[…]কোটা আন্দোলনের নেতা শিবির রাশেদ ও জঙ্গি মাহফুজসহ আটক তিন

কোটা আন্দোলনের নেতা শিবির রাশেদ ও জঙ্গি মাহফুজসহ আটক তিন

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জুলাই ১, ২০১৮ , ৬:৫৫ অপরাহ্ন
বিভাগ: জাতীয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে ‘বাপের দেশ’ বলে কটাক্ষ করা কোটা-নেতা শিবির কর্মি রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জঙ্গি মাহফুজ খান ও শিবির কর্মি সুমন কবীরকেও আটক করা হয়েছে।

রাশেদ খানকে শাহবাগ থানায় দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মাসুদুর রহমান গণমাধ্যম বলেন, “আল নাহিয়ান খান জয় নামের এক ব্যক্তির শাহবাগ থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলায় তাকে (রাশেদ খান) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারপরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।”

জানা গেছে গতকাল রাতে এবং আজ সকালে ফেইসবুক লাইভে এসে তাকে হত্যা করা হবে, গুম করা হবে ইত্যাদি প্রচার করার পর গোয়েন্দা পুলিশ তার পিছু নেয়। এই সময় সে পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে লাইভে বলেন, “ভাসানটেক মজুমদারের মোড় এলাকায় ডিবি আমাকে ধাওয়া দিয়েছে। আমি একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবাই আমাকে বাঁচান।”

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের কয়েকজন সংগঠকের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। পরবর্তিতে অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের টাকা হাতিয়ে নেয়া ও নারী কেলেঙ্কারিসহ বিএনপি জামায়াতের অর্থায়নে কোটা আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার অপচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
গত ৮ এপ্রিল ভিসির বাড়িতে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের অযৌক্তিক এবং আইন ও তদন্তবিরোধী দাবি তোলায় অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন যে, হামলাকারীদের রক্ষা করাই তাদের উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গত, আল নাহিয়ান খান জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি নিয়ে ১ জুলাই রাতে তিনি শাহবাগ থানায় রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কারণ জানতে চাইলে আল নাহিয়ান বলেন, “রাশেদ ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৮টায় ফেইসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন ‘মনে হচ্ছে তার বাপের দেশ, সে একাই দেশের মালিক। তিনি যা ইচ্ছা তাই বলবেন আর আমরা কোন কথা বলতে পারবো না’।

এছাড়াও রাশেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ফেইসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষার্থী। তাদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ‘ঘোষণা’ দিলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন বন্ধ করলেও রাশেদ, নুরু, আতাউল্লাহ, সুমন, সুহেল, ফারুক ও মাহফুজসহ কয়েকজন শিবির কর্মি বিভিন্ন বাহানায় কর্মসূচি ঘোষণা করতে থাকেন ও আন্দোলনের নামে আর্থিক সাহায্য দেয়ার আহবান জানান। দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের লক্ষে কোটা আন্দোলনের নাম পরিবর্তন করে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামকরণ করা হয় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করতে থাকে।

একবার আন্দোলন স্থগিত করা, আবার সংগঠিত হওয়া, অত:পর পাঁচ দফা ঘোষণা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন দাবি এবং সর্বশেষ ছয় দফার দাবি জানিয়ে নানা কর্মসূচি শুরু করে। কর্মসূচির মধ্যে ফেইসবুকে লাইভে এসে হুমকি ধমকি, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করা এবং সারাদেশ অচল করে দেয়ার হুমকি দেয়া ছিল অন্যতম। দেশের প্রশাসনকে অযোগ্য বলা ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশ ছাড়া করার হুমকিও প্রদান করতে থাকে। কোটা সংস্কারের দাবি বললেও নারী নির্যাতন ও গবেষণা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে বহালের দাবিতেও তারা কর্মসূচি দিতে শুরু করে। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের নির্দেশনায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে অনেকেই একাত্ম থাকলেও রাশেদদের অসৎ উদ্দেশ্য ক্রমেই প্রতীয়মান হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে কর্মসূচি ঘোষণার পর শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে অপর পক্ষের পিটুনির শিকার হন তিনজন এবং রাশেদ আগেই পালিয়ে যায়। ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগারের সামনে এই হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিল তারা।

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণার পর ছাত্ররা পড়ার টেবিলে ফিরে গেলেও জামাতপন্থী অংশটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ছাত্রলীগ একে সাধারণ ছাত্রদের প্রতিহত বলেছেন। তারা বলেন, আমরা প্রথমে ছাত্র, পরে ছাত্রলীগ। এ ঘটনা ছাত্রলীগ ঘটায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিহত করেছেন। কোটা আন্দোলনকারীরাই সবসময় দাবি করেছে ছাত্রলীগ এ আন্দোলনের মূল শক্তি।

সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করেছে। অন্য দুজন হলেন- মাহফুজ খান ও সুমন কবীর। তারা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। রোববার দুপুরে মিরপুর ১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের ১২ নম্বর বাসায় অবস্থান করছিলেন।



নির্বাচন বার্তা