1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি শেফের ‘বাইডেন বিরিয়ানি’  - ebarta24.com
  1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি শেফের ‘বাইডেন বিরিয়ানি’  - ebarta24.com
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২২ অপরাহ্ন

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি শেফের ‘বাইডেন বিরিয়ানি’ 

প্রবাস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৩

তার রেস্তোরাঁ ও দোকানে ৮৫ জনেরও বেশি বাঙালি অভিবাসী কাজ করেন। খলিল সম্প্রতি নিউইয়র্কে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস—২০২২’ জিতেছেন। এই প্রথম যুক্তরাজ্যের বাইরের কোনো শেফ এই পুরস্কার পেলেন। অসামান্য কমিউনিটি সার্ভিস এবং সমাজে অবদানের জন্য এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন।

কালো স্যুট, ইস্ত্রি করা সাদা শার্ট আর মেরুন সিল্কের টাইয়ের ধোপদুরস্ত খলিলুর রহমানকে প্রথম দেখায় রান্নাঘরের বদলে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী হিসেবেই মানানসই লাগে।

পুরস্কার বিজয়ী এই শেফ যখন তার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার ‘বাইডেন বিরিয়ানি’ সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করেন তখনও মাথা থেকে এই ব্যবসায়ীর ছবিটি ঝেড়ে ফেলা কঠিন।

২০২০ সালে বাইডেন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক হিসেবে খলিল এটি উদযাপনের এক নিখুঁত আইডিয়া বের করেন।

তিনি একটি নন-ভেজ বিরিয়ানি তৈরি করেন এবং এর নাম দেন রাষ্ট্রপ্রধানের নামে। এই খাবারটিকে অন্যান্য বিরিয়ানি থেকে যে জিনিসটি আলাদা করে তা হলো মশলার মিতব্যয়ী ব্যবহার। যার ফলে এটি সব ধরনের জিহ্বার জন্য মানানসই হিসেবে খাপে খাপ মিলে যায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লোকজনের জন্য।

‘সিনেটর এবং কংগ্রেস সদস্যরা প্রায়ই আমার রেস্তোরাঁয় আসেন এবং আমি এটা বলার জন্য গর্বিত যে, আমি যা পরিবেশন করি সেটি তারা পছন্দ করেন,’ বলে জানান খলিলস ফুডের মালিক ও সিইও মো. খলিলুর রহমান।

খলিলুর রহমানের এই যাত্রা আমেরিকান ড্রিমকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার এক বাস্তব উদাহরণ। বর্তমানে তিনি খলিল বিরিয়ানি হাউস, খলিল পিজ্জা অ্যান্ড গ্রিল, খলিল হালাল চাইনিজ এবং খলিল সুইট অ্যান্ড বেকারি নামে চারটি রেস্তোরাঁর মালিক। তাদের মধ্যে তিনটি ব্রঙ্কসে, অন্যটি জ্যামাইকায়।

তার রেস্তোরাঁ ও দোকানে ৮৫ জনেরও বেশি বাঙালি অভিবাসী কাজ করেন। খলিল সম্প্রতি নিউইয়র্কে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস—২০২২’ জিতেছেন। এই প্রথম যুক্তরাজ্যের বাইরের কোনো শেফ এই পুরস্কার পেলেন। শেফ খলিলুর রহমান তার অসামান্য কমিউনিটি সার্ভিস এবং সমাজে অবদানের জন্য এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন।

‘মহামারী চলাকালীন আমরা নিউ ইয়র্ক সিটির আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খাবার দান করেছিলাম। আমি বিশ্বাস করি আপনি যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, এক পর্যায়ে তা বহুগুণ বেড়ে আপনার কাছে ফিরে আসবে,’ খলিলুর রহমান জানান।

বাংলাদেশের বিমা কর্মকর্তা থেকে নিউইয়র্কের থালাধোয়া কর্মী

‘আমি ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) পাওয়ার আগে একটি বিমা কোম্পানিতে কাজ করতাম। এটা খুব খারাপ ছিল না, কিন্তু আমি আরও বড় কিছু করতে চাচ্ছিলাম,’ অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন খলিল।

প্রথমে, তিনি নিউ ইয়র্কের একটি রেস্তোরাঁয় থালা ধোয়ার কাজ করতেন। ছয় বছর ধরে তিনি থালা ধোয়ার পাশপাশি রান্নাঘরের সাহায্যকারী, কসাইয়ের ডানহাতসহ অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করেছেন।

‘এই ছয় বছর পর শেষমেশ বুঝতে পেরেছিলাম আমি আসলে কী করতে চাই: আমি একজন ব্যবসায়ী হতে চেয়েছিলাম এবং নিজের রেস্তোরাঁ খুলতে চেয়েছিলাম,’ খলিল জানান। কিন্তু রেস্তোরাঁ খোলার জন্য অর্থ এবং রন্ধনসম্পর্কীয় দক্ষতা প্রয়োজন।

