১২শ’ কোটি টাকা পাচার করেছে জিয়া পরিবার

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ , ২:৩৪ অপরাহ্ন
বিভাগ: এডিটরস' পিক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়া পরিবার দুবাইসহ ১২টি দেশে ১২শ’ কোটি টাকা পাচার করেছে। এ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তে রিপোর্টের সত্যতা প্রমাণিত হলে, যারা দেশের জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে।’

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তদন্ত করে যখনই আমরা সঠিক তথ্য পাব কোথায় কীভাবে অর্থ রয়েছে, নিশ্চয় আমরা ফেরত আনার পদক্ষেপ নেব। ইতোমধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তদন্ত চলার স্বার্থে হয়তো সব আমি বলতে পারলাম না। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রশ্নকারী ফখরুল ইমাম জিআইএনের রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, জিআইএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু দুবাই নয়, অন্ততপক্ষে ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ রয়েছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার দুই’শ কোটি টাকা। সৌদি আরবে আল আরাবা শপিংমল রয়েছে, এর মালিকানা বেগম জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ইকরার মালিকও উনি এবং তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান। তা ছাড়া খালেদা জিয়ার ভাতিজা তুহিনের নামে কানাডায় তিনটি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ সিঙ্গাপুরের হোটেল মেরেনডি’র ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্টেন্ডফোর্ড ও অলগেটিতে দুটি এপার্টমেন্ট রয়েছে। আরেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নামেও এপার্টমেন্ট আছে। বিএনপি আমলের মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী’র নামে দুবাইতে আছে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরেও মির্জা আব্বাস ও তাঁর সন্তানদের নামে রয়েছে দুটি এপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামেও সিঙ্গাপুরে রয়েছে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উল্লিখিত তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে তখন নিশ্চয় আমাদের কাছে আছে এবং এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানিলন্ডারিং আইনেও তদন্ত করা হচ্ছে। এই তদন্তের মধ্য দিয়ে সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করায় জাতীয় পার্টির এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘সংসদে তথ্যটি তুলে ধরার জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা সরকার থেকে তুলে ধরলে বহু লোক আছে, তারা মায়াকান্না শুরু করত, বলত আমরা হিংসাত্মক হয়ে এটা করি। বিরোধী দল থেকে যেহেতু এটা এসেছে, নিশ্চয়ই মানুষ এটা উপলব্ধি করতে পারবে-জনগণের সম্পদ কিভাবে লুট করেছে। যার কারণে তাদের আমলে বাংলাদেশ পাঁচ-পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোনো উন্নতি করতে পারেনি। আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, একথা তো সকলেই জানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একদিকে মানুষ হত্যা-খুন করেছে। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। একদিকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, অপরদিকে ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি, অর্থ পাচার করা এ ধরনের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে এবং এটা সকলেই জানে। এজন্য খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি। বোধহয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম কারো পাচার করা টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি কর্মকাণ্ড বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। ফলে ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তত্পরতায় ব্যবহূত হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে বেশকিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, কোনো বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তত্পরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, আদান-প্রদান, চলাচল ও স্থানান্তর একই সঙ্গে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত আছে।

সংরক্ষিত আসনের এমপি আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।’