হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আল্লামা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেছেন, ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলের নৃশংস গণহত্যা ও বর্বরোচিত আগ্রাসন বিশ্ব মানবতার জন্য চরম লজ্জার বিষয়। নারী, শিশু ও নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচার বোমাবর্ষণ, হাসপাতাল ধ্বংস এবং মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে ফিলিস্তিনের জনগণকে হত্যা করা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এলাহি কমিউনিটি সেন্টার সাভারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা জেলা উত্তরের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আলী আকবর কাসেমীর সভাপতিত্ব করেন।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ভারতে মুসলমানদের ওপর ক্রমাগত হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া, মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলা এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে এসব নিপীড়ন বন্ধ করুন এবং মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা করা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
মাওলানা রাব্বানী বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সমগঠন৷ হেফাজত রাজনীতি করে না। ক্ষমতায় যেতে চায় না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকে হেফাজতের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা পোষণ করতে হবে৷ হেফাজতকে পাশ কাটিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবেনা৷ তিনি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়৷ বরং ২০১৩ সালের ৫ মের শাহাদাত ও পরবর্তীতে ১৬ বছরের গুমখুন ও বন্দি দশা এ গণঅভ্যুত্থানের ভিত তৈরি করেছে৷ সুতরাং বাংলাদেশের রাজনীতি করতে হলে হেফাজতের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আলী আকবর কাসেমী বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার বিগত ১৬ বছর হেফাজতের উপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে৷ অসংখ্য কর্মীকে শহীদ করেছে৷ শহীদদের বিচারের আগে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, হেফাজতের ব্যানারে বাংলাদেশের সকল গণমানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। এ ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এ ঐক্যই ইসলামের বিজয়কে ত্বরান্বিত করবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা জেলা উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন সরকার, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা জেলা উত্তরের উপদেষ্টা মাওলানা আশিকুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুর মান্নান পাটোয়ারী, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম, সহসভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাসেমী, মুফতি আশরাফ আলী, মাওলানা ইলিয়াস কাসেমী, মুফতি ফারুক হোসাইন, মুফতি মাহফুজ হায়দার কাসেমী, মুফতি নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা খন্দকার কাউসার হোসাইন, মুফতি আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা আলী আকরাম, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা নাজমুল ইসলাম শাকিল, মাওলানা আলী আশরাফ তৈয়ব, মুফতি সুলতান মাহমুদ, মাওলানা আল আমিন খন্দকার, মুফতি মাহবুবুর রহমান গুলজার, মুফতি নজরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হক মনির প্রমুখ।