মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
বিএনপির ঐতিহাস ৭ই মার্চ পালন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির আরেকটা প্রচেষ্টা মাত্র বাক স্বাধীনতার নামে দেশবিরোধী চক্রের গুজব সন্ত্রাস লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল : আরও যোগ্য হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের প্রতিটি ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ : বাংলাদেশে ডাকটিকিট অবমুক্ত বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের চক্রান্তের স্ক্র্যাপ ও খুনিদের পুনর্বাসন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর কালজয়ী এই ভাষণ বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষকে সবসময় প্রেরণা যুগিয়ে যাবে দীর্ঘদিন পর গণভবনের বাইরে এসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সফল তিন নেতার একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ৭ মার্চের ভাষণ : পটভূমি ও তাৎপর্য

বিশ্বের অর্থনীতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২১

বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন আলোচিত ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স’। তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ঝেড়ে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের অগ্রযাত্রার রহস্য বুঝতে চান সবাই। এ আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা অর্থনীতিবিদরাও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ নিয়ে। কারণ বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতোই।

বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পাট রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম এবং উৎপাদনে দ্বিতীয়, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ, ছাগল উৎপাদনে চতুর্থ, চাল উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে ষষ্ঠ, ক্রিকেটে সপ্তম, আম উৎপাদনে সপ্তম, জনশক্তিতে অষ্টম, বাইসাইকেল রপ্তানিতে অষ্টম, আউটসোর্র্সিংয়ে অষ্টম, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে অষ্টম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, মৌসুমি ফল উৎপাদনে দশম স্থানে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের এখনকার সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় করোনাভাইরাস মহামারী। সেখানেও বাংলাদেশের মিলেছে সাফল্যের স্বীকৃতি।

মহামারী মোকাবিলায় সফল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে ২০তম স্থান পেয়েছে একটি র‌্যাংকিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ডাটা মিডিয়া ব্লুমবার্গ বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী ২০তম ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্লুমবার্গের স্বীকৃতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ব্লুমবার্গ কেবল দেশের অর্থনৈতিক সফলতা দেখেই রিপোর্টটি করেনি, প্রতিষ্ঠানটি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, টিকাদান সক্ষমতা, চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি মেট্রিক্স বিবেচনা করে এ ফল ঘোষণা করেছে।

মহামারীর ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি যখন পর্যুদস্ত তখন বড় ধরনের কোনো সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্য। মহামারী পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতির তুলনা করলে দেখা যাবে আমরা পাশের দেশগুলোর তুলনায় ভালো করেছি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির মতো উন্নয়নসহযোগী সংস্থাসমূহও বিদায়ী বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করেছে।

বাংলাদেশের সাফল্যের অগ্রযাত্রা সামনে যে আরও উজ্জ্বল হবে সে ইঙ্গিতও দিচ্ছে নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ বলছে, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে, তারই পূর্বাভাস দিয়ে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২১’ নামের এ প্রতিবেদনে ১৯৩টি দেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সিইবিআর বলছে, ২০২০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি আছে ৪১ নম্বরে। ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তি।

সিইবিআরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে। লন্ডনের প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের অনেক বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করলেও তারা সাফল্যযাত্রা বুঝতে ভুল করেনি। তাই তো প্রায় এক যুগ আগে ‘আউট অব দ্য বাস্কেট’ নিবন্ধে ইকোনমিস্ট বলেছে, ‘কী করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়ার মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায়, তাও দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।


আরও সংবাদ