1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

নতুন আঙ্গিকে আসছে ‘৯৯৯’

নিজেস্ব প্রতিবেদক : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’ ক্রমেই মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষকে আরও দ্রুত সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে জাতীয় এই সেবা ইউনিটকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কয়েক বছরে জাতীয় সেবা নম্বর মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু বিড়ম্বনা ও প্রতিবন্ধকতাও আছে। সেগুলো দূর করতে নতুন করে সাজানো হচ্ছে পুলিশের এই ইউনিটটিকে।

‘৯৯৯’ নম্বরের প্রতি মানুষের আস্থা যে বাড়ছে, সেটা আরও স্পষ্ট হয় গত বছরের অক্টোবরের দুটি ঘটনায়। একই মাসে কয়েকদিনের ব্যবধানে ঘটনা দুটি ঘটে সাতক্ষীরা ও বরিশালে। ২০ অক্টোবর বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের এআরখান বাজারে চুরি করতে গিয়ে একটি দোকানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এক চোর। চুরি করা মালামাল গুছিয়ে ব্যাগ ভর্তি করতে তার বেশি সময় লেগেছে। সময় গড়িয়ে সকাল হয়ে গেছে। সকাল হলে লোকজন দোকানের পাশে অবস্থান টের পায় চোর। এ অবস্থায় সেখান থেকে বের হলে, তার রক্ষা হতো না। তার জীবনের ঝুঁকি ভেবে এ সময় নিজেকে উদ্ধার করতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান তিনি। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তার এসব কথা শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা কিছুটা অবাক হয়েছেন। পরে তাকে চুরি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর ঠিক ১০ দিন পরেই (৩০ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামেও ঘটে একই রকম ঘটনা। সেদিন রাতের আঁধারে অন্যের ঘেরে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন পাঁচ ব্যক্তি। পাশের ঘেরে পাহারায় থাকা ব্যক্তি টের পেয়ে ফোনে মালিককে জানিয়ে দেন। তিনি লোকজন নিয়ে এসে ধাওয়া দিলে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে গণপিটুনি থেকে বাঁচতে তাদের মধ্যে একজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। দিয়ে বললেন, ‘খুব বিপদে আছি’। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ওই পাঁচ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবার ভরসা এখন সরকারি জরুরি সেবা ‘৯৯৯’। ‘চোরদের’ দুই ঘটনা কিছুটা ব্যতিক্রম হলেও এমন আরও হাজার হাজার গল্পের সাক্ষী হচ্ছেন সংস্থাটিতে কর্মরতরা। বাল্যবিবাহ, গৃহকর্মী নির্যাতন, পারিবারিক নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা ও নৌদুর্ঘটনাসহ যে কোনও বিপদে মুহূর্তের মধ্যে সাড়া দিচ্ছে ‘৯৯৯’।

জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ কল সেন্টার থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে চলতি (২০২২) বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯-এ সারা দেশ থেকে মোট ৪ কোটি ২৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৬৩টি কল এসেছে। তবে এর মধ্যে কোনও কারণ ছাড়াই ‘অহেতুক কল’ এসেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার ৯০টি। আর যারা সত্যিকার অর্থে সেবা পাওয়ার জন্য ফোন করেছেন তাদের মধ্যে সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৩ জনকে। এসব কলের মধ্যে মিসকল দিয়েছে ৪৩ লাখ ৬ হাজার ৮৫টি। ব্লাংক কল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার ৩০৯টি।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাইনে জরুরি প্রয়োজনে সেবা পেতে আসা কলগুলোর মধ্যে পুলিশি সহায়তা পেতে কল এসেছে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৩টি। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯১ হাজার ১০৮টি ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮২টি কল আসে।

৯৯৯ এর কলারদের মধ্যে ৭৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮৭ জন পুরুষ, ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৭ জন শিশু এবং ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯২৮ জন নারী। তাছাড়া সেবা নিতে ডিপার্টমেন্টাল কল এসেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৩৯টি।

