1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
টিসিবির ভালো পেঁয়াজ পঁচা দেখিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি  - ebarta24.com
  1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
টিসিবির ভালো পেঁয়াজ পঁচা দেখিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি  - ebarta24.com
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

টিসিবির ভালো পেঁয়াজ পঁচা দেখিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি 

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩

সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারের চাহিদা মেটাতে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে কয়েকটি খাদ্য পণ্য বিক্রি করে। আগে খোলা ট্রাকে বিক্রি করা হলেও এখন স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছ থেকে কার্ড পাওয়া সাপেক্ষে ডিলারের দোকান থেকে কিনতে হয় তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ।

অভিযোগ আসে গরীব মানুষের জন্য সরবরাহ করা এইসব পণ্য ডিলাররা বেশি দামে বিক্রি করে দেন আড়তদারদের কাছে। পরিচয় গোপন করে টিসিবি’র পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে প্রমাণ মেলে এই অভিযোগের।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫৮ নং ওয়ার্ডে জুরাইনের বিক্রমপুর প্লাজার পিছনে বউ বাজার, সেখানকার পাইকারি একটি দোকানে টিসিবির পণ্য বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে সরাসরি কথা বলা হয় আড়তদারের সাথে। মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে দেখা মেলে টিসিবির বেশ কয়েক বস্তা পেঁয়াজ।

এরপর রাতে ঐ টিসিবির পণ্য ক্রয় করার জন্য আবারও দোকান মালিক মজিবরের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন প্রতিবেদক। ফোন কলে বোঝা যায় তার পাশে থাকা টিসিবির ডিলার মমিনের কাছ থেকেই তিনি পেঁয়াজ সংগ্রহ করে মজুত করেছেন। এমনকি টিসিবির গাড়ি রাতে আসবে বলেও জানান তিনি।

যে কথা সেই কাজ, হোটেলে কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে পরদিন পেঁয়াজ কেনার উদ্দেশ্যে দোকানে গিয়ে দেখা মেলে মালিক মজিবরের। টিসিবির ২০ থেকে ২৫ বস্তা পেঁয়াজ দেখান মালিক নিজেই। দামাদামির মধ্যেই টিসিবির ডিলারকে ফোন করেন মজিবর। তার সাথে কথা বলে দাম নিশ্চিত হয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩২ টাকা দরে ক্রয় করেন প্রতিবেদক। যে পেঁয়াজ টিসিবির কার্ডধারী গরীব মানুষের পাওয়ার কথা ২০ টাকা দরে।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকিতে দেয়া পণ্য এভাবে বাইরে বিক্রয় করা হয়। টিসিবির সরবরাহ করা দুই বস্তা পেঁয়াজ মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ থেকে ক্রয় করা হয়। আড়তদার মজিবর আশ্বস্ত করেন টিসিবির যত মালামাল প্রয়োজন হবে তার কাছ থেকে নেওয়া যাবে। অবৈধ হলেও বিষয়টি এমন ওপেন সিক্রেট যে ক্যাশম্যামোতে টিসিবির পেঁয়াজ ৯৬ কেজি লিখলেন নির্দ্বিধায়।

দুইবার ছদ্মবেশে তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহের পর তৃতীয়বার আড়তদার মজিবরের দোকানে ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান খোলা রেখে পালায় মজিবর এবং তার কর্মচারীরা। কিন্তু দুদিন আগেই ওই দোকান থেকে টিসিবির দুই বস্তা পেঁয়াজ কেনেন এই প্রতিবেদক।

টিসিবির পেঁয়াজ অবৈধভাবে বিক্রিতে অভিযুক্ত মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের ঠিক ২০০ বা ৩০০ মিটারের মধ্যে টিসিবির ডিলারের দোকান সৌরভ রাইস, যার মালিক মোহাম্মাদ মমিন। মুঠোফোনে মজিবরের কাছ থেকে টিসিবির পেঁয়াজ কেনার কথা বললে ডিলার মমিন বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে সামনাসামনি সাক্ষাতে অস্বীকার করেন বিষয়টি।

এদিকে, টিসিবির পণ্য সকাল ৯ টা বা ১০ থেকে বিক্রি শুরু করে সূর্যের আলো থাকা অবস্থায় শেষ করার নিয়ম থাকলেও মধ্য রাতেও চলে বিকি-কিনির কারবার।

জুরাইন বউ বাজারে আরেক টিসিবির ডিলার মা টেলিকম, যার মালিক মোকলেছুর রহমান। টিসিবির পণ্য দোকান বা গুদামে সংরক্ষণের শর্ত থাকলেও তিনি পণ্যগুলো মজুত করেছে বউ বাজার মুরগী পট্টির উন্মুক্ত জায়গায়।

যেহেতু টিসিবির পণ্য কাউন্সিলরের দেখভাল করার কথা। তাই এবিষয়ে কথা বলতে ৫৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শফিকুর রহমান সাইজুলের মোবাইলে কল করেও না পাওয়ায় তার অফিসে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও সাক্ষাৎ মেলে না তার। অফিসের সচিব রফিকুল ইসলাম জানান কাউন্সিলর বেশ অসুস্থ তাই অফিসে আসেন না, করো সঙ্গে দেখা করেন না।

পণ্য অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির বিষয়ে কথা হয় টিসিবি প্রধান কার্যালয়ের মুখপাত্র মোঃ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। তিনি জানান ডিলার পেঁয়াজ পঁচা জানিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির অনুমতি নিয়েছেন।

টিসিবি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী পেঁয়াজ পঁচা হলে তা আরো কম দামে বিক্রি হবার কথা কিন্তু পাইকারিতেই ২০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা কেজি দরে। আর খুচরায় তা প্রায় ৪০ টাকা। আর মজিবরের আড়তে টিসিবির পেঁয়াজগুলোর কোয়ালিটি ছিল বেশ ভালো। মূলত গরীবদের ঠকিয়ে বাড়তি মুনাফার জন্য টিসিবি ডিলারদের এমন কারসাজি।

নিম্নআয়ের মানুষের কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকার ভর্তূকি দিয়ে পণ্য সরবরারহ করছে। কিন্তু টিসিবির কিছু অসাধু ডিলারের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য ন্যায্যমূল্যের খাদ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র টিসিবির পণ্য বাইরে চড়া দামে বিক্রি করে কামিয়ে নিচ্ছেন অর্থ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
ebarta24.com © All rights reserved. 2021