[…]জামায়াতের নেতারা ধর্মত্যাগ করেছেন, তাই মার্কা দেওয়া হয়েছে: জাফরুল্লাহ

জামায়াতের নেতারা ধর্মত্যাগ করেছেন, তাই মার্কা দেওয়া হয়েছে: জাফরুল্লাহ

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ , ১২:৫২ অপরাহ্ন
বিভাগ: ফিচার

জামায়াত নেতারা মার্কা নেয়ার মাধ্যমে ইসলাম ত্যাগ করেছে এবং ধর্মত্যাগের কারণে মার্কা দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ইশতেহার কমিটির প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের নেতারা ধর্মত্যাগ করেছেন, তাই মার্কা দেওয়া হয়েছে। এতে সমস্যার কিছু নেই।’ একাত্তরের বিষয়ে তারা নিশ্চয়ই ক্ষমা চাইবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রায় ২৫জন প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। জোটটির শীর্ষ নেতাদের একটি বড় অংশের সন্দেহ, জামায়াতের প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি। এর পেছনে বিএনপির হাইকমান্ডের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন ঐক্যফ্রন্টের কোনও-কোনও দায়িত্বশীল নেতা। ফলে মূল ক্ষোভটি সামগ্রিকভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

জামায়াতকে প্রতীক দেয়ায় সাধারণ ছাত্রছাত্রী, নারী ও তরুণ সমাজের মধ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশের এই অংশটি আর যাই হোক স্বাধীনতাবিরোধী ইস্যুতে সোচ্চার এবং মুক্তিযুদ্ধ দ্বারা প্রভাবিত। সিলেট বিএনপি থেকে জামায়াতকে কোনো প্রকার ছাড় না দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বার বার। গত সিটি নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার উদাহরণ দিয়ে জামাত বয়কট করতে আহবান জানিয়েছিলেন। সিলেটের মত রাজশাহী, সাতক্ষীরাসহ দলীয় প্রার্থীর বদলে জামায়াতকে মনোনয়ন দেয়া বেশিরভাগ এলাকায় জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বয়কটের বিষয়টি নিশ্চিত।

ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমত, জামায়াতের প্রার্থীদের বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীনদের সামনে নতুন ইস্যু ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পশ্চিম দেশসহ আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বিএনপির যে প্রচারণা এতদিন ছিল, তা ভেস্তে যাবে। আর এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পেছনে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনা থাকলেও সিনিয়র নেতারা চায় জামায়াতকে ধানের শীষ না দেওয়া হোক। প্রতীক বাতিল করে দিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে।

জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জোরালো আপত্তি থাকলেও বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের কনভিন্স করা হয়। যদিও বিএনপির বক্তব্যে সায় দিলেও তাদের আপত্তি এখন সন্দেহে রূপ নিয়েছে। ফ্রন্টের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, স্টিয়ারিং কমিটির সামনের বৈঠকেই বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

জামায়াত ইস্যুতে বিএনপিপন্থী ও তৃতীয় শক্তি প্রত্যাশী সুশীল সমাজ পড়েছেন বিপাকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-এসব আমাদের মৌলিক জিনিস। এসবে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের মনোনয়ন কোনোভাবেই দেওয়া ঠিক হবে না। ’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি শরিক দলের একজন শীর্ষ নেতা মনে করেন, ‘জামায়াতের যে ২৫ জনকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে, এরমধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর হচ্ছে ঢাকা-১৫ আসন। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই আসনে অবস্থান করায় এই আসনেই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানকে ধানের শীষ মনোনয়ন দেওয়ায় সন্দেহ আরও দানা বেঁধেছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এক নেতা মনে করেন, ‘পুরো প্রক্রিয়া স্যাবোটাজ করতেই জামায়াতের নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।’

কী কারণে তারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে, এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে অবশ্যই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ধানের শীষ প্রতীক নিয়েছি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে চলেছি। এখানে কোনও সমস্যা নেই।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘জামায়াত নামে কোনও দল নেই। জামায়াতকে বিএনপি দাড়িপাল্লায় মনোনয়ন দেয়নি, তারা ধানের শীষে মনোনয়ন দিয়েছে। সুতরাং তারা এখন বিএনপির প্রার্থী, জামায়াতের নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, ‘জামায়াতে বিএনপি না, বিএনপির মধ্যে জামায়াত বিলীন হয়ে যাচ্ছে, এটা তাদের বিষয়। যেহেতু আমরা বিএনপির জোটের শরিক নই, তাই এটা বিএনপি ভালো বলতে পারবো, কেন তারা জামায়াত নেতাদের ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছে।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধী বা জামায়াতের কোনও সম্পর্ক নেই।’

গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন কংগ্রেসে মৌলবাদী সংগঠন জামায়াত ও শিবিরকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য চলমান হুমকি উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।’

ঐক্যফ্রন্টের কোনও-কোনও নেতা এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখলেও বিএনপির কাছে তা পাত্তা পায়নি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির দু’জন সদস্য বলছেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নামে মূলত জামায়াতকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করেছে বিএনপি। এতে করে দেশে ও দেশের বাইরে পর্যাপ্ত সমালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দলের বর্তমান কার্যকর নেতৃত্বে জামায়াতের বিষয়ে নেতিবাচক থাকলেও কেন শেষ মুহূর্তে প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বিস্ময়কর। কোনও-কোনও ক্ষেত্রে ফ্রন্টের নেতাদের কাছে বিএনপির প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে কনভিন্স করানো হয়েছে। বিষয়টি কনভিন্সের নয়, ভবিষ্যতের প্রশ্ন। এই মুহূর্তে খুব ঘনিষ্ঠভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছে দু’টি রাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে এই প্রতীক বরাদ্দের কারণে। যদিও ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে, তাদের বাতিল করার।’

ফিচার - বিভাগের আরও সংবাদ



নির্বাচন বার্তা