[…]তিনশ আসনে আট শতাধিক চিঠি দেয়ায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা ক্ষুব্ধ

তিনশ আসনে আট শতাধিক চিঠি দেয়ায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা ক্ষুব্ধ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:নভেম্বর ২৮, ২০১৮ , ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: জাতীয় সংবাদ

মনোনয়ন জটিলতায় ৪০টি আসনে জয়ী হওয়াও কঠিন হবে হবে বিএনপির!

একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনশ’ আসনে আট শতাধিক নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রাথমিক প্রত্যয়নপত্র পেয়েছেন। অধিকাংশ আসনে দল ও জোটের একাধিক বিকল্প প্রার্থী রেখেই এবার নির্বাচনে প্রাথমিক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে বিএনপি। অনেক আসনে তিন জন পর্যন্ত প্রার্থী দেয়া হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতারা বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আরেকজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তারা। সোমবার প্রথম দিনে শতাধিক এবং গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে বাকি দুইশ’ আসনে দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়।

এদিকে বিএনপি জোট শরিকদের জন্য কতটি আসন ছেড়ে দেবে, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য সকালে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব। তবে সমঝোতা না হওয়ায় কামাল হোসেন গণফোরামের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেন।

ওয়ান ইলেভেনে ‘কথিত’ সংস্কারপন্থি বলে পরিচিতি এমন ১৩ জনকে বিভিন্ন আসনের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করেছে বিএনপি। এছাড়া বিভিন্ন দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির কারণে বিতর্কিত ও দলের মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়েছিলেন, তাদেরও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন দীর্ঘদিন যাবত রাজপথে থাকা ত্যাগী সংগঠকরা। ২০০১-২০০৫ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণে বিতর্কিতরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অধিকাংশ আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়ার কথা বলা হলেও এ পদক্ষেপকে সকলকে খুশি করার কূটকৌশল বলে উল্লেখ করে করছেন নেতাকর্মীরা।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে একাধিক প্রার্থী দেয়ায় সকলের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার আশা সৃষ্টি হয়েছে এবং সকলেই ধরে নিচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকলে তিনিই হতেন উক্ত আসনের দলীয় প্রতিনিধি। ফলে রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করার চেষ্টা করবেন। একজন প্রার্থী থাকলে সকল নেতাকর্মী বিভেদ ভুলে এক প্রার্থীর অধীনে কাজ করতেন। কিন্তু দুই-তিনজনকে মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে। ফলে পরবর্তিতে একজনকে প্রার্থী করা হলে অপর প্রার্থীর অনুসারীরাও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা হলে এ বিক্ষোভ ও অন্তর্দলীয় কোন্দল সংঘর্ষে রূপ নিবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু গতকাল কামাল হোসেনের যুক্তফ্রন্ট ১১২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে জামায়াত ৬০টি আসন দাবি করলেও ২৫টি আসন দেয়া হয়েছে যা অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় কম। পটুয়াখালী বিএনপির এক নেতা গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা যাদের দ্বারা নির্যাতন ও বিরোধিতার শিকার হয়েছিল, তারাই যদি এখন দলের টিকেট পায় তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াবো?”

দলীয় কোন্দল ছাড়াও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জোট নেতাদের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় সকল আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনোনয়ন প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে সাতক্ষীরা ও সিলেটের মত বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিরোধিতার মেরুকরণ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ৯ ডিসেম্বরের পর থেকে অসন্তোষের বহি:প্রকাশ ঘটবে যার পরিণতিতে দল ত্যাগের ঘটনা ঘটবে। এছাড়া সিনিয়র নেতাদের অনেকে নতুন দল গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন।

পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে মনোনয়ন নিয়ে এবারের মত চ্যালেঞ্জে কখনোই পড়েনি বিএনপি। আগে সকল সিদ্ধান্ত দলের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্তক্রমে হলেও এবার তারেক রহমানের নির্দেশেই কাজ করতে হচ্ছে যার কারণে অসন্তুষ্ট অনেকেই। এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থী দেয়ায় নির্বাচনী ফলাফল বিএনপির বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে এবং এ ধারা চলতে থাকলে ৪০/৫০টি আসনে জয়ী হওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।



নির্বাচন বার্তা