1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
রেকর্ড সংখ্যক প্রবাসী কর্মীর ঢল - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
রেকর্ড সংখ্যক প্রবাসী কর্মীর ঢল - ebarta24.com
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

রেকর্ড সংখ্যক প্রবাসী কর্মীর ঢল

প্রবাস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২২

প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের বিদেশমুখী অভিবাসন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মী নিয়োগের লক্ষণীয় বৃদ্ধির সুবাদেই হচ্ছে এ উন্নতি।
গেল বছরের ডিসেম্বরে ১ লাখ ৩১ হাজার অভিবাসী কর্মী বিদেশের কর্মস্থলে যোগ দিতে যান। যাদের বেশিরভাগই ছিল স্বল্প-দক্ষ (অদক্ষ বলেই অভিহিত করা হয় যাদের)। এটি ছিল বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ অভিবাসনের ঘটনা।

এর আগে সর্বোচ্চ শ্রম অভিবাসনের রেকর্ড হয়েছিল ২০১৭ সালের মার্চে, সে সময় ১ লাখের কিছু বেশি কর্মী বিদেশে পাড়ি জমান।

জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতির চাঙ্গাভাব, কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিধিনিষেধের কড়াকড়ি শিথিল হওয়ায় বিদেশে কর্মসংস্থান প্রত্যাশীরা তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছে।

এছাড়া, সৌদি কোম্পানিগুলোতে অভিবাসী বাংলাদেশিদের নিয়োগের কোটা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়ানোও এই রেকর্ড বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে বলেও জানান তারা।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বলেন, “মহামারিকালে ৪ লাখ অভিবাসন প্রত্যাশী দেশত্যাগ করতে পারেননি। এখন তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে। শ্রমিক অভিবাসনের প্রবণতা ধীরে ধীরে মহামারি পূর্ব অবস্থানে ফিরছে, যা আমাদের জন্য সুখবর।”

তিন বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় আগামী মাসগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

মহাপরিচালক আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা বেশিরভাগ অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি করছি। তবে স্বাস্থ্য কর্মীসহ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এনিয়ে আমরা কয়েকটি গন্তব্য দেশের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক প্রেসিডেন্ট আবুল বাশার জানান, অভিবাসন প্রত্যাসীদের টিকার আওতায় আনায় তাদের গন্তব্য দেশগুলোতে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

এরআগে ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী মহামারির চরম সংকট কালে মুখ থুবড়ে পড়ে বিদেশে চাকরির বাজার। তবে ২০২১ সালের আগস্ট নাগাদ তা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তারপর থেকেই অব্যাহত রয়েছে কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। ফলে প্রায় মহামারি পূর্ব সময়ের মাত্রায় ফিরছে জনশক্তি রপ্তানি।

২০২১ সালে প্রায় ৬ লাখ ১৭ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে চাকরি পেয়েছেন। মহামারির আগের বছর ২০১৯ সালে নতুন কর্মী নিয়োগের এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখের বেশি। ভ্রমণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধের কড়াকড়িতে ২০২০ সালে এই সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজারে নেমে আসে বলে বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে।

মহামারি হানা দেওয়ার আগে, প্রতি মাসে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিদেশ যেতেন, বেশিরভাগই যেতেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে।

গেল বছরে বাংলাদেশিদের জন্য শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। মোট বৈদেশিক চাকরির ৭৪ শতাংশই হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে। এরপর যথাক্রমে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সিঙ্গাপুর, জর্ডান ও কাতার।

ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ সংখ্যক বা ৮৭ হাজার ২১২ জন কর্মী সৌদি আরবে যান। আমিরাতে যান ১৪ হাজার ৯২৬ জন। ওমানে ১৪ হাজার ৯২২, সিঙ্গাপুরে ৬ হাজার ৫৩৬, জর্ডানে ১ হাজার ৯৭১ এবং কাতারে গিয়েছেন ১ হাজার ৪৩০ জন।

ফোর-সাইট ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী শাহাদত হোসেন বলেন, “সৌদি আরব এবং ওমানে যারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে গেছেন। এসব কাজে মাসিক বেতন ২০-২৭ হাজার টাকা। এছাড়া, আরব আমিরাতে কেউ কেউ সিকিউরিটি গার্ড ও ড্রাইভারের চাকরি পেয়ে গেছেন, তারা মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা পাবেন।”

এছাড়া কিছু দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান বা রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার টেকনিশিয়ান হিসেবে বিভিন্ন দেশে গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)- এর তথ্যানুসারে, ২০২১ দেশের মোট অভিবাসী কর্মীদের ৭৪ শতাংশই হলেন অদক্ষ।

গেল বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বিএমইটি প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রামরু জানিয়েছে, “২০২১ সালে আধা-দক্ষ কর্মী রপ্তানিতে নিম্নগামী প্রবণতা দেখা যায়। এসময় মোট বিদেশগামী কর্মীর ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ ছিলেন আধা-দক্ষ, যা ২০১৯ সালে ছিল ১৪ শতাংশ। সে তুলনায় বেড়েছে অদক্ষ কর্মীদের বিদেশ যাত্রা। ২০২১ সালে ৭৪ শতাংশ স্বল্প-দক্ষ কর্মী দেশের বাইরে যান, যা ২০১৯ সালে ছিল ৪১ শতাংশ।”

২০২১ সালে বিদেশ যাওয়া দক্ষ কর্মীর পরিমাণ ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ৪৪ শতাংশ।

এবিষয়ে রামরু’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, “গেল বছরে শ্রমিক অভিবাসন ছিল মহামারির আগের সময়ের চেয়ে সামান্য কম। তবে চলমান মহামারির কথা বিবেচনায় নিলে, এই হার মন্দ বলা যায় না। কোভিডের কারণে নির্দিষ্ট কিছু খাতে দক্ষ কর্মীর অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু, দক্ষ কর্মীদের বিদেশ যাত্রা কমে যাওয়ায় এটাই প্রমাণ হয়, বাংলাদেশ সে সুযোগ নিতে পারেনি।”

এদিকে, গত শনিবার রেমিট্যান্সের ওপর দেওয়া প্রণোদনা আগের ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মেয়াদে প্রবাসী আয় প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ কমার পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানাল সরকার।

তাসনীম সিদ্দিকী মনে করেন, সরকারের এ উদ্যোগে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। তবে তিনি প্রণোদনা ৪ শতাংশ করার পরামর্শ দেন।

সরকারি তথ্যানুসারে, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশির বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখের কর্মসংস্থান হয় ২০১৭ সালে।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021