[…]চার কোটি ছয় লাখ শিশুকে ওষুধ সেবনের টাগের্ট

চার কোটি ছয় লাখ শিশুকে ওষুধ সেবনের টাগের্ট

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:অক্টোবর ২, ২০১৮ , ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: স্বাস্থ্য

চার কোটি ছয় লাখ শিশুকে ওষুধ সেবনের টাগের্ট নিয়ে দেশে ২১তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। পহেলা অক্টোবর শুরু হওয়া এ কমর্সূচি আগামী ৭ অক্টোবর পযর্ন্ত চলবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পযাের্য়র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই সপ্তাহ পালন ও খুদে ডাক্তারদের মাধ্যমে শিক্ষাথীের্দর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। দেশের প্রাথমিক পযাের্য়র সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী সব শিশুকে এবং মাধ্যমিক পযাের্য়র বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হবে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা) ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার একটি অংশ হচ্ছে ফাইলেরিয়াসিস নিমূর্ল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুদে ডাক্তার কাযর্ক্রম। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নিমূের্লর লক্ষ্যে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কৃমি নিয়ন্ত্রণ কাযর্ক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসে দেশে এই কমর্সূচি পালন করা হচ্ছে।

কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উদ্?যাপন করার লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পযাের্য়র সব প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী সব (স্কুলগামী, স্কুলবহিভ‚র্ত, স্কুল থেকে ঝরে পড়া) শিশুকে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ বিনামূল্যে সেবন করানো। একই সঙ্গে কৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধকল্পে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সম্বন্ধে সচেতন করে তোলা। এসব শিশুকে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়ার ফলে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। যা ভবিষ্যতে শিশুরা কৃমিসহ অন্যান্য পরজীবীবাহিত রোগব্যাধি থেকেও পরিত্রাণ পাবে।

কৃমির ক্ষতিকর দিক : কৃমির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলেন, কৃমি মানুষের পেটে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে, যার দরুন শিশুরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতায় ভোগে। কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে রক্ত শোষণ করে। ফলে শিশুরা রক্তশূন্যতায় ভোগে। বদহজম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায় ফলে শিখন ক্ষমতা হ্রাস পায় ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় থাকতে বাধা সৃষ্টি করে। এপেন্ডিসাইটিস এবং অন্ত্রের অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করে, ফলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। কৃমির অতিশয় সংক্রমণ মৃত্যুর কারণও হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উল্লেখ করেন।

কৃমি নিয়ন্ত্রণ: কৃমি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, পরিবারের সবাই একত্রে বছরে কমপক্ষে দুইবার (৬ মাস পর পর) কৃমির ওষুধ সেবন করা। খালি পায়ে চলাফেরা না করা এবং পায়খানা ব্যবহারের সময় স্যান্ডেল পরা। পায়খানার পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। হাতের নখ ছোট রাখা আর এ জন্য সপ্তাহে একবার নখ কাটা। খাদ্যদ্রব্য ঢেকে রাখা। খোলা বা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়া, ফল-মূল খাওয়ার আগে তা নিরাপদ পানি দিয়ে ধোয়া এবং প্রতিবার খাবার গ্রহণের আগে হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা। ২০১৫-২০১৬ সালের এক জরিপে (শিশুদের মলে কৃমির ওভা বা ডিমের উপস্থিতি) কৃমি সংক্রমণের হার ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে তুলে ধরা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের বিশেষ জরিপে (আইসিএসপিএম) কৃমি সংক্রমণের হার পাওয়া যায় ১১ ভাগ। সেটা ২০০৫ সালে ৫ থেকে ১৪ বছরের বয়সী শিশুর মধ্যে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৫ বছরের অধিক তাদের মধ্যে এই হার ৪ শতাংশ ছিল। ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের হার সবাির্ধক বিধায় ১২ বছর বা তার অধিক বয়সী শিশুদের অন্তভুর্ক্ত করতে দেশের সব মাধ্যমিক পযাের্য়র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল রাউন্ড থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী সব শিশুকে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।



নির্বাচন বার্তা