[…]শিক্ষক যখন নকল সরবরাহকারী : তনয় বিশ্বাস

শিক্ষক যখন নকল সরবরাহকারী : তনয় বিশ্বাস

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮ , ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: অভিমত

মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছে শিক্ষক। সেই শিক্ষকই যখন নকল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে তখন শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কি শিক্ষা নিবে ? এমনই এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজ। টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের দায়ে বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে নকল দিয়ে সহযোগিতা এবং কেন্দ্রের ভিতর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. বজলুর রহমানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সাথে দায়িত্বে অবহেলার কারণে হলের দায়িত্বে থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের আরো দুই সহকারি শিক্ষক নাজমুল হক খান ও গোলাম মোস্তফাকে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ৫ ফেব্র“য়ারি সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান এ রায় দেন।

জানা যায়, চলমান এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজী ১ম পত্র গত ৫ ফ্রেব্র“য়ারী সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক ছাড়া কোন বহিরাগত বা অন্য কোন ব্যক্তির কেন্দ্র পরিদর্শন বা হলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রের আশেপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকে। এ সকল নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছে নকল সরবরাহ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ।। রফিকুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের নকল দিয়ে শিক্ষকরা সহযোগিতা করবে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এতে করে প্রকৃত মেধাবীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক অভিভাবক বলেন, এমন ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটবে না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, ‘টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজী ১ম পত্র পরীক্ষার দিন বিবেকাননন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাই। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক মো. বজলুর রহমানকে প্রশ্নপত্রের উত্তর প্রশ্নের মধ্যে লিখে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করার সময় হাতেনাতে ধরি। ওই শিক্ষকের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার লিখিত কোন অনুমতি বা বৈধতা ছিল না। তাই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার কারণে ১৪৫ ধারায় তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ওই হলের দায়িত্বে থাকা অপর দুই শিক্ষককে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আশরাফুল মমিন খান বলেন, ‘শিক্ষক হচ্ছে সম্মানিত ব্যক্তি। শিক্ষকরা নকল সরবরাহ করবে এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাক্সিক্ষত। নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোন শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদেরকে নকল সরবরাহ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



নির্বাচন বার্তা