সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

রাজস্ব আদায়ে কাস্টমসের গতিশীলতা বাড়াতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সুভাষ হিকমত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১
PM Chatroligue

রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশ কাস্টমসের গতিশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে তিনি এই তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২১ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (ডব্লিউসিও) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই সংস্থাটি আধুনিক ও সহজতর উপায়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এর সদস্যভুক্ত দেশেগুলোকে নেতৃত্ব, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানসহ বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বছর কোভিড-১৯ সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটির সদস্যভুক্ত ১৮৩টি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুসংহতকরণের লক্ষ্যে টেকসই সাপ্লাই চেইনের ওপরে জোর দিয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘কাস্টমস ব্লস্টারিং রিকোভারি, রিনিউয়াল অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ফর এ সাসটেইনেবল সাপ্লাই চেইন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও শিল্পায়নের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেন। ফলে দেশে রাজস্ব আদায়ের বহুমুখী খাত সৃষ্টি হয়। জাতির পিতার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে মাত্র সাড়ে তিন বছরেই যু্দ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ রূপান্তরিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে পরপর তিন দফা সরকার গঠন করে সমগ্র দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘কাস্টমস আইন, ১৯৬৯’ রহিত করার লক্ষ্যে যুগোপযোগী, সহজ, সমন্বিত ও সুসংহত নতুন কাস্টমস আইন, ২০২০ চূড়ান্ত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক মহামারিতে বাংলাদেশ কাস্টমসের সদস্যরা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে রাজস্ব আদায়, আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে সাপ্লাই চেইন নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কাস্টমস মডর্নাইজেশন স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান, ২০১৯-২০২২ গ্রহণ ও ব্যবসায়ীদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রদানের লক্ষ্যে ৩৮টি ভিন্ন মন্ত্রণালয়/সংস্থার সমন্বিত সেবা কার্যক্রম ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো বাস্তবায়ন শুরু করেছি।’

 

বৈশ্বিক অভিযোজনমূলক পদক্ষেপগুলো ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই দায়ী বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে গৃহীত অভিযোজনমূলক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ বিশ্ব নেতৃত্ব হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

নেদারল্যান্ডস সরকারের উদ্যোগে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের অনলাইন জলবায়ু অভিযোজন সামিট (সিএএস) ২০২১-এ প্রচারিত দুই মিনিটের রেকর্ড করা ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সম্মেলনে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট স্বাগত বক্তৃতা দেন।

এই শীর্ষ সম্মেলন বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো একটি নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। যার লক্ষ্য হলো বিশ্বকে জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে, ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার প্রক্রিয়াও অনুরূপ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অর্থ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বৈশ্বিক অভিযোজনমূলক পদক্ষেপগুলো ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সাম্প্রতিককালের কোভিড-১৯ এর অভিজ্ঞতা সবার জন্য একতাবদ্ধ হওয়া এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের জন্য বাংলাদেশকে প্রায়শই ‘গ্রাউন্ড জিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়ভাবে গৃহীত অভিযোজনমূলক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ বিশ্ব নেতৃত্ব হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় আমরা বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনা- ২১০০ গ্রহণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তার সরকার সারাদেশে সাড়ে ১১ মিলিয়ন গাছের চারা রোপন করেছে এবং ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। বন বিনিয়োগ পরিকল্পনানুযায়ী বাংলাদেশ খসড়া জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ইউএনএফসিসিসি প্রক্রিয়ার মূল দলিল হবে ।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের গৃহীত স্থানীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে আমাদের নিজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল থেকে ৪৪৩ মিলিয়ন ডলারের ৭৮৯টি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’ অধিকন্তু, সিভিএফ (জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ ফোরাম) এর সভাপতি এবং অভিযোজন সম্পর্কিত গ্লোবাল সেন্টারের দক্ষিণ এশীয় কার্যালয়ের হোস্ট হিসাবে ‘আমরা স্থানীয়ভাবে গৃহীত অভিযোজন পদক্ষেপগুলো প্রচার করছি যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝুকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য সুস্পষ্ট সমাধান দিতে পারে।’


আরও সংবাদ