[…]জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জমিতে এখন বেগুন চাষ হচ্ছে!

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জমিতে এখন বেগুন চাষ হচ্ছে!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:আগস্ট ১৩, ২০১৮ , ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সারাদেশ

বগুড়ার গাবতলীতে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে কেনা জমিতে এখন বেগুন চাষ হচ্ছে। ট্রাস্টের জমিতে স্থানীয় কৃষকরা কেউ সবুজ বেগুন , কেউ কালা বেগুন আবার কেউ হাইব্রিড বেগুন তৈরি করেছেন।

উল্লেখ্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে কেনা ২.৭৯ একর জমি স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে তাদের ন্যায্য দামও পান নি। তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ১২-১৩ জন মালিকের কাছ থেকে এই জমি ক্রয়ে মধ্যস্থতা করেন। তবে স্থানীয়রা প্রশাসন ও পেশী শক্তির ভয়কে উপেক্ষা করে মামলা করেছিল।

জমিদাতা অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মুসা আলম বলেন, “৪৭ হাজার টাকা দিয়ে ৩২ শতাংশ জায়গা কিনেছিলাম। সেই জায়গা জোর করে নিয়ে প্রতি শতকের দাম ১ হাজার করে দিয়েছে।”

তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা থেকে চাপ দেয়ার কথা উল্লেখ করে মুসা বলেন, “আমি বলেছিলাম, জোর করে জমি নেওয়া ভালো হবে না। তারা আমাকে বলেছিল, ‘জমি না দিলে জেলের শিক গুণতে হবে’। ভয়েই জমি দিয়েছি।”

মুসা বলেন, “জোর করে জমি নেওয়ার পর কথা ছিল যতদিন এতিমখানা না হবে, ততদিন জমিদাতারা ওই জমি ভোগ করবে। কিন্তু তারেক রহমান ওই সব জমি লিজ দিয়ে টাকা খাচ্ছে।”

আরেক জমিদাতা এক হিন্দু নারী জমির ন্যায্য দাম না পাওয়ার কথা জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভাই আমরা হিন্দু মানুষ, বেশি কিছু বলতে পারব না। আমার যেন কোনো সমস্যা না হয়।”

আরেক জমি বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন মাস্টার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যারা জমি দেবে তাদের সন্তানদের এতিমখানায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। তবে তার আর বাস্তবায়ন ঘটেনি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৯৯১-৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দুই ছেলে ও জিয়ার ভাগ্নের নামে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট খুলে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি টাকা ওই ট্রাস্টে স্থানান্তর করেন।

বগুড়ায় জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের জমি বগুড়ায় জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের জমি এজাহারে বলা হয়, এরপর বগুড়ার দাঁড়াইল মৌজায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে ২.৭৯ একর জমি কেনা হয়। অবশিষ্ট টাকা কোনো অডিট না করিয়ে নামসর্বস্ব ট্রাস্টের হিসাবে অব্যয়িত রাখা হয়।

“উল্লিখিত অব্যয়িত অর্থের স্থিতি সুদাসলে ২০০৬ সালে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকা। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এফডিআর খুলে তা নগদায়ন করা হয়। যার মাধ্যমে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।”

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দাঁড়াইল মৌজায় স্থানীয়দের কাছ কেনা জমি ২৫ বছর পার হতে চললেও সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছাড়া আর কোনো স্থাপনা নেই। সময়ের ব্যবধানে সাইনবোর্ড মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নিয়ে মামলার রায় ঘনিয়ে আসায় মাসখানেক আগে সেখানে আরেকটি নতুন সাইনবোর্ড টানানো হয়।

জমিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত জমির মালিকরা তা ভোগ করতে পারবেন, এমন চুক্তি ছিল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চালু হলে জমির মালিকদের যোগ্য সন্তানরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি পাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু দিন গড়িয়ে গেলেও এসবের কিছুই পাননি জমির মালিকরা। এ অবস্থায় জমির মালিকরা জমিতে বেগুন চাষ করছেন। তারা এ ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।



নির্বাচন বার্তা