রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ

দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১

আবারও ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাশকতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত চক্র। দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের ছদ্মবেশে পেশীশক্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ছক বাস্তবায়নের গোপন বৈঠক করেছে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের মদতপুষ্ট সাবেক কর্মকর্তারা।

গত ১৬ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিলের আড়ালে একটি রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধানমন্ডির একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে আওয়ামী বিরোধি প্রায় ২০০ রাজনীতিবীদ, বুদ্ধিজীবী প্রাক্তন সামরিক এবং বেসামরিক আমলাদের এই সম্মেলন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিমের আহ্বানে এই সুধী সমাবেশ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হলেও এর মূল উদ্যোক্তা ছিলো জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত ডাকলে অনেকেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না, এজন্য কল্যাণ পাটির নেতা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিমকে ভাড়া করে জামায়াত। হোটেলে ভাড়া, খাবার খরচ ইত্যাদি সবই দেওয়া হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।

বিএনপি মহাসচিব বৈঠকে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, মাঝপথে তাকে জানানো হয়, এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করেছে জামায়াত। এ তথ্য জানার পর সৈয়দ ইবরাহিমের বৈঠকে আর যাননি মির্জা ফখরুল।

কারণ, তিনি ক’দিন আগেই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। যদিও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তালিকাভুক্ত রাজাকার রুহুল আমিনের পুত্র মির্জা ফখরুলের মুক্তিযোদ্ধা দাবির বিপরীতে। এ মুহূর্তে জামায়াতের সাথে তাকে দেখা গেলে সেটা নিয়ে সমালোচনা হতো, তাই তিনি যাননি।

যদিও বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্না (যিনি জামায়াতের সাথে ছিলাম না, এখনও নেই বলে দাবি করেন), গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী (জামায়াতের প্রতিটি সভায় উপস্থিত থাকেন যিনি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল (জামায়াতের আবাসিক বুদ্ধিজীবী হিসেবে বেতনভুক্ত) প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সরকারবিরোধি অভিন্ন প্লাটফরম থেকে ঐক্যের ডাক দেন।

এদিকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পতনের জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এই বৈঠকে সাবেক সেনাকর্মকর্তাদের সহায়তা চেয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব, এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এজন্য সারা দেশের মানুষকে মোটিভেট করতে হবে। সারা দেশের মানুষকে বুঝিয়ে তাদের দিয়ে একযোগে হুংকার তোলাতে হবে।’ আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক এবং ইউটিউবে গুজব ও উগ্রতা ছড়িয়ে মানুষকে সাময়িকভাবে ক্ষেপিয়ে তুলে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পটভূমি প্রস্তুত করছে এই চক্রটি।

এই সিন্ডিকেটের যোগসাজসে গত কয়েক মাস ধরে ফেসবুক-ইউটিউবে রাষ্ট্রবিরোধী-সরকারবিরোধী, এমনকি সেনানিবাস নিয়েও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে একটা হঠকারী পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে কয়েকজন দণ্ডিত, পলাতক ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা। বিভিন্ন মনগড়া গুজব ছড়িয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরেই বিভ্রান্তের চেষ্টা করছে এরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত এক যুগে বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশকে, আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত করার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে এখন আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এই স্বাধীনতাবিরোধী এই চক্রটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতে এই উদ্যোগ কতটা সফল হয় সেটাই দেখার বিষয়।


আরও সংবাদ