[…]হামজা ব্রিগেডের জঙ্গী সাকিলাকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া কিসের ঈঙ্গিত?

হামজা ব্রিগেডের জঙ্গী সাকিলাকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া কিসের ঈঙ্গিত?

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:নভেম্বর ২৯, ২০১৮ , ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

জঙ্গী সংগঠন হামজা ব্রিগেডের অন্যতম সংগঠক সাকিলা ফারজানাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে ঐক্য ফ্রন্টের অন্যতম দল বিএনপি। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়েছে ফারজানা সাকিলাকে। সাকিলার মত আমির হামজা ব্রিগেড ছাড়াও জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার থেকে জেহাদী নারী রিক্রুট, জঙ্গি ও জামায়াত শিবিরের ক্যাডারদের জন্য অস্ত্র-বোমাবারুদ ক্রয় ও সরবরাহ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে সহায়তা করার অভিযোগ নতুন নয়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে তাতে তারেক রহমানসহ জামাত শিবির কিভাবে জঙ্গিদের সহায়তা করেছে সে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলও অবগত। সারাদেশে জঙ্গি ঘাটি তৈরি, অস্ত্র চোরাচালানের রুট হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার ও পাকিস্তানের আইএসের সহযোগিতায় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমানের ভিসাও বাতিল করে। সেই বিএনপি যে এখনো জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত হতে পারে নি তার আরেকটি প্রমাণ সাকিলার মনোনয়ন।

জঙ্গী সংগঠন হামজা ব্রিগেড সম্পৃক্ততা ও বিপুল অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি থেকে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সাকিলা ও তার দুই সহকর্মী আইনজীবীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্যারিস্টার সাকিলাকে গ্রেফতারের পর তাদের ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গী আস্তানা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়।

হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৬ সালের ৭ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান সাকিলা। জঙ্গীবাদে অর্থায়নকারী সেই ব্যারিস্টার সাকিলাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়ার পর রীতিমতো রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় ও হৈচৈ পড়ে গেছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা শহীদ হামজা ব্রিগেডের সংগঠক মনিরুজ্জামান ডনের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে এক কোটি আট লাখ টাকা দিয়েছিলেন তার আইনজীবী। ওই অর্থ সানজিদা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা করেছিলেন সাকিলা। তবে এ্যাকাউন্টটি যে মনিরুজ্জামান ডনের তা তার জানা ছিল না বলেছিলেন তার আইনজীবী। মনিরুজ্জামান ডন জবানবন্দীতে বলেছেন, সানজিদা এন্টারপ্রাইজের এ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে এবং এ টাকা দিয়ে বাঁশখালীতে জঙ্গী প্রশিক্ষণের জন্য অস্ত্র কেনা হয়েছে। জঙ্গী গ্রুপকে অস্ত্র কেনার জন্য কোটি টাকা যোগান দেয়ার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া ব্যারিস্টার ফারজানা সাকিলা বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে জঙ্গীবাদের তৎপরতার বিষয়টি।

২০১৫ সালে ব্যারিস্টার ফারজানা সাকিলা গ্রেফতার হওয়ার পর দেশ-বিদেশে আলোড়ন তোলা সেই ঘটনার পর ফের আড়ালে চলে গিয়েছিল তার নাম। তবে মামলা থেকে জামিন নিয়ে নিজের এলাকা হাটহাজারীর রাজনৈতিক বলয়ে বিচরণ বেড়ে যায় ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানার। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম-সম্পাদক পদধারী এই নেত্রী এবার নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে জঙ্গীবাদ থেকে তার নাম মুছতে প্রস্তুতি নিয়েছেন অনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক অভিষেকের। এজন্য ব্যাপক শোডাউনেরও প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিলা। ব্যারিস্টার সাকিলার রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশকে নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পিতার পথ ধরে যদি তিনি এলাকায় যথেষ্ট সাড়া জাগাতে পারেন তাহলে মনোনয়নের পাল্লা তার দিকে ঝুঁকবে। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী বা পুত্র উত্তর চট্টগ্রামের রাউজানের বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবেন বলেও মনে করা হচ্ছে। সাকিলার বাবা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এক সময় ওই আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী থেকে যারা গ্রেফতার হয়েছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে হাটহাজারী থানার মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট ও রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পিপি আবুল হাসেম তখন বলেছিলেন, তিন আইনজীবীকে হাটহাজারীর মামলায় গ্রেফতার ও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে র‌্যাব। এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সাকিলার সূত্র ধরে অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ জঙ্গী সংগঠনটিকে কারা আর্থিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা করত সে ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

র‌্যাবের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গী অর্থায়নে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সহায়তায় সারা দেশে জঙ্গীদের অর্থ লেনদেন হত। র‌্যাবের অনুসন্ধানে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, এ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন ও এ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপনও এ ব্যাংকের মাধ্যমে জঙ্গী অর্থায়নে যুক্ত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গত কয়েক বছরে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষভাবে অস্বীকার করলেও নির্বাচনে তাদেরকেই দলীয় প্রতীক দেয়া হয়েছে। অশ্লীল অভিনেত্রী শায়েলার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলেও সেটি দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল না। কিন্তু সায়লার মত প্রমাণিত জঙ্গিকে কিভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এ নিয়ে উদ্বিঘ্ন দেশের সচেতন মহল। তাদের মতে বিএনপি কোনভাবে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলেই জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।



নির্বাচন বার্তা