শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

হরিপুরে একই নামে একই স্থানে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৮

মোঃ আবু সালেহ্ মুসা (ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি) ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৫নং হরিপুর সদর ইউনিয়নে তোররা সাতাহাজারা গ্রামে ১শ ফিটের ব্যবধানে একই নামে একই স্থানে মুখোমুখি গড়ে উঠেছে দুটি তোররা সাতাহাজারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

একই নামে একই স্থানে মুখোমুখি বিদ্যালয় দুটির একটি ২০০২ এবং অপরটির ২০০৯ সালে স্থাপিত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয় দুটিতেই নিয়মিতভাবে পাঠদান চলছে । ২০০২ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি টিন, খড় ও টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট। এর প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা, সহকারি শিক্ষক শিক্ষিকা হলেন, সলাইমান আলী, রাজিয়া সুলতানা ও ফাতেমা খাতুন। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩৭ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে চলছে পাঠদান।

স্কুলের সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, ২০০২ সালে তোররা সাতাহাজারা নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৩৩ শতক জমি দান করে রেজিষ্ট্রী করে দিয়েছি। সেখানেই পাঠদান চলছে। ২০০৯ সালে স্থাপিত অপর বিদ্যালয়টি ৩৩ শতক জমির উপর ৪ কক্ষ বিশিষ্ট। এটির প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষিকা লাকী, হাসিনা কবির মুনি ও মারুফা বেগম।

প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে মঞ্জুরীপ্রাপ্ত হয়ে পাঠদানের অনুমতি পাই। সেসময় থেকে অদ্যবধি সুনামের সাথে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি।

১৫১ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে পরিচালিত বিদ্যালয়ে প্রতি বছর সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা ভাল ফলাফল করছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টির নামে উক্ত স্থানে ৩৩ শতক জমি প্রতিষ্ঠানটির নামে রেজিষ্ট্রী করে দিয়েছি । সেখানে ঘর তৈরী করে চলছে স্কুলের পাঠদান। পূর্বে এখানে কোন বিদ্যালয় ছিলো না। প্রতিপক্ষরা ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমাদের বিদ্যালয়টির সামনে ১শ ফিট দুরত্বে একই নামে হঠাৎ করে ঘর বানিয়ে স্কুল চালাচ্ছে। এর কারণ কি তা আমরা কেউ জানি না ।

একই নামে একই স্থানে দুটি স্কুল হওয়ায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার মনজুরুল ইসলাম বলেন, তোররা সাতাহাজারা নামে সেখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে যার প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। এই বিদ্যালয়টিতে আমরা বই সরবরাহ করেছি এবং প্রতি বছর ছাত্রছাত্রীরা বার্ষিক ও সমাপনী পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। এখানে আর কোন বিদ্যালয়ের অনুমোদন নেই। পাশে অন্যেরা আর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বানিয়েছে যার কোনো তথ্য বা দলিল আমাদের দফতরে নেই ।
এদিকে প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানার স্কুলের কোন ছাত্রছাত্রী সরকারের সরবরাহকৃত বই বিতরণ হয়নি। একই নামে একই স্থানে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কিভাবে চলছে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজার রহমান নতুন এসেছেন বলে মন্তব্য করে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা এম.এ.এস রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

এম.এ.এস রবিউল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে তোররা সাতাহাজারা নামে স্থাপিত বিদ্যালয়টি হচ্ছে একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের মাধ্যমে এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমতি পায় এবং ডিআরভুক্ত হয়।

একশ ফুটের ব্যবধানে একই নামে দুটি স্কুল থাকা নিয়ে অনেকেই উদ্বিঘ্ন। এ বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি করছেন এলাকাবাসী।


আরও সংবাদ