রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থিতিশীল করতে বিএনপি-জামাতের ৫০ লক্ষাধিক টাকা বিতরণ

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৮

বিশেষ প্রতিবেদন: বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার লক্ষে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে আন্দোলন তৈরির পরিকল্পনা চলছে কয়েক বছর ধরে। গত মাসে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নীতি নির্ধারকদের মধ্যে উত্তরা এলাকার একটি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকে আগামী নির্বাচনের জন্য কৌশল হিসেবে প্রস্তাব করেন। এ লক্ষে কয়েকজন নেতার উপর দায়িত্ব দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি এবং তার রেস ধরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ তৈরি সেই পরিকল্পনারই অংশ।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা সৃষ্টিতে বিএনপির খায়রুল কবীর খোকন, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শিরিন সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর নেতা এ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন ও মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের উপর বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জামাত নেতা সেলিম উদ্দিন গত ৭ দিনে ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতার মাধ্যমে ছাত্র শিবির ও ছাত্রী সংস্থাসহ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের কাছে ৫০ লক্ষাধিক টাকা পাঠিয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের নেপথ্যে চাঞ্জল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না থাকলেও ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রীসংস্থার নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের এনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন ছবি ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বহিরাগতদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর সূত্র ধরে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আবু হোরায়রাসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ছাত্রশিবির নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাসার সিদ্দিকী, মির্জা গালিব, মাসুদ, ইমরান, মাহাদী, নাসরিন ও ইডেন কলেজের পপি আক্তারকে আন্দোলন সংগঠিত করতে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে মাহবুব আলম, সাগর, সেলিনা সুলতানা, তরিক, রঞ্জু, শওকত আরা, ঊর্মি, নার্গিস, মৌসুমি ও ইডেন কলেজের পপি আক্তার ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।

ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকাণ্ড না থাকলেও যাদের নাম জানা গেছে তাদের মধ্যে আদনান, মুস্তাকিম বিল্লাহ, জিয়াদ, মির্জা গালিব, মেহেদী হাসান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ও বায়েজীদ অন্যতম।

ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের মধ্যে নাঈমা, ফারজানা ও তানজিনা, জান্নাত সীমা, কলি, মাহমুদা ও মাইমুনা আক্তারের নাম জানা যায়।

সর্বশেষ সংবাদের জানা গেছে, উপাচার্যের বাসায় আক্রমণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ঢাকার একটি রেস্তোঁরায় যেখানে বিএনপি নেতা মনির হোসেন ও জামাতের রেজাউল করিম সহ তিন জন আন্দোলনকারী উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. নজরুল ইসলামকের কাছে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা রাখার গৌরবাজ্জল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নামে যেভাবে উপাচার্যের উপর হামলা চালানো হয়েছে তা কখনোই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই উগ্র উচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।


আরও সংবাদ