1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
সম্ভাবনাময় ‘নীল অর্থনীতি’ পাল্টে দিবে বাংলাদেশের অর্থনীতি - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
সম্ভাবনাময় ‘নীল অর্থনীতি’ পাল্টে দিবে বাংলাদেশের অর্থনীতি - ebarta24.com
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

সম্ভাবনাময় ‘নীল অর্থনীতি’ পাল্টে দিবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২১

বিশ্বব্যাংকের মতে, ‘নীল অর্থনীতি হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নততর জীবিকা সংস্থান এবং কাজের লক্ষ্যে সামুদ্রিক প্রতিবেশের উন্নয়ন। সুন্দরবন থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন অবধি আমাদের সমুদ্র তটরেখা (৭১০ কিলোমিটার) প্রসারিত। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ ও পশ্চিমে প্রবাল রয়েছে আর সেই সাথে রয়েছে কচ্ছপ প্রজননোপযোগী পরিবেশ। এছাড়া বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক শৈবালও এখানে রয়েছে। সুন্দরবন আবার রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও কুমিরের লীলাভূমি।
নিকট অতীতে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের সীমানা নিয়ে আমাদের বিরোধ ছিল। ২০১২ সালে ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে’র একটি রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সমুদ্র সীমানার বিরোধ মীমাংসিত হয়। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডের দ্য হেগে ‘পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন’ বা ‘স্থায়ী আদালতে’ একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে আমাদের সমুদ্র সীমানার বিরোধ মীমাংসিত হয়।
দুই রায়ের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৩ বর্গমাইল এলাকার সমপরিমাণ আঞ্চলিক সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল সমপরিমাণ ‘একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন-ইইজে)’ এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল এলাকার সমপরিমাণ মহীসোপান-সহ চট্টগ্রাম উপকূলের সামুদ্রিক যত প্রাণসম্পদের ওপর বাংলাদেশ তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে।
সমুদ্র অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে সরকার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন এবং কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে ১২০ কিলোমিটারের পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈতক- কক্সবাজার। এই সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারলে গোটা বাংলাদেশই বদলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার ও প্রবাল দ্বীপ সেন্টর্মাটিনকে আর্কষণীয় করে তুলতে পারলে এ অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁডাবে ১৬০ কোটি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। এছাড়াও বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৮ সালের মধ্যে এ শিল্প হতে ২৯ কোটি ৭০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ১০.৫ ভাগ।
আগামী এক দশকে জাহাজ নির্মাণ শিল্প বাংলাদেশে আরও বিকশিত হবে। সমুদ্র সংশ্লিষ্ট পর্যটন শিল্প আরও ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া ঝিনুক, সামুদ্রিক মুক্তাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক সম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যবসাও সামনে বৃদ্ধি পাবে।
‘নীল অর্থনীতি’র বিকাশে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ
১. বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনায় আগামিতে সমুদ্রে মাছ ধরা, সমুদ্র ভ্রমণ জাতীয় খাতে অর্থনীতির অধিকতর বিকাশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে [সূত্র: সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ]।
২. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র থেকে জানা যায় , এ পর্যন্ত (২০১৯) বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের আওতায় প্রায় ৯০টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
৩. ইতোমধ্যে দেশের আটটি উপকূলীয় এলাকায় মোট ৩৮টি স্পট ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
৪. ২০১৪ সালে ঢাকায় বঙ্গোপসাগকে কেন্দ্র করে ‘নীল অর্থনীতি’র বিকাশে সংশ্লিষ্ট অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়। বাংলাদেশ ‘ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশনে’র একটি সদস্য রাষ্ট্রও বটে।
৫. সমুদ্র তটরেখার অপরিমিত বাতাসকে টারবাইনের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুতে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনাও আমাদের রয়েছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ৮৫ প্রজাতির পাখি ও ১২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।
৬. বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত মাছ আমাদের মোট বার্ষিক মাছ শিকারের ২০ শতাংশ এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
৭. লবণ তৈরিতে সমুদ্রের পানি থেকে ছোট পরিশোধনকারী কিছু ইউনিটের মাধ্যমে বাংলাদেশ লবণ তৈরি করে থাকে। তবে এর পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে [টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- বাংলাদেশ সরকারের অগ্রগতি প্রতিবেদন, ২০২০]।
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট ম্যাগনেসিয়ামের ৫০ শতাংশই আসে সামুদ্রিক উৎস থেকে। সমুদ্র থেকে আহরিত ম্যাগনেসিয়াম লবণ এয়ারক্রাফট নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পটাশিয়াম লবণ সার ও নানা ধরনের রসায়ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। ওষুধ তৈরিতে ব্রোমিন এবং ওয়াল বোর্ড নির্মাণে জিপসাম ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইড খাবার লবণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সমুদ্র থেকে জীবনরক্ষাকারী নানা ধরনের ওষুধ পেতে পারি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার কম্পাউন্ড সমুদ্র থেকে পাওয়া গেছে। আগামী প্রজন্মের ওষুধের জোগান আসবে সমুদ্র থেকেই।
উপকূলীয় পর্যটন, জাহাজ নির্মাণ ও মাছ আহরণ জাতীয় শিল্পগুলোর আরও বিকাশ ও একইসঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিবেশের সুরক্ষার মাধ্যমে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ তার ‘নীল অর্থনীতি’র অধিকতর বিকাশের পথ সুগম করতে পারে।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021