শীঘ্রই তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য ভর্তি হন নিউ ইয়র্কের কুলিনারি ইনস্টিটিউটে। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কজুড়ে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করে। কোর্সটি শেষ করতে তার চার বছর সময় লাগে। ২০১৮ সালে তিনি শেফ হিসেবে বের হন। ‘আমি আমার ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার জন্য একটি শিক্ষাঋণ নিয়েছিলাম। আমাকে এখনও ২৪ হাজার ডলার শোধ করতে হবে,’ হাসতে হাসতে জানালেন খলিল।

২০১৭ সালে পড়াশোনা চলাকালেই তিনি ব্রঙ্কসের এক কোণে খলিল বিরিয়ানি হাউস নামে একটি ছোট রেস্তোরাঁ খোলেন।

‘এখন যখন পেছনে ফিরে তাকাই, একে প্রায় স্বপ্নের মতো মনে হয়। একদম নিখুঁত আমেরিকান স্বপ্ন। আমি কখনোই আমার বর্তমান অর্জনগুলো নিয়ে স্বপ্নেও ভাবিনি। যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসা, আমার আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি—কোনো কিছুই এখানে কোনো ব্যাপার নয়। একটি টেকসই ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নিজেকে একেবারে নতুন জিনিস শেখানোর প্রয়োজন ছিল আমার। তারপরে সুযোগগুলোর সাথে সাথে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং পেশাগত দক্ষতা যখন আসতে শুরু করল, আমি সেগুলোকে দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলাম,’ খলিল বলেন।

সম্প্রতি তিনি খলিল ফুড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর লক্ষ্য হলো নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা নতুন দেশের আসার পর এই প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে। ‘বর্তমানে আমার হয়ে ৮৫ জন কর্মী কাজ করছে, সবাই বাংলাদেশি। আমি নিজেই তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’

‘আমি মনে করি আমার জীবন তাদের শেখাতে পারে যে কোনো পেশাই তুচ্ছ নয়। কঠোর পরিশ্রম সাফল্য নিয়ে আসে, তা যা-ই হোক না কেন। এছাড়াও আমি আশা করি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার আমেরিকান এবং ইউরোপীয় টেবিলে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে,’ তিনি যোগ করেন।

তার মতে, ব্রঙ্কসের খলিল বিরিয়ানি হাউস নিউইয়র্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশি রেস্তোরাঁয় পরিণত হয়েছে।

খাবারের সূক্ষ্মতার প্রেমে

খলিল বলেন, বাংলাদেশি খাবারে যে ধরনের খাবারের প্রাধান্য রয়েছে তা মশলায় পরিপূর্ণ, এবং তা এতটাই যে এগুলো নিজেরাই একেকটা খাবার হয়ে উঠেছে, কেবল স্বাদ বাড়ানোর উপাদান নয়।

কথোপকথনের সময় খলিল দুটি ক্যাপুচিনো অর্ডার করেন। যদিও তিনি তার কাপের ক্যাপুচিনোতে এক প্যাক ব্রাউন সুগার নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন, আমার জন্য দুটো প্যাকেটও যথেষ্ট ছিল না। স্পষ্টতই, তিনি সূক্ষ্ম স্বাদ পছন্দ করেন।

‘আমি প্রথাগত নিয়মগুলো বদলাতে চাই এবং প্রমাণ করতে চাই যে সূক্ষ্মতা হলো ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবারের চাবিকাঠি,’ খলিল বলেন। তিনি নিউইয়র্কে গত ১৪ বছর ধরে ফিউশন ফ্লেভার তৈরিতে কাজ করছেন।

‘বাংলাদেশি খাবারগুলো বহুজাতির নিউইয়র্ক সিটিতে একটি সুন্দর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। খলিল রেস্তোরাঁ হলো চূড়ান্ত সাফল্যের গল্প যা রাস্তায় ঝাঁক বেঁধে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশি খাবারের ওপরে উঠে গেছে,’ তিনি গর্ব করে জানালেন।

খলিল বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশি খাবারে স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করা এবং তাজা উপাদানের ব্যবহারই তার সাফল্যের চাবিকাঠি: ‘গ্রাহকরা আমার রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যবসায়িক নীতিগুলোকে বিশ্বাস করে।’

ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে একটি রন্ধনপ্রণালী প্রতিষ্ঠান খুলতে চান, যেখানে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের রান্না শেখানো হবে। যেখানে শেফদের মূলমন্ত্র হবে: সূক্ষ্মতাই রান্নার চূড়ান্ত সৌন্দর্য।

তাহলে, এর মানে কি তিনি একদিন বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান?

খলিল এই মুহূর্তে যেখানে আছেন তাতে খুশি, কিন্তু একদিন তিনি দেশে ফিরে আসতে চান। ‘আমি যদি বাংলাদেশে থাকতাম, তাহলে আমি এখন যেখানে আছি সেখানে আমি কখনোই পৌঁছতে পারতাম না। কাগজপত্রের ঝামেলা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক চাপ এবং আইনশৃঙ্খলার অভাব একজন ব্যক্তির জন্য ওখানে বেড়ে ওঠা কঠিন করে তোলে, যদি না তারা কোনো প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসে,’ তিক্ততা নিয়ে খলিল বলেন।

খলিল বাংলাদেশে তার কাজের স্বীকৃতি পাচ্ছেন এবং এটাই এখন তার জন্য যথেষ্ট।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
ebarta24.com © All rights reserved. 2021