমা হয় মোঃ শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র শাহার পাঠানো পে-অর্ডারে চার কোটি টাকা। আর এসব টাকার বিষয়ে কোন তথ্যও নেই প্রধান বিচারপতির দাখিল করা আয়কর রিটার্নে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রীমকোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জনকণ্ঠকে বলেন, এই ধরনের দুই ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা লোন দেয়া অবিশ্বাস্য। আবার এর একদিন পরেই সেই চার কোটি টাকা প্রধান বিচারপতির বেতন এ্যাকাউন্টে জমা করার পেছনেও কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ছেলে জয় আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলা আপীল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। এ অবস্থায় ফারমার্স ব্যাংক থেকে এমন দ্রুতগতিতে দুই ব্যক্তিকে লোন প্রদান ও সেই টাকা প্রধান বিচারপতির এ্যাকাউন্টে আসার পেছনে কোন যোগসূত্র আছে কি-না, তা সঠিকভাবে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। এছাড়া এসব টাকা প্রধান বিচারপতি আয়কর রিটার্নে না দেখিয়ে থাকলে, সম্পদের সঠিক বিবরণ দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন আইনের ২৬ ও ২৭ ধারার আওতায় অপরাধ ছাড়াও আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় বিচার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

আরাফাত মুন্না ॥ সোনালী ব্যাংক সুপ্রীমকোর্ট শাখায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। গত আড়াই বছরে এই এ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। বেতন ছাড়াও লাখ ও কোটির হিসাবে টাকা জমা হয়েছে ২৬ বার। এর মধ্যে গত বছর ৯ নবেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা জমা হয় প্রধান বিচারপতির এ্যাকাউন্টে। এর আগে ৮ নবেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে মোঃ শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার ঋণ এ্যাকাউন্ট থেকে এই চার কোটি টাকার পে-অর্ডার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে ইস্যু করা হয়।

জানা গেছে, মোঃ শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ৬ নবেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় দুটি ঋণ এ্যাকাউন্ট খোলা হয়। দুটি এ্যাকাউন্টের তথ্য ফর্মেই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে লেখা রয়েছে প্রধান বিচারপতির উত্তরার বাড়ির ঠিকানা (সেক্টর ১০, সড়ক নম্বর ১২, বাড়ি নম্বর ৫১)। দুই জনেরই স্থায়ী ঠিকানা প্রধান বিচারপতির সাবেক পিএস রঞ্জিতের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি এলাকায়। রঞ্জিত বর্তমানে সিঙ্গাপুর প্রবাসী। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে তিনি প্রধান বিচারপতির উত্তরার বাড়িতেই থাকতেন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ জনকণ্ঠের হাতে রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বেসরকারী টেলিভিশন (একাত্তর) এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রচার করে।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আয়কর রিটার্ন ও স্থাবর সম্পত্তিতে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়যায়। গত বছরের নবেম্বরে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে ভাইয়ের নামে বরাদ্দ রাজউকের প্লটের ওপর নির্মিত বাড়ি নিজের নামে দেখিয়েছেন তিনি। আবার নিজের নামে বরাদ্দ প্লট আয়কর রিটার্নে দেখাননি। প্রধান বিচারপতির ভাইয়ের প্লটের আকার ও আয়াতনও বদল হয়েছে। উত্তরায় ওয়াসার পানির পাম্পের ভেতরে দেয়াল তুলে ওই প্লটটি তৈরি করে রাজউক। আইনজ্ঞরা মনে করেন, সম্পদের সঠিক বিবরণ দাখিল না করলে দুর্নীতি দমন আইনের ২৬ ও ২৭ ধারার আওতায় অপরাধ ছাড়াও আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় বিচার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতিকে টাকা প্রদানকারী একজন মোঃ শাহজাহান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ৯৩১২৫৪৭৪৩১২০৩)। তার পিতার নাম আমির হোসেন (মৃত)। ঋণ আবেদনে নিজের পেশা হিসেবে চাকরি ও ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার টিআইএন উল্লেখ নেই আবেদনে। গত বছরের ৬ নবেম্বর ঋণ এ্যাকাউন্ট (এ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৩৫০০১৫৭২৮৬) খোলার পর ৮ নবেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে দুই কোটি টাকার পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে পে-অর্ডার ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ (পে-অর্ডার নম্বর-০০৯২০৪৭)। পে-অর্ডারের পর এই এ্যাকাউন্টে আর কোন লেনদেনও হয়নি।

সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতিকে টাকা দেয়া আরেকজন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ১৯৭৬৯৩১২৫৪৭০০০০০১)। পিতার নাম গোলক চন্দ্র সাহা। নিরঞ্জনের পেশা উল্লেখ নেই ব্যাংকের তথ্য ফর্মে। উল্লেখ নেই টিআইএনও। গত বছরের ৬ নবেম্বর ঋণ এ্যাকাউন্ট (এ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৩৫০০১৫৭২২৪) খোলার পর তিনিও ৮ নবেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে দুই কোটি টাকার পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পে-অর্ডার ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ (পে-অর্ডার নম্বর-০০৯২০৪৬)। মোঃ শাহজাহানের মতোই নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার এ্যাকাউন্টেও পে-অর্ডারের পর আর কোন লেনদেন নেই।

সোনালী ব্যাংক সুপ্রীমকোর্ট শাখায় থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টেও এসব তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। গত বছরের ৯ নবেম্বর এই হিসাবে জমা হয় মোঃ শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র শাহার পাঠানো পে-অর্ডারে চার কোটি টাকা। আর এসব টাকার বিষয়ে কোন তথ্যও নেই প্রধান বিচারপতির দাখিল করা আয়কর রিটার্নে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রীমকোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জনকণ্ঠকে বলেন, এই ধরনের দুই ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা লোন দেয়া অবিশ্বাস্য। আবার এর একদিন পরেই সেই চার কোটি টাকা প্রধান বিচারপতির বেতন এ্যাকাউন্টে জমা করার পেছনেও কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ছেলে জয় আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলা আপীল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। এ অবস্থায় ফারমার্স ব্যাংক থেকে এমন দ্রুতগতিতে দুই ব্যক্তিকে লোন প্রদান ও সেই টাকা প্রধান বিচারপতির এ্যাকাউন্টে আসার পেছনে কোন যোগসূত্র আছে কি-না, তা সঠিকভাবে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। এছাড়া এসব টাকা প্রধান বিচারপতি আয়কর রিটার্নে না দেখিয়ে থাকলে, সম্পদের সঠিক বিবরণ দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন আইনের ২৬ ও ২৭ ধারার আওতায় অপরাধ ছাড়াও আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় বিচার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