নতুন পাঁচ খাতে রফতানি সহায়তা ঘোষণা

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ , ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: বাণিজ্য বার্তা

রফতানি বাণিজ্যকে উত্সাহিত করতে আগে থেকেই ২২টি খাতে রফতানিসহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। এবার এ তালিকায় আরো পাঁচটি খাত যুক্ত হলো। এর মধ্যে ওষুধের কাঁচামালে ২০ শতাংশ, আইসিটি খাতের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও পাদুকা রফতানিতে ১৫ শতাংশ করে নগদসহায়তার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোট ২৭টি খাতে রফতানিসহায়তার এ ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যার রফতানিতে ১০ শতাংশ, সিনথেটিক ও ফ্যাব্রিকসের মিশ্রণে তৈরি পাদুকা রফতানিতে ১৫ শতাংশ, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) রফতানিতে ২০ শতাংশ, অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি রফতানি ১৫ শতাংশ ও নারকেলের ছোবড়া রফতানিতে ২০ শতাংশ হারে নগদসহায়তা দেয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকে রফতানিসহায়তাপ্রাপ্ত পণ্যের মধ্যে গরু-মহিষের নাড়ি, ভুঁড়ি, শিং ও রগ রফতানির বিপরীতে ১০ শতাংশ, শস্য ও শাকসবজির বীজ রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ ও পাটকাঠি থেকে উত্পাদিত কার্বন রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষিপণ্য (শাকসবজি ও ফলমূল) ও প্রক্রিয়াজাত (অ্যাগ্রোপ্রসেসিং) কৃষিপণ্য রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ, হালকা প্রকৌশল পণ্যে ১৫ শতাংশ, শতভাগ হালাল মাংসে ২০ শতাংশ ও

জাহাজ রফতানিতে ১০ শতাংশ, পেট বোতল-ফ্লেক্স রফতানিতে ১০ শতাংশ, ফার্নিচারে ১৫ শতাংশ ও প্লাস্টিক দ্রব্য রফতানিতে ১০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়া হবে।

এছাড়া পাটজাত দ্রব্যাদির মধ্যে বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্য রফতানিতে ২০ শতাংশ হারে, পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য (হেসিয়ান, স্যাকিং ও সিবিসি) রফতানিতে ১০ শতাংশ এবং পাট সুতা (ইয়ার্ন ও টোয়াইন) রফতানিতে ৫ শতাংশ হারে নগদ ভর্তুকি দেয়া হবে। চামড়াজাত দ্রব্যাদি রফতানিতে নগদসহায়তা দেয়া হবে ১৫ শতাংশ হারে। এছাড়া সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রফতানিতে ভর্তুকি দেয়া হবে ১০ শতাংশ হারে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদসহায়তা দেয়া হবে ৪ শতাংশ। এছাড়া বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা (প্রচলিত নিয়মের) ৪ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ৪ শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা ২ শতাংশ, নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণে ৩ শতাংশ, হোগলা, খড় ও আখের ছোবড়া দিয়ে তৈরি পণ্য রফতানিতে নগদ ১৫ শতাংশ সহায়তা দেয়া হবে। আলু রফতানি খাতে নগদসহায়তা দেয়া হবে ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে, বরফের আচ্ছাদনের হারের প্রকারভেদে হিমায়িত চিংড়িতে ৭ থেকে ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছ রফতানিতে ২ থেকে ৫ শতাংশ নগদসহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া দেশে উত্পাদিত কাগজ ও কাগজজাতীয় পণ্য রফতানির বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে এবং আগর ও আতর রফতানিতে ২০ শতাংশ হারে নগদসহায়তা দেয়া হবে।

এসব পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া ব্যতীত (এফওবি) নিট মূল্যের ওপর ভর্তুকি দেয়া হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পণ্য উত্পাদনের কোনো পর্যায়ে ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা নেয়া যাবে না। এছাড়া এ-জাতীয় পণ্য রফতানির বিপরীতে শুল্ক বন্ড সুবিধা পেয়ে থাকলে ও ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।

প্রজ্ঞাপনে দুটি সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়, হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানির বিপরীতে রফতানি ভতুর্কির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের অধিক মূল্য সংযোজনের পরিবর্তে ৪০ শতাংশের অধিক মূল্য সংযোজনের শর্ত প্রযোজ্য হবে। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানির বিপরীতে সিলিং সীমা হবে চামড়াজাত ব্যাগের ক্ষেত্রে ৪৫ মার্কিন ডলার, বুট ও জুতার ক্ষেত্রে ৩৫ ডলার, স্যান্ডেলে ২০ ডলার, মানিব্যাগে ৩০ ডলার, ভ্যানিটি ব্যাগে ৩৫ ডলার এবং বেল্টের ক্ষেত্রে ২৫ ডলার। প্রসঙ্গত, রফতানি উত্সাহিত করতে বেশ আগে থেকেই বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার।