শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

ব্যারিস্টার তাপসের নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকার উন্নয়ন

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২০
শেখ ফজলে নূর তাপস

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনি ইশতেহারে সরকারের বিগত ১১ বছরে যেসব উন্নয়ন কাজ হয়েছে সেসবের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তাপসের ইশতেহারে সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু কাজের ধারাবাহিকতা রাখার পাশাপাশি সেসব উন্নয়ন কাজের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে।

এলইডি বাতি স্থাপন

দক্ষিণ ঢাকার সড়ক আলোকিত করতে বিগত চার বছরে ডিএসসিসি এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির ৪১ হাজার ১৩৩টি এলইডি সড়ক বাতি লাগানো হয়েছে। এছাড়া নবগঠিত ১৮টি ওয়ার্ডে ১৫ হাজার এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

রাস্তা, নর্দমা, ফুটপাথ উন্নয়ন ও সংস্কার

সরকার ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ৬৬৯ দশমিক ৯১ কিলোমিটার রাস্তা, ৬৩১ দশমিক ৭০ কিলোমিটার নর্দমা, ১৩৩ দশমিক ১৬ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৬০০ কিলোমিটার রাস্তা, ৫০০ কিলোমিটার নর্দমা এবং ১০০ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দয়াগঞ্জে নির্মিত আধুনিক পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস চালু করা হয়েছে। ধলপুর, লালবাগ ও গণকটুলিতে ছয়তলা বিশিষ্ট ৬টি নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৬টির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

নবসংযুক্ত ৮টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড

৭৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া এলাকায় ১৬৭ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৮ দশমিক ৮১ কিলোমিটার ফুটপাত ও ১৭১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ৫১৫ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মান্ডা, ডেমরা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও ইউনিয়নের জন্য ৮১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা, ৬১ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার নর্দমা, ৭ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফুটপাথ, ১২টি আরসিসি ব্রিজ, ৩৮৩ মিটার অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

খেলার মাঠ-পার্ক উন্নয়ন

ডিএসসিসির ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ফুল, বিনোদনের রাইড, ওয়াকওয়ে, ব্যায়ামাগার, কফি হাউজ ও গ্যালারিসহ নানাবিধ সুবিধা সম্বলিত ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ বিশ্বমানে উন্নীত করার কাজ চলছে। এরই মধ্যে ১০টি উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে ঢাকা দক্ষিণ এক নতুন দৃষ্টিনন্দন রূপ লাভ করে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়কে শৃঙ্খলা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ডিএসসিসি মেয়রের নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করেছে তার কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে নগর পরিবহনগুলো ৬টি কোম্পানির আওতায় ২২টি রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যাত্রী ছাউনি নির্মাণ

নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৮টি আধুনিক যাত্রী ছাউনী নির্মিত হয়েছে। আরও ২টির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ

নিরাপদে সড়ক পারাপারে নতুন ৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ৭টি নির্মাণাধীন রয়েছে। পুরানো ১৬টি ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে।

যানজট নিরসনে পদক্ষেপ

নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২০ দশমিক ৩০ কিলোমিটার রোড মিডিয়াম নির্মাণ এবং ফুটপাতে ১৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গার্ড রেল স্থাপন, ১০ কিলোমিটার রাস্তায় রোড মার্কিং, ১২২টি জেব্রা ক্রসিং ও ২২০টি ট্রাফিক সাইন স্থাপন করা হয়েছে। ৭ কিলোমিটার রোড মিডিয়াম সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। ৪০টি ট্রাফিক সিগন্যাল সচল করে সোলার প্যানেল, কাউন্ট-ডাউন টাইমার ও অটো ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর ৮টি স্থানে ৫৬০টি অনস্ট্রিট পার্কিং চালু করা হয়েছে। ১৮টি ইন্টারসেকশন উন্নয়ন এবং ১২টি নতুন ইন্টারসেকশন ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ টন গৃহস্থালী বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৮০০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ১০ টন ক্ষতিকর মেডিক্যাল বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মত পরিশোধন ও অপসারণ করছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কর্মস্থলে হাজিরা নিশ্চিত করতে ‘সিম ট্র্যাকিং’ চালু করা হয়। বর্জ্যের কন্টেইনার সড়কে রাখার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা হিসেবে ২১টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে সমাজের সব্স্তরের মানুষদের সম্পৃক্ত করে প্রতীকী পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়- যা ‘গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ অর্জন করে।

