গণফোরামের দুই সাংসদ শপথ নেবেন: সুলতান মনসুর; বিরোধী দল মূলধারা বিএনপি !

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম:
আপডেট সময়:জানুয়ারী ২৮, ২০১৯ , ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
বিভাগ: সংবাদ

গণফোরামের দুই সাংসদ শপথ নেবেন: সুলতান মনসুর
বিরোধী দল হিসেবে আসছে মোশাররফ-মওদুদ নেতৃত্বাধীন বিএনপি

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় নেতাদের অবস্থানকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্ধারিত নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন মৌলভীবাজার-২ থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান। খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির সমথর্ন দিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু ইতিমধ্যে শপথ নিয়েছেন।

এদিকে, বিএনপি প্রার্থীরাও দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিবেন বলে জানা গেছে। খন্দকার মোশাররফসহ বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা নিজেদের বিএনপির মূলধারা হিসেবে দাবি করে দল গঠন করতে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হলে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য ঐক্যফ্রন্টের অধীনে সুলতান মনসুর গণফোরামের প্রার্থী হন ধানের শীষ প্রতীকে এবং গণফোরামের অপর নেতা মোকাব্বির খানকে প্রার্থী হয়েছিলেন উদীয়মান সূর্য প্রতীকে।

রোববার সন্ধ্যায় নির্ধারিত এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‘বিএনপি কি করবে এটি তাদের বিষয়’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন শপথ নেব। এখনো সময় আছে। ৯০ দিনের মধ্যেই শপথ নিবো।’

শপথ গ্রহণে বিলম্ব প্রসঙ্গে সুলতান মনসুর বলেন, ‘আমি অসুস্থ, হাতে ফ্র্যাকচার। ব্যান্ডেজ লাগানো। সুস্থ হতে এখনো সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। শপথের তো এখনো বেশ সময় আছে। বিএনপি তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও সিদ্ধান্ত নেবে। ‘

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে তো সবাই আলাদা আলাদা দল। আমাদের সিদ্ধান্ত অবশ্যই পজেটিভ হবে।’

ধানের শীষ প্রতীকে আপনি নির্বাচিত হয়েছেন, এ ক্ষেত্রে আইনি কোনো সমস্যা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, ‘এটা কোনো সমস্যা হবে না। বিএনপি যদি সংসদে যেত, আর আমি যদি তাদের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিতাম সেক্ষেত্রে সমস্যা হতো। এখন যেহেতু বিএনপি সংসদে যাচ্ছে না, তাই আমার শপথে কোনো সমস্যা হবে না। আমি তো গণফোরামের প্রাথীর্ হিসেবে নিবার্চনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছি।’

সুলতান মনসুর বলেন, ‘আমার এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে সংসদে কথা বলার জন্য। তাদের জন্য কাজ করতেই আমাকে সংসদে যেতে হবে।’

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ধানের শীষ প্রতীকে জয় পান ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। ওই নিবার্চনে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি।

ইতোপূর্বে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো প্রাথীর্ ওই আসনে কখনো বিজয়ী হতে পারেননি। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে যখন বিএনপি সরকার গঠন করেছিল তখনো এ আসনে জামানত হারায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।

এদিকে যোগাযোগ করা হলে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের নেতা মোকাব্বির খান বলেন, ‘আমাদের দলের (গণফোরাম) প্রেসিডেন্ট চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে। তিনি আসার পর আমাদের দলীয় ফোরামের বৈঠক হবে। সেখানে শপথের বিষয়েও আলোচনা হবে।’

‘তবে এ বিষয়ে (শপথ) আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। ফোরামের সিদ্ধান্তও ইতিবাচকই হবে বলে আশা করি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ভাঙনের সৃষ্টি হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। তবে বিএনপি কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার।’

এদিকে বিএনপির প্রাথীর্রা শপথ নেবেন না বলে গত শনিবার আবারও জানিয়ে দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নয়াপল্টন কাযার্লয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি ৩০ ডিসেম্বর দেশে কোনো নিবার্চনই হয়নি। এই নিবার্চনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। সুতরাং শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না।’

অপরদিকে ২০-দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক এলডিপি সভাপতি কনের্ল (অব.) অলি আহমদ একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘শপথ নিয়ে আপনারা বেইমানি করবেন না।’

গত ৩০ ডিসেম্বর নিবার্চনে বিএনপির ৬জন ও গণফোরামের দুজন প্রাথীর্ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশের্দ মিল্টনের প্রাথির্তা বাতিল হওয়ায় ওই আসনে বিএনপি সমথর্ন দিয়েছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে।

তিনি বিএনপির সমথের্ন নির্বাচিত হলেও পরে বলেন, ‘আমাকে বিএনপি সমথর্ন দিয়েছে কি না জানি না।’ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি শপথ নেন বাবলু।

জানা গেছে, ৩০ শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিরোধ চরমে উঠেছে। সর্বশেষ ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুগপৎভাবে কাজ করতে খালেদা জিয়ার নির্দেশ সত্ত্বেও গতকাল বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের “জুস খেতে চান” বলে কটাক্ষ করেন।

ধারণা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপিতে হাফিজ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান ও সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বড় একটি অংশ যোগদান করবে।
উপজেলা নির্বাচনের আগেই এই মেরুকরণ ঘটলে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।



নির্বাচন বার্তা