[…]৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের […]৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ , ৯:১০ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: টেকসই উন্নয়ন

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার প্রাক্কলিত ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নাও হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, রফতানি, বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাওয়া, সঞ্চয় দুর্বলতা, সুশাসনের অভাব ও সংস্কারহীনতায় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হবে না।

গতকাল আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ওই প্রতিবেদনেই জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস দেয় সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থাটির ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু কর্মসংস্থানের গতি কমে গেছে। বিনিয়োগ, রফতানি ও রেমিট্যান্সপ্রবাহে দুর্বলতা রয়েছে। সংস্কারের অগ্রগতিতেও স্থবিরতা। আবার জিডিপিতে কৃষির অবদান কমছে। প্রবৃদ্ধির সুফল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি না। পোশাক শিল্পেও কর্মসংস্থান কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে কর্মসংস্থান কমায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নারীরা। জিডিপির অনুপাতে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়েনি। আবার নির্বাচনের আগের বছর হওয়ায় চলতি অর্থবছর বড় ধরনের সংস্কারের সম্ভাবনাও কম। সবমিলে প্রবৃদ্ধি পূর্বানুমানের চেয়ে কম হতে পারে।

প্রায় এক দশক ধরে ৬ শতাংশের ঘরে আটকে থাকার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ওই অর্থবছর দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয় ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। যদিও প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্য অর্জিত হবে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির এ প্রাক্কলন একমাত্র ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে এটা খুবই ভালো প্রবৃদ্ধি। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্প ও সেবা খাতের প্রতি দৃষ্টি বাড়াতে হবে। ভারতে এবার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন দেয়া হয়েছিল, সেটাও হয়তো থাকবে না। চলতি অর্থবছর চীন ৬ দশমিক ৩, ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ৩, থাইল্যান্ড ৩ দশমিক ৩, পাকিস্তান ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সেবা ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণেই বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

কর্মসংস্থানে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ ঢাকায় বসবাস করে। মোট শিল্প কর্মসংস্থানের ৪৫ শতাংশ ও সেবা খাতের ৩৭ শতাংশ রাজধানীতে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের অভাবের কারণে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান করা ঢাকার বাইরে কঠিন। সরকার যেসব সংস্কার করছে, তার গতি ধীর। বড় সংস্কার পিছিয়ে গেছে।

গুণগত কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকার কথা জানিয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলাই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ। কারণ বিনিয়োগকারীরা যে ধরনের জনশক্তি চাচ্ছে, সে ধরনের জনশক্তি গড়ে উঠছে না। মাথাপিছু বেতন সে হারে বাড়েনি। আর শ্রমিকদের বিদেশগামিতার প্রবণতা বাড়লেও রেমিট্যান্সপ্রবাহ সে হারে বাড়েনি। নানা কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে প্রবাসীরা অর্থ প্রেরণের আগ্রহ হারিয়েছে। ফলে বৈধ চ্যানেলে টাকা না এলেও অবৈধ চ্যানেলে আসতে পারে। রফতানিতে বহুমুখিতার এখনো বড় ধরনের অভাব রয়েছে।

সম্প্রতি চাল সংকট নিয়েও পর্যবেক্ষণ জানায় বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, সরকারের নীতি সিদ্ধান্তহীনতায় চালের বাজারে অস্থিরতা এসেছে। আমদানি শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে দেরি করা, উত্পাদন কমে যাওয়া, সংগ্রহ কার্যক্রম গতিহীনতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই মূলত চালের বাজারের এ অস্থিরতা। সার্বিকভাবে সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা কমে যায়। ফলে চালের দাম বৃদ্ধিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আগামীতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৬ শতাংশের বেশি হতে পারে।

চালের দাম বাড়াতে গুজব ও ব্যবসায়ীদের কারসাজি কিছুটা দায়ী জানিয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, হঠাত্ করেই ভারত চাল রফতানি বন্ধ করবে বলে গুজব ছড়ায়। এর একদিনের মাথায় চালের দাম কেজিতে ৬-৭ টাকা বেড়ে যায়। আবার ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামও তাদের চালের দাম বৃদ্ধি করে।

টেকসই উন্নয়ন - বিভাগের আরও সংবাদ