[…]পিনাকি ভট্টাচার্য্যের হাস্যকর মাফলার নাটক : ইমতিয়াজ মাহমুদ

পিনাকি ভট্টাচার্য্যের হাস্যকর মাফলার নাটক : ইমতিয়াজ মাহমুদ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জানুয়ারী ৫, ২০১৮ , ৮:৪৫ অপরাহ্ন
বিভাগ: অভিমত

অনলাইন ডেস্কঃ

(১)
পিনোকিও সেদিন থরথর করে কাঁপছিল। জিজ্ঞাসা করলাম, “কিরে পিনা, কি হয়েছে?”

– আর বলিস না দোস্ত, আমার উপর হামলা হয়েছে
– তোর উপর? হামলা?
– না, ঠিক হামলা না, হামলার চেষ্টা
– কিভাবে? কবে?
– ঐ যে গতকাল রাতে উত্তরা থেকে ফিরছিলাম
– ও! কোথায় হামলা হলো?
– ঐ যে আর্মি স্টেডিয়ামের ওখানে
– কারা হামলা করেছে?
– চিনতে পারিনাই। ট্র্যাক স্যুট পরা একদল গাঁট্টা গোট্টা লোক
– তোকে মেরেছে?
– না
– তোকে ধমক দিয়েছে?
– না
– তাইলে কি করে বুঝলি?
– আরে আমাকে মারতে না চাইলে এতোগুলি লোক একসাথে কি করছিল?
– ও, আচ্ছা।

দুশ্চিন্তায় আমার ফিক ফিকে হাসি বেরিয়ে আসে আর পিনোকিওর নাক এক ইঞ্চি বেড়ে যায়।

(২)
কয়দিন পরের ঘটনা। আবার পিনোকিওর উপর হামলা

– কোথায় ঘটলো?
– প্রগতি সারণীর ওখানে
– কারা? কে ওরা?
– একদল শক্ত সমর্থ লোক কাঁধে মুখে গামছা প্যাঁচানো
– কোথায়?
– প্রগতি সারণীর ওখানে কোদাল খন্তা হাতুড়ি আরও কি কি সব নিয়ে বসে ছিল
– ও। তোকে মেরেছে?
– না
– তোকে বকেছে?
– না
– তোকে ধমক দিয়েছে?
– আরে না
– তাইলে?
– আমাকে মারতেই এসেছিল, আমি পালিয়ে বেঁচেছি।

পিনোকিওর জন্যে আমার দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। আর পিনোকিওর নির্লজ্জ কাঠের নাক বেড়ে যায় আরও এক ইঞ্চি

(৩)
দৌড়ে দৌড়ে আমার অফিসে ঢুকে পড়েছে পিনোকিও।

– কিরে পিনা, আবার কি হয়েছে?
– আমাকে একদল মাদ্রাসার ছেলে আক্রমণ করেছে
– কোথায় কোথায়? কি বলিস? ভয়ংকর কথা
– ঐ যে আম্বরশাহ মসজিদের পাশে
– মসজিদের পাশে?
– হ্যাঁ, মাদ্রাসার হোস্টেলটার পাশে
– তোকে গালি দিয়েছে?
– না
– তোকে ধমক দিয়েছে?
– না
– তোকে মেরেছে?
– আরে না, আমি তো ওদের দেখেই পালিয়েছি
– তাইলে কি করে বুঝলি?
– আরে আমি লেখালেখি করি, মিথ্যা কথা বলি, আমাকে…

না। পিনোকিওকে নিয়ে আমার উদ্বেগ আর গেলো না। এদিকে ওর ময়লা মাখানো নোংরা নাকের দৈর্ঘ্য বেড়েই যাচ্ছে

(৪)
গত পরশু নাকি পিনোকিওকে আবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এইবারের হামলাকারীরা এলোমেলো লম্বা চুল দাড়িওয়ালা কিছু উদ্ভ্রান্ত ধরনের যুবক, ওরা দাঁড়িয়ে ছিল জটলা করে চারুকলা আর টিএসসির মাঝমাঝি সরোয়ার্দি উদ্যানের পাশের ফুটপাথে। না, ওরা কেউ পিনোকিওকে ধমক দেয়নি, গালি দেয়নি, ওর দিকে তাকায়ওনি। তবুও আমার বন্ধু পিনোকিও কিনা উত্তম যুক্তিবিদ্যা ধারণ করে পেটের ভিতর, সেই দুর্গন্ধ বিদ্যা দিয়ে টের পেয়েছে ঐখানে ঐ ছেলেরা ওকে মারার জন্যেই জটলা পাকিয়েছে। পিনা পালিয়ে বেচেছে।

এবারও আমার উদ্বেগ ও পিনোকিওর নাক আরেক দফা বৃদ্ধি পায়।

(৫)
পিনোকিও যেখানেই যায়, কেবলই মানুষ দেখে। সেবার গেছে উত্তরের এক জেলায়। সেদিকে কিনা শীত বেশী। মার্কেটের সামনের দিকে খোলা জায়গায় বেশ কিছু লোক শীতের কাপড় মাফলার ইত্যাদি পরে ঘুরঘুর করছে। একটা দলে তিনজন ছিল বটে, কিন্তু ওদের আশেপাশেই আরও কিছু লোক ছিল মার্কেটে, সবাই শীতের কাপড় আর মাফলার বা টুপি পরা। ওরাও নিশ্চয়ই পিনোকিওকে মারতেই এসেছে। নাইলে কনকনে শীতের মধ্যে সবাই মাফলার পরবে কেন? একটা তো যুক্তি থাকতে হবে, নাকি?

পরে ওদেরকে পিনোকিওর বন্ধুরা চেইলেইঞ্জ করেছে। মাফলারওয়ালারা পলায়নি। পুলিশ এসেছে, ওরা তবু পালায়নি। কেন? পিনোকিওকে হত্যার উদ্দেশ্য না থাকলে তো পুলিশ দেখলেই পালিয়ে যেত? অসৎ উদ্দেশ্যে জটলা করেছিল বলেই পালায়নি। বুঝলেন না? লজিক।

এই যে দেখছেন বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ। এতো মানুষ বাংলাদেশে কেন জন্মেছে? এতো মানুষ রাস্তাঘাটে কেন ঘুরে বেড়ায়? এতো মানুষ চায়ের দোকানে কেন জটলা করে? এতো মানুষ মার্কেটের নিছে কেন ঘুরঘুর করে? সব আমার বন্ধু পিনোকিওকে হত্যার উদ্দেশে। বুঝতে হবে। বুঝতে পেরেছেন তো?

বুঝে থাকলে এইবার চলেন নিন্দা করি। পিনোকিওকে মারা চলবে না। না, নাস্তিকদেরকে মারা ঠিক আছে- কিন্তু পিনোকিওকে মারা চলবে না। কেন? কারণ পিনোকিওকে হত্যার তো কোন কারণ নাই। যারা হত্যা করতে পারে ওদের সুবিধার্থে পিনোকিও তেল ব্যাবহার করে। তাইলে পিনোকিওকে কেন মারবে? সুতরাং চলেন নিন্দা করি। যদি বলেন পিনোকিও কে কেউ আসলে মারতেই চায়নি, ও এমনিই এমনিই বানিয়ে কথা বলেছে, তবু নিন্দা করি। কেন? কেন আবার কি? পিনা বলেছে হামলা হয়েছে, ব্যাস, নিন্দা করতে হবে না? আশ্চর্য! আপনার কিসসু বুঝেন না।



নির্বাচন বার্তা