নতুন বছরে এই জরুরি সেবা ইউনিটটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে উল্লেখ করে সংস্থাটির প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তাবারাক উল্লাহ বলেন, ‘নতুন বছরে নতুনভাবে আমাদের পদচারণা বাড়বে। অতীতেও ৯৯৯ সেভাবে কাজ করে আসছে। একটি সুসংবাদ হচ্ছে, চলতি মাসেই আমরা ৯৯৯-কে  নতুন কাজের উপযোগী হিসেবে দাঁড় করাচ্ছি।’

নতুন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এতদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেবা নিতে ফোন দিলে আমরা প্রথমেই কলারের ঠিকানা সম্পর্কে জানতে চাইতাম। এতে করে সময় অপচয় হতো। যে ব্যক্তি সাহায্য চাইছেন ওনার হয়তো তাৎক্ষণিক সাহায্য প্রয়োজন। অথচ তখন কিছুটা সময় সেখানে ব্যয় হয়। ফলে প্রতিটি কলের দ্রুত রেসপন্স করার জন্য এখন থেকে কল করার সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তির আইডেন্টিফিকেশ, লোকেশন এবং অবস্থান ৯৯৯ নাইনে চলে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘এতে করে আমাদের রেসপন্স টাইম কমে যাবে। সেবাটা আরও দ্রুত হবে। এটি একটি নতুন বছরের জন্য নতুন সংবাদ।

তবে সেবা দিতে গিয়ে এই ইউনিটটিকে বিভিন্ন বিড়ম্বনাও পোহাতে হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষের অসচেতনতার জন্য কোনও কোনও সময় আমরা সার্ভিস দিতে বাধাগ্রস্ত হয় এবং হচ্ছি। ৯৯৯-এ সাধারণ মানুষ ফোন দেয় সেবা নেওয়ার জন্য। কিন্তু অনেকে আছে ফোন দিয়ে অযথা কথা বলতে চান। তার সার্ভিসের দরকার নেই, তারপরও কথা বলতে চাই। ফোন দিয়ে শুধু শুধু ডিস্টার্ব করে। এ বিষয়গুলো আমাদের কাছে মাঝে মাঝে বিড়ম্বনা মনে হয়।’

আবার লোকবল সংকটেও অনেক সময় সেবা দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যিনি যেখানে বিপদে পড়বেন তিনি সেখান থেকে সাহায্য চেয়ে কল দেন। তার কাছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়াটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং একটি চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। জরুরি সার্ভিসের জন্য আরও সহজ হতো, যদি থানার টহল গাড়ির সংখ্যা, থানার জনবল বাড়ানো যেতো। অর্থাৎ লজেস্টিক সাপোর্টের কথা বলছি। আমাদের যে লজিস্টিক সাপোর্ট রয়েছে, এসব দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবাটা পৌঁছানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

জাতীয় পুলিশ টেলিকম সংস্থা জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক (এডমিন) মিজান আহাম্মেদ বলেন, ‘আমাদের ১০০ জনের একটি টিম ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে রয়েছেন। যারা শুধু সেবার জন্য আসা কলগুলো রিসিভ করেন। এছাড়া আরও চার জন রয়েছেন যারা এই ১০০ জনের কাজ দেখভাল করেন। আমাদের কাছে যখন সাহায্য চেয়ে ফোনে আসে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’

‘অহেতুক’ কলের কথা উঠে আসলো এই কর্মকর্তার কথাতেও। তিনি বলেন, ‘সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আমরা অত্যান্ত সম্মানের সঙ্গে কথা বলি। অথচ মাঝে-মাঝে এমন এমন কল আসে, বিরক্তিকর। কোন কারণ ছাড়াই অহেতুক ফোন দেয়। মাঝরাতে অযথা ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করে।’

সংস্থাটির জনসংযোগ ও মিডিয়া শাখার পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, ‘সরকারের এই বিভাগটি একেবারে আলাদা। এখানে সাহায্য নিতে সাহায্য চাইতে কেউ দ্বিধাবোধ করে না। সবসময় চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। আমরা সবসময় আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করি।’


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