[…]অনলাইনে অর্থ প্রতারণা, গ্রেফতার ২, পলাতক ৭ […]অনলাইনে অর্থ প্রতারণা, গ্রেফতার ২, পলাতক ৭

অনলাইনে অর্থ প্রতারণা, গ্রেফতার ২, পলাতক ৭

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ১২, ২০১৭ , ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: অপরাধ বার্তা

অনলাইনে নামীদামি ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রি, ডলার ক্রয় বিক্রয় ও নানা ধরণের সাইবার প্রতারণার অভিযোগে ডিবির হাতে আটক সুমন খন্দকার রিফাত ও সাজ্জাদ নেওয়াজ খান নামে দুই প্রতারক।
প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এক মাস যাবত তদন্ত করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক অভিযোগের প্রমাণ পায় গোয়েন্দা সংস্থা। আটককৃত রিফাত ও সাজ্জাদ গ্রেফতার হলেও পলাতক রয়েছে শীর্ষ প্রতারক প্রতারক আলিমুল হোসেন কালাম।

জানা গেছে, প্রথমে অনলাইনে নামীদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ছবি সংগ্রহ করেন তারা। এরপর জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইটে দেন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন। যোগাযোগ করা হলে নিজেদের বিদেশ থেকে এসব পণ্যের আমদানিকারক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ক্রেতার কাছ থেকে মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা বিকাশের মাধ্যমে উচ্চমূল্য হাতিয়ে নেন। পরে কুরিয়ার সার্ভিসে তাদের কাছে পাঠান নষ্ট কিংবা নিম্নমানের পণ্য। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসা একটি চক্রের দুই হোতাকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দুজন হলেন—সুমন খন্দকার রিফাত (২২) ও সাজ্জাদ নেওয়াজ খান (৩২)।

বুধবার নগরের ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে সাজ্জাদ নগরীর একটি ছিনতাইকারী চক্রেরও সদস্য বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন সমকালকে জানান, বিক্রয় ডটকম’র মতো জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইটে ‘অনলাইন শপ’ ও ‘২৪ ডটকম’ নামে এই দুই প্রতারকের দুটি আইডি আছে। এসব আইডিতে অরজিনাল ব্র্যান্ডের পণ্যের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয় তারা। ক্রেতাদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিম্নমানের ও নষ্ট পণ্য কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়।

দাঁড়ি ও মাথায় টুপি পরিহিত ছবি, ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্মীয় বাণী ও রোহিঙ্গাদের প্রতি সহায়তার মানবিক আবেদন। ফেক আইডি খুলেছেন “হক পথের অনুসারী”, “ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুন” ইত্যাদি নামে। অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে অভিনব চাতুর্যের পরিচয় দিয়া এই প্রতারকের নাম মো: আলিমুল হোসেন কালাম (https://www.facebook.com/mdalimulhossain.kalam)। বিভিন্ন মর্মস্পর্শী ছবি দিয়ে রোহিঙ্গাদের সাহায্যের নামে ইতিমধ্যে প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করেছে কালাম। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের কষ্টার্যিত অর্থ হাতিয়ে নিতে পেপাল, পেওনিয়ার ইত্যাদি মাধ্যমে ডলার বিনিময়ের নামে প্রতিদিন কয়েক শ ডলার প্রতারণা করে আসছে কালাম, রায়হান, রিফাতসহ অনেকে। শীর্ষ প্রতারক কালাম বিকাশে অর্থ গ্রহণ করে বিকাশের অফিসিয়াল নম্বরে, ফলে ভুক্তভোগিরা তার মোবাইল নম্বর না জানায় অভিযোগ করতে সমস্যার সম্মুখীন হয়। কিছুদিন পূর্বে কালাম এক সাংবাদিকের কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থ প্রেরণের মাধ্যম বিকাশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বিকাশ নম্বর ব্যবহার করলেও প্রতারককে অর্থ পাওয়ার জন্য রেফারেন্স নম্বর ও ট্রান্সেকশন নম্বর প্রয়োজন হয়। উক্ত রেফারেন্স নম্বর ইউনিক মোবাইল নম্বরের সাথে যুক্ত। তাই কেউ প্রতারণা করলে তাকে বের করা যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ প্রতারক চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ঢাকার আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং কামরুল হাসানের কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এ ছাড়া সিলেটের নাসির আহমেদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, রাজধানীর বারিধারার ইউআইটিএসর শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ও সাভারের মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে, আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০ হাজার এবং নওগাঁর মাসুক এলাহীর কাছ থেকে ৩৩ হাজার হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

কালাম, রায়হানসহ কয়েকজন প্রতারক পলাতম রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতারকদের সহসাই গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা।