[…]হামলার আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন শিবির নেতা আকায়েদ

হামলার আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন শিবির নেতা আকায়েদ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ , ২:০০ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার
গাফফার খান চৌধুরী ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ের পর এবার আমেরিকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশী আত্মঘাতী জঙ্গীর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। আকায়েদ উল্লাহ নামের ওই আত্মঘাতী জঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের সদস্য। বাংলাদেশে থাকাকালে সে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। আমেরিকায় যাওয়ার পর আকায়েদ চরম উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে আত্মঘাতী জঙ্গী হয়ে ওঠে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে ঢাকার গোয়েন্দারা। আমেরিকায় কাদের মাধ্যমে জঙ্গীবাদে জড়িয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি;
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক আকায়েদ উল্লাহ হামলার আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত সোমবার স্থানীয় সময় সকালে হামলার আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আকায়েদ উল্লাহ, যেখানে তিনি লেখেন, ‘ট্রাম্প তুমি তোমার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ।’

ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ার পর সোমবার সকালে ব্যস্ত সময়ে ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে আকায়েদ উল্লাহ নিজে এবং আরও তিনজন আহত হয়।

মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব অভিযোগ আনে তার মধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান এবং জনসমাগমে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার এবং বোমা হামলার অভিযোগ রয়েছে।

কৌঁসুলিরা বলছেন, ২৭ বছর বয়সী তরুণ আকায়েদ ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন হামলার চেষ্টা চালায়।

২০১১ সালে ফ্যামিলি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্র যান আকায়েদ উল্লাহ। পরে বিয়ে করতে ২০১৬ সালে ঢাকায় আসেন আকায়েদ। সে সময় থেকে তার স্ত্রী ঢাকাতেই বসবাস করছেন। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকায় তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে সোমবার তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে আকায়েদ তার শিশুসন্তানকে দেখতে ঢাকায় এসেছিলেন এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। সে সময় আকায়েদ কাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করেছে বা কাদের সঙ্গে মিশেছে অথবা বাংলাদেশের অন্য কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার কোনোরকম যোগাযোগ আছে কিনা তা জানতে তারা আকায়েদের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।