বর্জ্য অপসারণে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ

বর্তমানে ব্যবহৃত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল বর্জ্য অপসারণের সুযোগ সীমিত হওয়ার আগেই ‘মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ

জন-নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ বড় বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সচেষ্ট রয়েছে।

সৌন্দর্য বর্ধনে ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন

নগরীর সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রেখে ব্যবসায়ীদের পণ্যের প্রচারের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ। স্থানসমূহ যেমন- পান্হকুঞ্জ পার্ক, গাউছিয়া মোড়, রাসেল স্কয়ার, তাঁতিবাজার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ৯টি বড় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপনসহ সহস্রাধিক বক্স এলইডি বোর্ড বসানো হয়েছে। এ সকল বিলবোর্ডে সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারিত হয় ।

অনলাইন হোল্ডিং ট্যাক্স অটোমেশন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা

করদাতারা ঘরে বসেই যাতে হোল্ডিংট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশোধ করতে পারেন সে জন্য অটোমেশন পদ্ধতিতে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি গ্রহণ ও নবায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পৌরকর মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ

সদরঘাট এলাকায় একটি ৬ তলাবিশিষ্ট ভবন আধুনিকায়ন করে বৃদ্ধাশ্রম চালু করার কাজ চলমান রয়েছে। এটি চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে।

বিনামূল্যে দাফন ও শেষকৃত্যর ব্যবস্থা

বিনামূল্যে করপোরেশনের কবরস্থানে দাফন এবং শশানঘাটে শেষকৃত্যানুষ্ঠান ব্যবস্থা রাখাসহ বেওয়ারিশ লাশ দাফনের ব্যয় করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল হতে দেওয়া হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন

অত্যাধুনিক ‘কোল্ড মিলিং মেশিন’ এবং ড্রেনে জমাট হয়ে থাকা আবর্জনা অপসারণ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

গণশৌচাগার নির্মাণ

নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য এ পর্যন্ত ২৫টি স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। পুরানো ৭টি গণশৌচাগার সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০টির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আর জলসবুজে ঢাকা প্রকল্পের আওতায় নির্মাণধীন ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠেও পাবলিক টয়লেট সুবিধা যুক্ত রয়েছে।

মশক নিধন কার্যক্রম

মশার বংশ বিস্তার রোধে ও মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে লার্ভিসাইডিং স্প্রে এবং ফগিং-এর নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম

নাগরিকদের সামাজিক নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ছয়তলা বিশিষ্ট কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। আরও কয়েকটির কাজ চলমান রয়েছে। আজিমপুর কবরস্থানে অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মাণ, ঢাকেশ্বরী মন্দির সংস্কার, মিরনজল্লা সুইপার কলোনিতে একটি মন্দির নির্মাণ ও পোস্তগোলা শশানঘাট সংস্কার করা হয়েছে। জুরাইন ও মুরাদপুর কবরস্থানের উন্নয়নের কাজ চলছে। ২১টি ব্যায়ামাগার, ১২টি সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘ঢাকা উৎসব-২০১৭’ আয়োজন করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কল্যাণ কর্মসূচি

মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। আজিমপুর ও জুরাইন কবরস্থানে দাফনের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অর্ধেক ভাড়ায় কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খাল দখল মুক্তকরণ ও সংস্কার

মান্ডা খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। কুতুবখালী খাল পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা প্রশাসন, ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে হাজারীবাগের কালুনগর খালসহ অন্যান্য খাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ

ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য কল সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ঔষধ ও ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে ২৩ লাখ রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। মাতুয়াইলে মা ও শিশু মাতৃসদন নির্মাণ করা হয়েছে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনার জন্য ৩টি ওয়্যার হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৫টি ওয়ার্ডে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪টি এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আধুনিক জবাইখানা নির্মাণ

হাজারীবাগ ও কাপ্তানবাজারে ২টি অত্যাধুনিক জবাইখানা নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

তথ্য ও যোগাযোগে প্রযুক্তির উন্নয়ন

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল হাজিরা, লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম, ই-টেন্ডারিং, লাইভ মনিটরিং চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নগর ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নাগরিক সেবা প্রদান-সংক্রান্ত কল সেন্টার চালু করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয় কেন্দ্র

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে আশ্রয় দানের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে সদরঘাটে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তাপস যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে কিন্তু শেষ করতে হবে। নুতন মেয়র এসে যদি প্রতিশ্রুতিগুলো এগিয়ে নেন তাহলে নগরীর পরিবর্তন আসবে।


আরও সংবাদ