[…]ভাঙ্গনের মুখে বিএনপি! খালেদার দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের নেপথ্যে তারেক!

ভাঙ্গনের মুখে বিএনপি! খালেদার দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের নেপথ্যে তারেক!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭ , ২:১৪ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

বিদেশের টাকার হিসাব চাচ্ছে শীর্ষ নেতারা

বিশেষ প্রতিবেদন: খালেদা জিয়া, তারেক ও কোকোর নামে বিশ্বের ১২টি দেশে অর্থ সম্পদ এবং সৌদি আরবে জব্দকৃত টাকা নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরই সূত্র ধরে গত শনিবার খালেদা জিয়ার সাথে বিএনপির নীতি নির্ধারকদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিগত আট বছরে নিজেদের টাকা খরচ না করে বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডের নামে টাকা আদায়ের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। 

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারস‌নের গুলশা‌নের রাজ‌নৈ‌তিক কার্যাল‌য়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর্য‌বেক্ষণ, ঢাকা উত্তর সি‌টি কর‌পো‌রেশনে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী নির্ধারণ ও ইসরাই‌লের রাজধানী হি‌সে‌বে ঘো‌ষিত জেরুজালেম ঘোষণার বিষয় নিয়ে আ‌লোচনার কথা থাকলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়া বাকবিতণ্ডার মাঝে বৈঠক শেষ হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের সবচেয়ে বেশি অর্থ সম্পদ গচ্ছিত আছে। এ বছরের জুন মাসে বেগম জিয়া জানতে পারেন যে, কোকোর  মালিকানাধীন একটি কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স হস্তগত করেছে মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম শাহ। এছাড়া কোকোর ব‍্যাংক একাউন্টে কত টাকা ছিল এ সম্পর্কে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য খালেদা ও তারেককে চাপ দিচ্ছিলেন। মুখের কসমেটিক সার্জারির জন্য খালেদা জিয়ার তিন মাস (জুলাইয ১৫-সেপ্টেম্বর ১৭) লন্ডনে অবস্থান করেছেন – বিএনপি ঘনিষ্ঠরা এটিকে কারণ হিসেবে জানলেও, মূল কারণ ছিল বিভিন্ন দেশে থাকা অর্থ সম্পদ আয়ত্ত্বে এনে বিলিবন্টন করা। কিন্তু সৌদি আরবের ব‍্যাংকে টাকা জব্দ হওয়া সহ অন্যান্য সম্পদ নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হলে ভেঙ্গে পড়েন খালেদা জিয়া।

কোকোর স্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোসাদ্দেক আলী ফালু অভিযোগ করেছেন যে তারেক রহমানই সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষকে অল্প কিছু সম্পদের সন্ধান দিয়ে খালেদা জিয়া ও কোকোর বড় অংকের অর্থ সম্পদ আত্মসাত করছে। মিডল ইস্টে বিনিয়োগ থাকার কারণে ফালু জানতে পেরেছেন যে, সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ব‍্যাংকের টাকা জব্দ হলেও আলাওয়াল ব্যাংক ও ব্যাংক আল বিলাদে রক্ষিত অর্থের সন্ধান সৌদি সরকার এখনও পায়নি। এছাড়া পাক ডিফেন্স সহ পাকিস্তানের কয়েকটি মিডিয়ায় তারেকের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া ও কোকোর দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর রহস্য আরো ঘনীভূত হয়েছে, কারণ পাকিস্তানের মিডিয়াতে তারেকের প্রভাব রয়েছে। এছাড়া তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করলেও বিশেষ কিছু সংবাদ মাধ্যমে তারেকের নাম না এসে খালেদা জিয়া ও কোকোর নাম আসায় এবং বিএনপির প্রচার বিভাগ ও বেশিরভাগ নেতা এসব সংবাদের বিপরীতে নীরবতা পালন করায়, ঘটনার নেপথ্যে তারেকই কলকাঠি নাড়ছেন বলে সন্দেহ ক্রমেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। বড় অংকের টাকা আত্মসাত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের কাছে কোকোর অর্থের তথ‍্য তারেক রহমানই দিয়েছে কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের আহুত বৈঠকে বিপুল অংকের টাকা থাকার পরেও দলীয় কর্মকাণ্ড, প্রচার প্রচারণা ও আন্দোলন খাতে দলের নেতা ও ব‍্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া নিয়ে কৈফিয়ত তলব করেন শীর্ষ নেতারা।

মওদুদ আহমেদ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ম‍্যাডাম, আপনি ছাড়া আর কোন নেতার নির্দেশ না মানার কথা উল্লেখ করে তারেক আমাদের বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক ও অযোগ্য নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের আয় রোজগার নাই। তারেক যেহেতু এ দলের দেশনায়ক তাই সব কর্মসূচি ও আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের খরচ তাকেই দেওয়া উচিত।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের উচিত প্রমাণ নেই এমন কোন অভিযোগ না তোলা। এসব নিয়ে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের অনেকে আপত্তি করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভিত্তিহীন তথ্য ও বিএনপি কর্তৃক প্রচারিত গুজবকে ভিত্তি করে বক্তব্য দেয়ায় অনেকে তারেকের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে – এমন মন্তব্য করলে মির্জা ফখরুলকে ধমক দেন খালেদা জিয়া।

এ সময় অপর এক নেতা তারেককে ঈঙ্গিত করে বলেন, “বিদেশে বসে বছরে একবার বড় বড় কথা বলা যায়। মাঠে থাকি আমরা, কিন্তু দুধের সর খায় মাছিরা।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। কিছু সময় পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাকে বৈঠকে ডেকে আনলেও দলীয় মহাসচিবের জন্য চেয়ারপারসনের পাশের নির্ধারিত আসনটিতে স্থান পাননি।

কেন্দ্রীয় নেতারা এ জাতীয় বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা শুরু করলে খালেদা জিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কয়েকজন কর্মি কক্ষে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। বিএনপি নেতাদের সরকারের দালাল বলে অভিহিত করলে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বিএনপি নেতারা “এভাবে দল টিকবে না”, “এভাবে দল চলতে পারে না” ইত‍্যাদি মন্তব্য করে গুলশান কার্যালয় ত‍্যাগ করেন।

বৈঠকের পরই খালেদা জিয়াকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয় বলে জানা যায়।

জানা গেছে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুদ্ধিজীবী দিবসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতে মওদুদ ও খন্দকার মোশাররফ সহ স্থায়ী কমিটির অনেকেই উপস্থিত হননি। ধারণা করা হচ্ছে বিএনপির এ ধারাটি কৌশলে খালেদা ও তারেককে বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ



নির্বাচন বার্তা