[…]মোস্তফা জব্বার কি বিরোধী দলের মন্ত্রী? তার উদ্দেশ্য কি?

মোস্তফা জব্বার কি বিরোধী দলের মন্ত্রী? তার উদ্দেশ্য কি?

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জানুয়ারী ৬, ২০১৮ , ১১:০৪ অপরাহ্ন
বিভাগ: অভিমত

তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন সারাবিশ্বে স্বীকৃত। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ ১৯৯৬ সাল থেকে দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, নবনিযুক্ত মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার অতি কথনের ধারাবাহিকতায় আজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ডুবন্ত নৌকা জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন। এভাবেই তিনি আস্থার মূল্য দিচ্ছেন আমিত্ব জাহির করতে।

মোস্তফা জব্বার মন্ত্রী হওয়ার পরও নিজেকে কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করছেন যা শপথ ভঙ্গের শামিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনে একর পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন যা তার রাজনৈতিক অপরিপক্কতার প্রমাণ। তিনি মন্ত্রী না থাকলেও কমপিউটার কাউন্সিল, বেসিস, হাইটেক পার্কের সদস্য এবং আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য হিসেবে সরকারের অংশ হিসেবেই ছিলেন। এত বছর এ খাতের সাথে যুক্ত থাকার পর মন্ত্রী হয়ে যদি নতুন চোখে নতুন কিছু দেখার দাবি করেন তাহলে তা ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছুই নয় এবং এর প্রমাণ কোনো আপত্তি না তুলে চূড়ান্ত থাকা দুটি নীতিমালায় অনুমোদন। তার অতিকথন প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তিনি কেন নিজ সরকারের অন্য সদস্যদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মন্তব্য করছেন? তিনি কি সজীব ওয়াজেদের অবদান ও ভূমিকাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন না! তার উদ্দেশ্য কি?

একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেছিল। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” কথাটি একটি টার্ম মাত্র, কোনো মতবাদ নয়। অথচ গত আট বছর ধরে মোস্তফা জব্বার ডিজিটাল বাংলাদেশ তার কনসেপ্ট বলে প্রচার করেছে। একে কখনো সোনার বাংলা কনসেপ্টের সাথে তুলনা করেছেন, কখনো ফিউচার বাংলাদেশ বা নেক্সট বাংলাদেশ জাতীয় কোনো টার্ম ব্যবহারকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছেন। রবীন্দ্রনাথ সোনার বাংলা কবিতা লিখেছেন। তার মানে কি এটা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কনসেপ্ট? বিজয় কী-বোর্ড বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলে থাকেন, ডেভেলপাররা তার কর্মচারী ছিলেন, তাই তিনিই মুখ্য। আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব মতাদর্শ ও লক্ষ নিয়ে চলছে। শুধুমাত্র একটি টার্ম ব্যবহারের কারণে তিনি যদি নিজেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে যে বিজয় সফটওয়্যার তৈরি করেছে তাকে বাদ দিয়ে তিনি বিজয়ের প্রবর্তক হন কি করে? আর তিনি বিজয় বাংলার প্রবর্তক হলে কোন যুক্তিতে ডিজিটাল বাংলাদেশের কৃতিত্ব দাবি করেন?

বিশ্বের কোনো দেশে কী-বোর্ড ব্যক্তিগতকরণের নজির নেই। বাংলাদেশ সমালোচিত কী-বোর্ডের বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে। বিএনপিই-জামাত জোট সরকারের দুটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের একটি হচ্ছে, সাবমেরিন ক্যাবেলে যুক্ত না হওয়া, অপরটি হচ্ছে, কি-বোর্ডের কপিরাইট দেয়া। উপরন্তু ওপেন সোর্সের অভ্র যখন ইন্টানেটে বাংলায় লেখা সম্ভব করে তোলে তখন ৫৬টি কী এর ৮টি ভিন্ন হওয়ার পরও ইউনিজয়ের কী-বোর্ডের বিরুদ্ধে কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়। আবার ইউনিজয়ের হুবহু কী-বোর্ড লিনাক্সে সাবমিট করে বিজয় হিসেবে চালানো হয়। এ প্রসঙ্গটি উল্লেখের কারণ, দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে অভ্র ও রিদমিক ইস্যুতে ক্ষোভের অপর নাম মোস্তফা জব্বার। কপিরাইট নিয়ে বড় গলায় কথা বলে নিজে পাইরেটেড মুভি দেখার পোস্ট দেন।

বাংলাদেশের সকল মন্ত্রণালয়, ৬৪টি জেলা এবং আদালতও ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আইসিটি খাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লাভ করা পুরস্কারগুলো হচ্ছে, সাউথ সাউথ এ্যাওয়ার্ড ২০১১, সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারি এ্যাওয়ার্ড-২০১৪, গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড (ডব্লিউআইটিএসএ)-২০১৪ এবং টানা চতুর্থবারের মত এবারও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার “ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার-২০১৭” অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার একটি তিনি নিজ হাতে গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে যে বিস্ময়কর অগ্রগতি করেছে তার স্বীকৃতি তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীও পেয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তিতে অগ্রগামী পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত যখন বাংলাদেশকে মডেল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে, তখন মন্ত্রী ক্যান্সার আবিষ্কার করছেন। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক তিনি নির্ধারিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে কৃতিত্ব দাবি করবেন আর ব্যর্থ হলে ক্যান্সারের উপর দোষ চাপিয়ে দিবেন!

মোস্তফা জব্বার সংশ্লিষ্টরা সকলেই তার “আমি”, “আমি” সম্পর্কে অবগত। তিনি ইতোমধ্যে এখতিয়ার বহির্ভুত কথাও বলেছেন। সরকারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দেশের স্বার্থেই হিসেব করে কথা বলা উচিত। মেঘ না চাইতে জল পেয়েছেন, তাই দলের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করা উচিত। বলা হয় আ’লীগ প্রচারণায় দুর্বল এবং সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নের বার্তা যথাযথভাবে জনগণের কাছে পৌঁছেনি। এখন তিনি অবিবেচনাপ্র্রসূত যেসব কথা বলছেন তা ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করবে না। দল বা সরকারকে বিব্রত করা মানে নেত্রীর আস্থার অমর্যাদা করা। যোগ্যতা থাকলে কথা না বলে কাজ করে প্রমাণ করুন এবং তুলে ধরুন কি করেছেন।



নির্বাচন বার্তা