রংপুরে হামলার নেপথ্যে জামায়াতের পিনাকী ও মোবারক; লক্ষ্য মেয়র নির্বাচন

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:নভেম্বর ১২, ২০১৭ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: জাতীয় সংবাদ

ফেসবুকে বিতর্কিত একটি স্ট্যাটাসের অভিযোগ তুলে রংপুর সদর উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত ঠাকুরপাড়া গ্রামে তাণ্ডব চালানো হয়েছে এবং এতে প্রাণ গেছে একজনের। তবে যার বিরুদ্ধে কথিত এই স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ সেই টিটু রায় ফেসবুক ব্যবহার তো দূরে থাক, কোনও পড়ালেখাই জানে না বলে দাবি করেছে তার পরিবার। অন্যদিকে টিটু রায়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও হামলার মূল হোতা হিসেবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে জামাতের কাফের শাখার ভারপ্রাপ্ত আমীর পিনাকী ভট্টাচার্য, ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন সহ আরও কয়েকজনের নাম। আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
শিবির সাধারণ সম্পাদকের সাথে যৌথ কর্মকাণ্ড
পিনাকী দীর্ঘদিন যাবত ছাত্র শিবির ও ছাত্রী সংস্থার নারী সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অনলাইনে গুজব রটনাকারি হিসেবে ৭৮টি ফেসবুক আইডিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। পিনাকীকে নিয়ে পরিচালিত তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে একটি বাম দল থেকে তাকে বহিস্কারের পর ইবনে সিনাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বড় অংকের সরবরাহ কাজ প্রদান করায় ২০১৫ সালে গোপনে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয় পিনাকী।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে আল্লাহ ও রাসুল (স:) এর নাম বাদ দেয়। এছাড়া জামায়াতে ইতিপূর্বে কোনো অমুসলিম যোগদানের সুযোগ ছিল না। ২০১২ সালে কাফের শাখা গঠন করা হলেও কেউ যোগদান করেনি।

রংপুরের ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, “নিষ্ক্রিয় থেকে ঘটনা ঘটতে দেয়ার কৌশল” হিসেবে উল্লেখ করে পিনাকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছে, “টিটু রায় ফেবুতে যা দিয়েছিল সেটা আমি দেখেছি। উস্কানির মাত্রা ছিল ভয়াবহ।” তার সম্পূর্ণ স্ট্যাটাস ছিল উস্কানিমূলক। এছাড়া কাফের শাখার ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে জামাত, শিবির ও ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের নিয়মিতভাবে তার লেখা পড়া ও প্রচার করার সংগঠনিক নির্দেশ রয়েছে।

আরও জানা গেছে, স্ট্যাটাস দেয়ার পর পিনাকী, শিবির সাধারণ সম্পাদক মোবারক ও বিএনপির অনলাইন শাখার কয়েকজন সদস্যের সাথে ভাইবারে ভিডিও কনফারেন্স করে। সেখান থেকে রংপুরে আল-আমিন হাসান নামে এক শিবির নেতাকে ও শলেয়াশাহ জামে মসজিদের ইমাম সিরাজুল ইসলামকে জনমত সৃষ্টি করে হামলার নির্দেশ দেয়।

টিটু রায় ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে না এমন সংবাদ প্রকাশের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও অনলাইন একটিভিস্টরা পিনাকীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং এটি পরিকল্পিত ঘটনা বলে অভিমত প্রকাশ করেছে। ইতিপূর্বে ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায়ও পিনাকী ও মোবারক যৌথভাবে কাজ করতে বলে দেখা গেছে।

জামাতের কাফের শাখার আমীরের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপপ্রচার, বিকৃত, বিভ্রান্তিকর ও আংশিক তথ্য প্রদানের অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকে। এছাড়া দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, হিন্দু ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিকৃত তথ্য উপস্থাপন, গুহ্যবিদ্যা চর্চাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হয়েছে তা পরবর্তিতেও ঘটানোর অপচেষ্টা চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই দেশের সুশীল ও প্রগতিশীল জনগণ পিনাকীসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি দাবি জানাচ্ছে।