[…]পরিত্যক্ত জলাভূমিতে ভাসমান সবজি চাষ […]পরিত্যক্ত জলাভূমিতে ভাসমান সবজি চাষ

পরিত্যক্ত জলাভূমিতে ভাসমান সবজি চাষ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ২, ২০১৭ , ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সারাদেশ

বিভিন্ন পরিত্যক্ত খাল, ডোবা ও নালায় ভাসমান সবজি আবাদ করে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএপিটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার ডিএমখালী ও আর্শীনগর ইউনিয়নে ৬০টি ভাসমান বেডে মসলা এবং সবজি আবাদ করে তারা এ সাফল্য পায়। ফলে এ পদ্ধতিতে সবজি আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ভেদরগঞ্জে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার নিম্নাঞ্চল বছরের প্রায় ৬ মাস নিমজ্জিত থাকায় শুধুমাত্র ধানের উপরই নির্ভরশীল থাকতে হয় কৃষককে। ফলে কৃষক মৌসুমী ফসল আবাদ করে তেমন একটা লাভবান হতে পারে না। তাই বছরব্যাপী কৃষকের আয় বাড়াতে এনএটিপি প্রকল্প এ বছর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে ভাসমান বেডে সবজি আবাদ শুরু করে। এ প্রকল্পের আওতায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালী ইউনিয়নের তারেক বকাউল, মনসুর আহমেদ ও রিনা বেগম এবং আর্শিনগর ইউনিয়নের সোহেল সরকার সর্বমোট ৬০টি ভাসমান বেডে শাক সবজিসহ লাউ উৎপাদন করছে।
ডিএমখালীর কৃষক তারেক বকাউল বলেন, আমরা আগে জানতামই না যে এ সব পরিত্যক্ত জায়গায় কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি আবাদ ও চারা উৎপাদন করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ১৫টি বেডে সবজি আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে দুই দফা আগাম সবজি বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছি। প্রতি কেজি লালশাক ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আমার দেখাদেখি এলকার অনেক কৃষকই এখন ভাসমান বেডে সবজি আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মুহম্মদ শাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষককে শুধুমাত্র ধানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। ফলে তারা তেমন একটা অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করতে পারতো না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএটিপি প্রকল্পটি কৃষকদের বাড়তি আয়ের কথা চিন্তা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আমরা আশা করছি, উপজেলার বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা এখন ভাসমান বেডে সবজি আবাদ ও চারা উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।