রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন

একজন জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি!

ইবার্তা টুয়েন্টিফোর সম্পাদকীয় ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১

আমরা শাহবাগের যে স্থানটিকে আমরা শিশু পার্ক নামে জানি, তা ছিল রেসকোর্স ময়দানের অংশ। স্বাধীনতার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের নামকরণ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
আজ যে স্থানটিতে শিশু পার্ক অবস্থিত সেখানে ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। এ স্থানটিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন এবং এই স্থানটিতেই পাক-হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল।

১৯৭৯ সালে সেই ঐতিহাসিক স্থানটিতে শিশু পার্কে পরিণত করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিধি ছোট করে আনা হয়। জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী এক সাক্ষাতকারে জানান, শিশু পার্ক উদ্বোধনের পর জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “মুসলমানদের পরাজয়ের শেষ চিহ্নটি মিটিয়ে দিলাম।”
সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী আরও বলেন, পৃথিবীর কোথাও মুসলমানদের পরাজয়ের চিহ্ন নেই, ছিল শুধু এই দেশে। সেই চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য রাষ্ট্রপতি জিয়া এখানে শিশু পার্ক তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

যে উদাহরণ দিয়েছে, সেটাই জিয়াউর রহমানের প্রকৃত চরিত্র। জীবনের বেশিরভাগ সময় পাকিস্তানে অতিবাহিত করা জিয়া বাংলা লিখতেও পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিয়ার পেশাগত দায়িত্ব ছিল কিনা তাও এক প্রশ্ন! তাই পরবর্তি সময়ের কার্যকলাপও প্রশ্নবিদ্ধ থেকেছে।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য ও পাকিস্তান ফেরত সেনাসদস্যদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টিতে সুচতুর ভূমিকা রাখে জিয়াউর রহমান। ৭৫ এর পর মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তারা জিয়ার চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায় এবং ক্ষমতা দখলের জন্য জিয়া ১৩ জন সেক্টর কমান্ডারের ১০ জনকেই কৌশলে সরিয়ে দেয়। রাজাকারদের পুনর্বাসন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে জিয়ার নির্দেশে ক্যু এর অভিযোগে যাদের হত্যা করা হয় তাদের অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তারাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

বঙ্গবন্ধুর সরকার স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করা ১৪ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দান করা ব্রিগেডিয়ার জহুরুল আলম খান সহ ১৪ জনকেই জিয়া সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীতে আত্মীকরণ করে।

সেনাপ্রধান হওয়ার পর থেকেই জিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজাকারদের পুনর্বাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা ব্যক্তিদের কোণঠাসা করতে শুরু করে জিয়া। জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নাগরিকত্বহীন গোলাম আজমের সন্তানকে দেশের গৌরব সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়।

হ্যাঁ/না ভোটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে বৈধতা দিতে মাঠে নামিয়েছিলেন রাজাকার শাহ আজিজকে। ১৯৭৮ সালের ২৯ জুন উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে জিয়া ২৮ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করেন এবং বিশ্বের বিস্ময়ের মত প্রধানমন্ত্রী করা হয় শাহ আজিজকে। স্থান পায় ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মোহন মিয়া ও রসরাজ মণ্ডল।

রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়া ৭৬ সদস্যের বিএনপি নামের দল গঠন করেন। তরুণ প্রজন্মকে পাকিস্তানপন্থী বানাতে ছাত্রদলের সমন্বয়কের ভূমিকাও অর্পণ করেন শাহ আজিজকে। তার গঠিত বিএনপির নীতি ও শর্ত ছিল যেন একটিই – আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী হতে হবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, যার বাবা-মায়ের কবর পাকিস্তানে, যার সন্তানদের জন্ম পাকিস্তানে, যার জীবন-যৌবন কেটেছে পাকিস্তানে, সেই জিয়া পাকিস্তানের বিরোধিতা করলে কোন মাত্রায় করবে, তার জবাব আমরা পেয়েছি রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়ার বিতর্কিত ভূমিকার মাধ্যমে।


আরও সংবাদ