[…]রংপুরে মঙ্গার অস্তিত্ব নেই: এনজিও […]রংপুরে মঙ্গার অস্তিত্ব নেই: এনজিও

রংপুরে মঙ্গার অস্তিত্ব নেই: এনজিও

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ১২, ২০১৭ , ১২:৫৬ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

রংপুরের নাম এলেই ‘মঙ্গাপীড়িত’ এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হতো রংপুরকে। গত ছয় বছরে সরকারের নানামুখী সহযোগিতা, নিজেদের ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের ফলে মঙ্গাকে জয় করে সে কলঙ্ক মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে রংপুরের মানুষ। জেলার দরিদ্র পরিবারগুলোতে এবার বন্যার পরও ‘কার্তিকের মঙ্গা’ থাবা বসাতে পারেনি। রংপুরে মঙ্গা নেই বলে দাবি করেছে কয়েকটি এনজিও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলায় আগে মঙ্গা দেখা দিত আশ্বিন-কার্তিক মাসে। এ সময় খেতে কাজ থাকত না। ছিল না সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও। ফলে মঙ্গার কবলে পড়ত দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, প্রান্তিক ও বর্গাচাষি। জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, জেলায় কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুরের সংখ্যা ১৫ লাখ ৯ হাজার ৬৯২ জন। এরা পরের জমিতে এবং মজুর খেটে জীবিকা নির্বাহ করে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে এই কৃষিশ্রমিকরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়ত। কৃষিক্ষেত্রে কোনো কাজ না থাকায় তারা অর্ধেক মূল্যে আগাম শ্রম বিক্রির পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে সংসার চালাত। আর খেতের ধান কম দামে আগাম বিক্রি করে দিন কাটাত প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা। গত ছয় বছরে রংপুর অঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক মাসের দারিদ্র্য দূর করার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত ব্রি-৩৩, ব্রি-৬২, ব্রি-৫৬, ব্রি-৫৭ ও বিনা-৭ উদ্ভাবন করে। অন্য জাতের ধান ১৪০ থেকে ১৫০ দিনে কাটা সম্ভব হলেও আগাম জাতের ধান মাত্র ১০৫ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে কাটা যায়। ফলনও হয় একরপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ মন। আগাম জাতের ধান কাটার পর ওই জমিতে আবার আগাম আলু ও সবজি চাষ করলে খরচ অনেক কম পড়ে। স্বল্পমেয়াদি ও অধিক ফলনের কারণে রংপুরের কৃষকরা আগাম জাতের ধান চাষে ঝুঁকে পড়ে। এখন আশ্বিন-কার্তিক মাসজুড়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কারণে কৃষিশ্রমিকদের কাজের সংকট নেই।

রংপুরের নাট্যকর্মী রাজ্জাক মুরাদ বলেন, “রংপুর অঞ্চল থেকে ‘মঙ্গা’ শব্দটি বিদায় নিয়েছে বটে। তবে কিছু সমস্যা রয়েছে। এখন মোক্ষম সময়, তাদের জন্যও কিছু একটা করতে হবে। ’