[…]পরাজয়ে ভীত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপি: হিরো আলমের স্ত্রী

পরাজয়ে ভীত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপি: হিরো আলমের স্ত্রী

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:নভেম্বর ২১, ২০১৮ , ৪:৫০ অপরাহ্ন
বিভাগ: অন্যরকম

সাংবাদিককে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছে চেয়ারম্যান

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু ) জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র নেওয়া আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের স্ত্রী সাবিহা আক্তার সুমি হিরো আলমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুলকে দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন বগুড়া আসনে মহাজোটের দুই প্রার্থী থাকায় বিএনপি প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন কিন্তু জাতীয় পার্টি থেকে হিরো আলম প্রার্থী হওয়ায় পরাজয়ের আশঙ্কায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মন্ডলের যোগসাজসে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার চালাতে চেয়ারম্যান এক সাংবাদিককে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সুমি বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে দেখে না কে বলল? আমার স্বামীর ব্যবসা তো আমি দেখি। সে এখন মিউজিক ভিডিও নিয়ে কাজ করে। ঢাকায় থাকে, সপ্তাহ অথবা ১০ দিনে দেখা হয়। বাসায় আসে। বাসায় সে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পড়ে থাকে। তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকতো তাহলে আমি কি ওর সাথে থাকতাম?’

এরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মন্ডল বলেন, এক বছর আগে ওর শালি (স্ত্রীর ছোট বোন) বিলকিসকে নিয়ে পলাসলো। সেই বিচার করে দেয়া লাগছে। আর বিচারতো হামার মাঝে মধ্যেই করা লাগে। ট্যাকা লিয়্যা দুই-একদিন পরপরই ঝামেলা লাগায়। তারপরেও এলাকার ছোল, ভালোই আছলো। শুনলাম আবার লির্বাচন করিচ্ছে। আসলে মাতা পাগলা হলে ইংকাই হয়। এটি মেম্বরত উটবার পারেনি। আবার জাতীয় লির্বাচন। আসলে এনা ট্যাকা হচে তো। গরমে থাকপার পারিচ্চে না।

সুমি বলেন, কয়েকজন মানুষ আসছিল, সাংবাদিক পরিচয়ে তারা উল্টাপাল্টাভাবে আমার শ্বশুরের সাথে কথা বলে নিউজ লিখছে শুনলাম। আমার সন্তানদের আলম দেখে কি না সে টা আমি ছাড়া কে ভালো বুঝবে?

বিএনপি নেতা মুকুল স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এক সাংবাদিককে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আলমের স্ত্রী।

অনুসন্ধানের দেখা যায় গেছে, হিরো আলমের বাবা আহম্মদ মারা গেলে গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তার মা আশরাফুন বেগমকে বিয়ে করেন। এরা তিন বোন এক ভাই। আলমের ডিশের ব্যবসা রয়েছে। এই ব্যবসাটি মূলত এই পালক পিতা দেখাশুনা করে। তার অভিযোগ, আলম ইচ্ছে মতো টাকা উড়ায়। মিউজিক ভিডিও বানানোর নামে রাতদিন পড়ে থাকে নানা জায়গায়। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী সন্তানদের কোনো খোঁজ রাখে না।

আশরাফুল আলম নামের এই হিরো আলম প্রথমে চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তখন তাকে মানুষ চিনতো চানাচুর আলম বলে। এরপর সিডি বিক্রি করতেন। তখন ছিলেন সিডি আলম। সেটা বেশ আগের ঘটনা। সিডি যখন চলছিল না তখনই মাথায় আসে ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসার। ভাবলেন নিজ গ্রামেই সেটা করবেন। করেও ফেললেন। বগুড়ার এরুলিয়া ইউনিয়নের আশেপাশের গ্রামেই শুরু হয় আলমের ডিশ ব্যবসা। এখনও লোকে তাকে ডিশ আলম নামেই চেনে। ভার্চুয়াল জগতে আসার পর তিনি হয়ে যান হিরো আলম। একের পর এক মিউজিক ভিডিও বানানো শুরু করেন আলম। নিজের কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যেমে সেগুলো প্রচারও করতেন তিনি।

স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন হিরো আলম। এরপর জীবিকার তাগিদে সিডি বিক্রি থেকে আলম ডিশ ব্যবসায় হাত দিয়ে সফলতা অর্জন করেন। সেখান থেকে এখন তার মাসিক আয় ৭০-৮০ হাজার টাকা।

