রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনশীলতা আরো বাড়াতে হবে : তোফায়েল আহমেদ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ২, ২০১৭ , ১২:২১ অপরাহ্ন
বিভাগ: বাণিজ্য বার্তা

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশের উৎপাদনশীলতা আরো বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতায় দেশের সক্ষমতা ৭০ ভাগ, এটা নব্বই ভাগ হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরো কাজ করতে হবে।
তোফায়েল বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশ ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে পেপারলেস ট্রেডের সক্ষমতা অর্জন করেছে। সংবাদ বাসস।

তোফায়েল আহমেদ আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গনাইজেশন(এনপিও)’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘ টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এনপিওকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ^বাণিজ্যে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরামের হিসেবে ব্যবসা ক্ষেত্রে বৈশি^ক প্রতিযোগিতা সূচকে ১৩৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সাত ধাপ এগিয়ে ১০৬তম অবস্থান থেকে ৯৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে এমডিজি অর্জন করেছে। এসডিজিও যথা সময়ে সফল ভাবে অর্জন করতে সরকার পরিকল্পিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষজনশক্তি তৈরী করতে টেকনিকেল ট্রেনিং সেন্টার ও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি একসময় কৃষি নির্ভর ছিল বলে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২-’৭৩ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল প্রায় ৭৮ ভাগ, এখন তা হয়েছে ১৫ ভাগ। শিল্পখাতে অবদান ছিল খুবই সামান্য আজ শিল্পখাতের অবদান ৩২ ভাগ।
তিনি বলেন, একসময় আমাদের জাতীয় বাজেট বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভর ছিল ৯০ ভাগ। আজ নিজের অর্থেই বাজেট ঘোষণা করা হয়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকার ও রপ্তানিকারকদের বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরী হিসেবে গড়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস গ্রীণ বিল্ডিং কাউন্সিল প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধানের পর সর্বোচ্চ পয়েন্টের ভিত্তিতে বিশে^র ১০টি তৈরি পোশাক কারখানাকে এনার্জি এন্ড ইনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, এবছর ইউএস গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল যে ১০টি তৈরি পোশাক কারখানাকে এলইইডি সার্টিফিকেট দিয়েছে তারমধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ৭টি। অপ্রত্যাশিতভাবে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে পরিণত হয়েছে। এখন শ্রমিকরা নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। বাংলাদেশ এখন চলমান রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশে^র অনেক উন্নত দেশ বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েই চলছে। গত অর্থ বছর পণ্য ও সেবা রপ্তানি হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে রপ্তানির পরিমান হবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। একান্তই মানবিক কারণে সাময়িক ভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ^বাসীর প্রশংসা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলা হচ্ছে, ‘মানবতার মা’। শুধু বিএনপি সমালোচনা করছে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বিদেশে অবস্থান করছেন, দুঃখী রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াননি।
সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান।