[…]রিজভীর ওপর তারেকের নিষেধাজ্ঞা: নেপথ্যে ভারত বিরোধী বক্তব্য!

রিজভীর ওপর তারেকের নিষেধাজ্ঞা: নেপথ্যে ভারত বিরোধী বক্তব্য!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জুলাই ১০, ২০১৮ , ১:৪৯ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

বিএনপির হাইকমান্ড সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যেকোনো বিষয়ে মন চাইলেই সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দিতে পারবেন না তিনি। এখন থেকে প্রয়োজনীয় ইস্যুতে বক্তব্য দেয়ার আগে অনুমতি নিতে হবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। বিশেষ পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটি। হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ীই নির্ধারণ হবে ইস্যু এবং বক্তব্যের ধরন। সোজা কথায় প্রতিটি প্রেস কনফারেন্সের আগে সবকিছু অবহিত করে হাইকমান্ডের অনুমতি নিতে হবে।

বিএনপির আবাসিক নেতা হিসেবে পরিচিত রুহুল কবির রিজভীকে কার্যালয় থেকে চলে যাওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের সাথে তারেকের সম্পর্ক গড়ার প্রাণপন চেষ্টা চালানো অবস্থায় সাবেক এই ছাত্রদল নেতা খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে আপোষহীনভাবে ভারতের সমালোচনা করে। কিন্তু গত রোববার এক বিজেপি নেতার কাছে তারেক ফোন করলে তিনি রিজভীর মত নেতাদের কারণে ভারতের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠবে না বলে উইল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করে আরেকবার সুযোগ দেয়ার জন্য আকুতি জানান। এর পরই রিজভিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আর কখনো সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলার নির্দেশ দেন। তারেকের এই রুঢ় ব্যবহারে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন বিএনপির এই ত্যাগী নেতা। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়া ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান ও ইসলামী ভাতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে যে রাজনীতির সূচনা করেছিলেন, খালেদা জিয়া সে ধারাই ধরে রেখেছিলেন। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের পর খালেদা জিয়ার নির্দেশেই ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতকে খুশি করলে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে এমন ধারণা থেকে তারেক রহমান ভারতের তাবেদারি করার চেষ্টা চালানো শুরু করেন।

বিএনপির বেশিরভাগ নেতা এবং প্রায় সকল সমর্থক এবং ২০ দলীয় জোটের সকল সদস্য কট্টর ভারত বিরোধী। রিজভি দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে বহুবার কারাবরণ ছাড়াও নিজের বাসা পর্যন্ত ছেড়েছেন। রাজনীতির জন্য দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই বহু কষ্ট স্বীকার করে দিন অতিবাহিত করছেন। এ অবস্থায় রিজভীল প্রতি তারেক রহমানের আক্রোশের কারণে দলের নেতাকর্মীরা হতাশ, অনেকে মনে কষ্ট নিয়ে বলেছেন, জিয়ার আদর্শ থেকে সরে গেছে তারেক।

দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বহীন ইস্যুতে যখন তখন প্রেস কনফারেন্স ডেকে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেয়ায় তার প্রতি বিরক্ত হয়েছেন বিএনপি নেতারা। যখন তখন প্রেস কনফারেন্স আয়োজনে তার কারণে জোটের বহু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সম্প্রতি ভারত বিরোধী বক্তব্যকে অদূরদর্শী, আত্মঘাতী ও স্পর্শকাতর বলে উল্লেখ করে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ তোলে বিএনপির কিছু নেতা। গণমাধ্যমের সামনে ভারতের বিরুদ্ধে দেয়া তার বক্তব্যের একটি সংশোধনীও দেন রিজভী। মূলত ভারতের বিরুদ্ধে বলা ছাড়া রিজভীর বিতর্কিত কোনো বক্তব্য নেই।

উল্লেখ্য, দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি গৃহীত ও দলীয় গঠনতন্ত্রে যুক্ত হয়। কাউন্সিলের পর দলের মহাসচিবসহ অনেকেই এক পদ রেখে অন্য পদ থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েও দপ্তর সম্পাদক পদ ছাড়েননি রুহুল কবির রিজভী। ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত রিজভীর এ অবমূল্যায়নের পর অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ



নির্বাচন বার্তা