সিডির ব্যবসা করতেন আলম। ক্যাসেটে দেখতেন মডেলদের ছবি। সেই থেকে মাথায় ঢোকে মডেল হওয়ার। ২০০৮ সালেই করে ফেলেন একটা গানের মডেলিং। সেটাই ছিল শুরু। এরপরে সেসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে সংসারে মনোযোগী হন। ২০০৯ সালে বিয়ে করেন পাশের গ্রামের সুমী নামের এক তরুণীকে। আলম সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লেও সুমী পড়েছেন এসএসসি পর্যন্ত।

সুমীর বয়স এখন আনুমানিক ২৬। কথায় আঞ্চলিকতার টান তুলনামূলক কম। পড়েছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। তিনি আলমের বিপক্ষে কথা বলতে নারাজ, অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতেই তিনি রেগে উঠছেন। আপনার বোনকে নাকি আলম নিয়ে পালিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে সুমী বলেন, আমার বোনকে নিয়ে আলম পালাবে আর আমি তার স্ত্রী হয়ে ঘরে থাকবো? ঘটনা একটা ঘটেছিল, সেটাকে গ্রামে অন্যভাবে ছড়ানো হয়েছে। আলম সহজ সরল। ওর দ্বারা এসব সম্ভব না।

শ্যালিকাকে নিয়ে পালানোর বিষয়ে সুমী বলেন, ‘আমার ছোট বোনের এক জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ও রাজি ছিল না বিয়েতে। পরে আলমের সাহায্য নিয়ে সে অন্যখানে কয়েকদিন লুকিয়ে ছিল। আমরা সবাই জানতাম এই ঘটনা। কিন্তু গ্রামের লোকজন সেটা অন্যভাবে ছড়ায় যার কারণে শালিস হয়। শালিসে আলমের কোনো অপরাধ পাওয়া যায়নি। আমার বোনের অন্যখানে বিয়ে হয়েছে, একটা বাচ্চাও আছে।’

সুমী বলেন, ‘ডিশ ব্যবসার সমস্ত হিসাব কিতাব আমি দেখি। লাইনের কোনো সমস্যা হলে কাজের লোক দিয়ে আব্বাকে (শ্বশুর) পাঠাই। ডিশ ব্যবসায় হেল্প করার জন্য আমাদের এখানে মোট ৮ জন লোক কাজ করে। আলম না থাকলেও আমরা সবকিছু সামলে নেই।’

হিরো আলমের বড় মেয়ে আলোমনি দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে, মেজো মেয়ে আঁখি ১ম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছেলে আবিরের বয়স চার ও স্ত্রী সুমীকে নিয়েই সংসার। হিরো আলমের মতো সুমীর দাবি তার সুখের সংসার। আলমের বাবা রাজ্জাক ও স্ত্রীর আক্ষেপ এক জায়গায় সেটা হলো নির্বাচন নিয়ে। তাদের ধারণা নির্বাচন করে অনর্থক টাকা-সময় নষ্ট হবে।

হিরো আলম তার বিরুদ্ধে উঠে আসা অভিযোগ নিয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আমার বৌয়ের কোনো অভিযোগ নাই। আপনি চাইলে কথা বলে দেখতে পারেন। আমি ইদানীং ঢাকায় বেশি থাকি, তাই সুমী ও আমার বাবা ব্যবসা দেখে। আমি সুযোগ পাইলেই চলে যাই। আমার বিরুদ্ধে বিপক্ষ পার্টির কয়েকজন নিউজ করাচ্ছে। তারা চায় আমার নামে বদনাম ছড়ায়ে দিয়ে আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে, আমি জানি কারা এসব করছে। আমি নাকি মনোনয়নপত্র হারায়ে ফেলছি এমন ভুয়া নিউজও করছে তারা।’

নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার আমি মাত্র ৭০ ভোটে হেরেছি। এর আগেরবারও হেরেছি অল্প ভোটে। তবে এলাকার মানুষের ভালোবাসার জন্য আমি আরেকবার নির্বাচন করবো। আমি বলেছিলাম আর দাঁড়াবো না, কিন্তু ভালোবাসার জন্য দাঁড়িয়েছি।



নির্বাচন বার্তা