[…]কোপা শামছুসহ পাঁচ প্রতারক গ্রেফতার: কোটি টাকা আত্মসাত […]কোপা শামছুসহ পাঁচ প্রতারক গ্রেফতার: কোটি টাকা আত্মসাত

কোপা শামছুসহ পাঁচ প্রতারক গ্রেফতার: কোটি টাকা আত্মসাত

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ২, ২০১৭ , ২:১৯ অপরাহ্ন
বিভাগ: অপরাধ বার্তা

লোভনীয় চাকরি ও ব্যবসায় অংশীদারত্বের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোপা শামছুসহ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতাররা হলেন- শামছুল আলম মজুমদার ওরফে কোপা শামছু, হারুন অর রশিদ), সনজ সাহা ওরফে উজ্জ্বল চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিন ও মোকসেদুর রহমান আকন। তাদের কাছ থেকে একটি ব্রিফকেস, ১০ টাকার নোটের দুটি বান্ডিল, এক ডলার নোটের দুটি বান্ডিল ও সাতটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার পল্লবীর ১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, শনিবার পর্যন্ত এ চক্রের হাতে ১২ জন প্রতারিত হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ১২ জনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। প্রতারণার শিকারের তালিকায় অবসরপ্রাপ্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়েছেন। এ চক্রের কাছে একজন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব খুইয়েছেন এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা। মধ্যবাড্ডার বাসিন্দা সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ খানের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সাত লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতারক চক্রের সদস্যরা ছদ্মনাম ব্যবহার করত। চক্রের প্রধান হারুন অর রশিদের ছদ্মনাম রামনাথ ঠাকুর। সাত বছর ধরে তারা এ প্রতারণা করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিবিআইর অতিরিক্ত ডিআইজি মাইনুল হাসান (পূর্ব), পিবিআই ঢাকা মহানগরের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদ, মিনা মাহমুদা ও সালাহ উদ্দিন। এ সময় পাঁচজনকে সেখানে হাজির করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি মাইনুল হাসান (পূর্ব) বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রথমে জাতীয় দৈনিকে চাকরি ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিত। বিজ্ঞাপনে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হতো। বিজ্ঞাপন দেখে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বেছে নিত তারা। বিদেশি সংস্থা বা প্রকল্পে বেশি টাকা বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সাজানো অফিসে নিয়ে নিয়োগপত্র না দিয়েই চাকরিতে নিয়োগ, পদবি ও বেতন নির্ধারণ করা হতো। পরিকল্পনা অনুযায়ী চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে তাদের এক সহযোগীকে ভারতীয় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। চাকরিপ্রার্থীর সামনে কথিত ভারতীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাস খেলত চক্রের সদস্যরা। পাতানো খেলায় ওই ব্যবসায়ীকে হারিয়ে লাখ লাখ টাকা জিতেছে বলে দেখানো হতো। নিজেদের বড় ব্যবসায়ী প্রমাণ করতে প্রতারক চক্রের সদস্যরা এই পাতানো খেলা খেলত। এভাবে চাকরিপ্রার্থীর বিশ্বস্ততা অর্জন করে তাকে ব্যবসার অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেওয়া হতো। অংশীদারত্বের জন্য ওই ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। তাদের চাহিদামতো টাকা নিয়ে গেলে সেগুলো রেখে পরে দেখা করতে বলে বিদায় জানানো হয়। এরপরই সুযোগমতো কার্যালয় গুটিয়ে লাপাত্তা হয়ে যেত চক্রটি।’