[…]“নষ্টা মেয়ে”দের মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি কি বার্তা দিচ্ছে!

“নষ্টা মেয়ে”দের মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি কি বার্তা দিচ্ছে!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:নভেম্বর ২৮, ২০১৮ , ১:৩৯ অপরাহ্ন
বিভাগ: এডিটরস' পিক

ঢাকার বি-গ্রেডের অশ্লীল নায়িকা হিসেবে ময়ূরী, পলি, মুনমুন, শায়লা ইত্যাদি নাম নিষিদ্ধ চলচ্চিত্রের বদৌলতে দেশের একটি অংশের জনগণের কাছে অতিপরিচিত। এক সময় বাংলা পর্নো সিনেমা মানেই ছিল এদের চার জনের কেউ। নিষিদ্ধ নীল ছবি ছাড়াও ঢালিউড থেকে তাদের অভিনীত ও মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোতেই অশ্লীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যেত। এছাড়া বেশকিছু সিনেমা হলে সেন্সরবোর্ড থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত সিনেমার বিভিন্ন অংশ প্রতিস্থাপন করে যৌনউত্তেজক দৃশ্য জুড়ে দেয়ার অর্থাৎ কাটপিস ছবির অভিযোগ ছিল অহরহ। সম্প্রতি মুনমুন আক্তার লিজা ওরফে ময়ূরী ও শাহরিয়ার ইসলাম ওরফে শায়লার নাম আবার আলোচনায় এসেছে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। “নষ্টা মেয়ে” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উত্থান হওয়া শায়লা বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়নের অপেক্ষায় রয়েছেন মুনমুন আক্তার লিজা ওরফে ময়ূরী।

বাংলাদেশে অশ্লীল চলচ্চিত্রের ধারা সৃষ্টি হয় ৯১ সালের পর থেকে। তৎকালীন ছাত্রদল নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, হেলেন জেরিন খান ও খায়রুল কবীর খোকনসহ কয়েকজন বিএনপি নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ অব্যহত ছিল। মোহাম্মদ হোসেন (মৃত্যুর মুখে), শরিফুদ্দিন খান দিপু (ধর মফিজ), স্বপন চৌধুরী (জননেতা), শাহাদাৎ হোসেন লিটন (অবুঝ দুটি মন), বদিউল আলম খোকন (তেজি মেয়ে) সহ কয়েকজন পরিচালক ও প্রযোজক সিনেমায় অশ্লীলতা যোগ করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে পর্নোছবি নির্মাণে যুক্ত হন।

ব্যাংককের নগ্ন বারে নগ্ন হয়ে নৃত্য ও সুইমিং পুলে উলঙ্গ রোমান্টিক দৃশ্য নিয়ে চিত্রনায়িকা শায়লার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সেন্সর নেয়ার সময় সে দৃশ্য বাদ রাখা হয়। একই ভাবে ময়ূরীও কখনোই মূলধারার সুস্থ ছবির নায়িকা হয়ে উঠতে পারেননি।

১৯৯৭ সালে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রশাসন যখন কঠোর হয়ে উঠে তখনই ধীরে ধীরে তাদের ক্যারিয়ারে ভাটা পড়তে শুরু করে। এ সময় অশ্লীলতার অভিযোগে এ দুজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। তাদের নিয়ে যেসব প্রযোজকরা ছবি বানাতেন তারা প্রশাসনের ভয়ে এ ব্যবসা থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে অন্যদিকে সরে যান।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচিতি তাদের ক্যারিয়ার বদলে দেয়। চলচ্চিত্রে ভাটা পড়লেও উল্লেখিত নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ময়ূরীর মা ঢালিউডের এক্সট্রা অভিনেত্রী সেতু জাসাসের সমাজ কল্যান সম্পাদিকা ছিলেন। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির দূতিয়ালীতে বিএনপি নেতা রেজাউল করিম মিলনের সঙ্গে অশ্লীল নায়িকা ময়ূরীর বিবাহ হয়। মিলন টাঙ্গাইলের একটি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

নষ্টা মেয়ে, ধর মফিজ, তেজি মেয়ে ইত্যাদি অশ্লীল ছবির নায়িকা শায়লা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনে (জিসাস) ও জাসাসে যুক্ত থাকলেও বিএনপির বিভিন্ন কর্মূসূচিতে অংশগ্রহণ অব্যহত রাখেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করতে লন্ডনও গিয়েছেন কয়েকবার। এবার ফরিদপুর থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও তারেক রহমানের নির্দেশে তার মনোনয়ন দেয়া হয়। ময়ূরী মনোনয়ন না পেলেও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন বলেই তার বিশ্বাস।

বিএনপি হয়তো তার ভাবমূর্তির কথা ভেবে তারকা হিসেবে পরিচিত কাউকে না পেয়ে বেবী নাজনীন বা মনীর খানের মত দ্বিতীয় শ্রেণীর গায়ক/গায়িকাকে রাজনীতিতে এনেছে। কিন্তু বিএনপি কি এতটাই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব রাখতে ময়ূরী বা শায়লাদের আনতে হবে? বিএনপি কি বার্তা দিতে চাচ্ছে জনগণকে? তাদেরকে নিয়ে ইসলামিক বলে দাবি করা কতটা যৌক্তিক? এক ঝাক বিতর্কিত ব্যক্তি নিয়ে কি তারা তরুণদের ভোট প্রত্যাশা করছে? তরুণদের কি এতটাই অধঃপতন হবে যে শায়লাদের বিএনপিকে বেছে নিবে? অবশ্যই না।



নির্বাচন বার্তা