[…]কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:এপ্রিল ২১, ২০১৮ , ৬:২০ অপরাহ্ন
বিভাগ: সোশ্যাল মিডিয়া

লিখেছেন: ডানপিটে ছেলে সুহেল: কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলার কারণ ছিল না। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম ক্রমান্বয়ে তাদের প্রতি সমর্থন হ্রাস পেয়েছে। নেতৃবৃন্দ তাদের শিবির সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করার পরও উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর কারণ খুঁজলে কয়েকটি কারণ মোটা দাগে প্রভাব ফেলেছে বলে দেখা যায়।

১. রাশেদ খানের শিবির সংশ্লিষ্টতা থাক বা না থাক তার মানসিকতা যে জামাতের তা তার ফেসবুক প্রোফাইলেই দেখা গেছে। ১৩ সাল থেকে কয়েকবার হ‍্যাক হয়েছে এটি যৌক্তিক নয় কারণ এক মাস আগেও তাকে কেউ চিনতো না। স্ট‍্যাটাস এডিট করলে এডিটেড লেখা থাকে এবং এডিট হিস্ট্রিও থাকে। অন‍্য কেউ ব‍্যাক ডেটে স্ট্যাটাস দিলে ক্লক সিম্বল থাকে। তার আইডি থেকে সে কয়েকবার লাইভে এসেছে। সবচেয়ে বড় কথা তারা যেভাবে হ‍্যাকের দাবি করেছে সেটি সম্ভব নয়। নিতান্তই হাস্যকর যুক্তি। অর্থাৎ নারী বিদ্বেষী স্ট্যাটাস সহ আপত্তির লেখার জন্য রাশেদকে আন্দোলনের স্বার্থে বাদ দেয়া উচিত ছিল। এখানে জাতীয় ইস্যুর চেয়ে ব‍্যক্তি প্রাধান্য পেয়েছে।

২. রাশেদ, নুরুসহ আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের ২০১৩ এর আগে পরের কার্যক্রম থাকলেও ২০১৩ সালের টাইমলাইন মুছে দেয়া হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তারা তখন গণজাগরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। হাসান আল মামুনের মতো অভিব্যক্তি ও নিরপেক্ষ অবস্থান রাশেদ ও নুরার মধ্যে কখনো দেখা যায় নি।

৩. মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী মনোভাব তাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে অতিমাত্রায় লক্ষণীয়। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রল করে বিভিন্ন কার্টুন ও ছবি পোস্ট করায় উৎসাহ দান করা ছাড়াও অসংখ্য কটুক্তি করা হয়েছে।

৪. নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং জামাত শিবিরকে ঘৃণা করার কথা বার বার বললেও জামায়াতের কাফের শাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত বিতর্কিত ব‍্যক্তি পিনাকি ভট্টাচার্য সহ অনেকের লেখা গ্রুপে প্রোমোট করেছে যা সরকার সমর্থক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে ক্ষুব্ধ করেছে।

৫. ব‍্যারিস্টার মইনুল ও মান্নার মতো ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সহমর্মিতা, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে দেখা, ফেসবুক গ্রুপে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ব‍্যান করা, তাদের সাধারণ পোস্টও এপ্রুভ না করা, অন‍্যদিকে সরাসরি সরকার ও ছাত্রলীগ বিরোধী লেখাকে প্রাধান্য দেয়ায় তারা নিজেরাই নিজেদের একটি পক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

৬. সবচেয়ে বেশি বিতর্ক উঠেছে টাকা নিয়ে। এটি যেহেতু সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন তাই সকলের পাঠানো টাকার হিসাব দেয়া তাদের কর্তব্য ছিল। শুধু টিশার্ট বিক্রি করে বিশ লক্ষ টাকা আয়ের অভিযোগ কখনোই অস্বীকার করতে পারবে না। 01784280686, 01725080136, 01743870298, 01773979020,
01911789506 ইত্যাদি নম্বরগুলোতে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে সংগৃহীত টাকার হিসাব মেলেনি কিন্তু পরিবর্তন হয়েছে তাদের জীবন যাত্রার আভিজাত্য। এভাবে টাকার হিসাব কোটি ছাড়িয়ে যাবে যা তাদের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। রাশেদের সর্বশেষ বক্তব্যে কোটাকে ছাত্রদের বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান ছিল। এছাড়া কোটা ছাড়াও অন্যান্য ইস‍্যুতেও তারা আগ্রহী হবে বলে নুরু আভাস দিয়েছে। সন্দেহ ওঠা স্বাভাবিক যে তারা আন্দোলনের নামে মূলত পকেট ভারী করতে চাচ্ছে।

৭. রাশেদের ভাষ‍্য মতে, কোটা বিলুপ্ত হোক বা সংস্কার হোক দ্রুত করতে হবে। যেকোনোটিতে যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আন্দোলন কেন? অর্থমন্ত্রীর সংস্কারের বক্তব্যের বিরোধিতা হয়েছিল কেন? এ বিষয়গুলো তাদের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

৮. ফেসবুক, কোটা ও আরো কিছু বিষয়ে তারা নিজেদের জ্ঞানের যে পরিসীমা দেখিয়েছে তাতে তাদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাহলে তারা মেধাবীদের প্রতিনিধি হয় কিভাবে?

পরিশেষে বলবো, যেভাবে গুজব, বিতর্কিত তথ্য ও অপপ্রচার এ আন্দোলনের কৌশল হিসেবে ব‍্যবহৃত হয়েছে তা সাময়িক সুফল দিলেও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যদি এখনো সঠিক অবস্থান নিতে না পারে তাহলে নিক্ষিপ্ত হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।



নির্বাচন বার্তা