1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশ নিয়ে এগিয়ে থাকুন - ebarta24.com
  1. alamin@ebarta24.com : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. online@ebarta24.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. reporter@ebarta24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. news@ebarta24.com : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশ নিয়ে এগিয়ে থাকুন - ebarta24.com
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:১০ অপরাহ্ন

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশ নিয়ে এগিয়ে থাকুন

গোলাম সারোয়ার
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৩

জুলিয়াস সিজার রোমে ফিরছে পম্পেইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়ে। রোমবাসীদের জন্য এটি একটি বিশেষ দিন। তাই অনেকেই নিজেদের সবচেয়ে ভালো জামাকাপড় পরে রাস্তায় নেমেছে সিজারকে সম্মান জানাতে। কিন্তু প্রতিটি জয় একটি জাতির সব মানুষের জয় নয়। এটা দুঃখজনক হলেও সত্য। জাতীয় বিজয়ের দিনেও অনেকে হারে। যেমন আমাদের বিজয়ের দিনেও আমাদেরই জাতির অনেকে হেরেছিলেন। ভারতের বিজয়ের দিনে বহু ভারতীয় হেরেছিলেন, এমনকি আমেরিকার বিজয়ের দিনেও বহু আমেরিকান হেরেছিলেন।

ইতিহাসের কোনো কোনো পর্যায়ে এই সব পরাজিত মানুষও আবার জাতির নেতৃত্বে চলে যেতে পারেন। সেটা দুঃখজনক, তবে ঘটে। ইতিহাসের বাস্তবতা কখন কোন দিকে মোড় নিবে বলা মুশকিল। আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো ব্রিটেন থেকে। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য করেছিলো ফ্রান্স। সেই ফ্রান্সকে ফেলে ওই ব্রিটেনের সাথেই আমেরিকার এখন সবচেয়ে ছন্দময় সম্পর্কের সময় যাচ্ছে। ভারত স্বাধীন হয় ব্রিটেন থেকে। ভারত স্বাধীনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তি ছিলো ইতালি, জার্মানি এবং জাপান। তারা পরাজিত হয়। কিন্তু তাদেরই যুদ্ধ ব্রিটেনের কলোনিগুলোর স্বাধীনতার পথ তৈরি করে। অথচ ভারতীয়দের এখন সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে ব্রিটেনের সাথে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর গদিতেও বসে আছেন এখন একজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্রিটিস।

নিজেদের দেশের কথা এখনো বলার সময় হয়নি। ইতিহাসের নির্মোহ পরিণতি লিখতে হলে সময় লাগে। আমাদের নির্মোহ ইতিহাস লিখার সময় এখনো আসেনি। আমাদের সময়ে যদি আসে তবে তা বলবো একদিন। যা বলছিলাম। জি, জুলিয়াস সিজার বিজয়ী হয়ে রোমে ফিরছে। রোমবাসী সীজারের সম্মানে রাস্তায় নেমে এসেছে। কিন্তু সিজারের বিরোধীরা এই আয়োজনে খুশি নয়। তারা চায় না সিজারের সমর্থনে নগরে এমন জমকালো আয়োজন হোক। তাদের ভিতরে মেরিউলাস ও ফ্লেবিয়াসের ঘোর আপত্তি। তারা মানুষকে ভৎর্সনা করছে, তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করছে। তারা মানুষকে অসন্তুষ্ট হয়ে জিজ্ঞেস করছে কেন তারা তাদের কাজকর্ম বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমেছে।

এই সময়ে একজন মুচি মজা করে বললো, যত লোক রাস্তায় নামবে ততই তার ভালো। কারণ মানুষ যতবেশি রাস্তায় নামবে ততই মানুষের জুতো বেশি বেশি ক্ষয় হবে। ফলাফলে তার আয় বাড়বে। এটা হলো পরিস্থিতির প্রফিট উঠানো। মানে পরিস্থিতির অনুগামী হয়ে লাভবান হওয়ার তরিকা। সিজারের ঘটনা কেন বললাম? কারণ আছে। কারণ আমাদের সাথেই এই ঘটনা যায়। চলমান সরকার যখন ক্ষতায় আসে তখন তারা একটি রূপকল্প হাতে নিলো, ‘জিজিটাল বাংলাদেশ’। এই রূপকল্প নিয়ে তারা যখন জাতির সামনে হাজির হলো তখন তরুণরা এই স্বপ্নে অংশগ্রহণ করলো। যারা অংশগ্রহণ করলো, তারা আজ মঞ্জিলে পৌঁছে গেছে।

আর কিছু মানুষ আছে তারা তখন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলে কটাক্ষ করতো। তারা মূলত পিছিয়ে পড়েছে। মজার ব্যাপার হলো, অনেকে আছে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু তারা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্পে অংশগ্রহণ করেছে। তারাই বরং সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। এটাই হলো আসল কথা। আপনি যে মতাদর্শেই বিশ্বাসী হন না কেন, রাষ্ট্রটা আপনার। সরকার আপনার প্রতিনিধিত্ব করে। আপনি এই রাষ্ট্রের অংশীজন। প্রতিটি সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের আপনি লাভের অংশীদার। মনে রাখবেন, আপনি অংশগ্রহণ করেন বা না করেন রাষ্ট্র কিন্তু এগিয়ে যাবে। পৃথিবী এগিয়ে যাবে। পৃথিবী সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। আপনি অংশগ্রহণ না করলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

এই কথাগুলো এখন কেন বলছি? বলছি, সরকার নতুন টার্গেট শ্লোগান আরম্ভ করেছে। সেটা হলো ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। হ্যাঁ, এখানেও যারা অংশগ্রহণ করবে তারা এগিয়ে যাবে। আবার অনেকে এখানেও মজা করবে, কটাক্ষ করবে। তারা পিছিয়ে পড়বে। পিছিয়ে পড়ে শুধু সমালোচনা করা যাবে। মঞ্জিলে পৌঁছা যাবে না। একটা শ্লোগান মানে তো আর শুধু শ্লোগান নয়। এগুলো হলো রাজনৈতিক দর্শনের ‘কী ওয়ার্ড’। মানে এই একটি শ্লোগানকে কেন্দ্র করে অসংখ্য প্রকল্প শুরু করা হবে। আপনাকে মনে ধারণ করে সেগুলোতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

সিজারের বিজয় র‌্যালিতে যে মুচি গিয়েছিলো সে মজা করে যা বলেছিলো তা সত্য। সে পরিস্থিতি থেকে লাভবান হতে চেয়েছিলো। কিন্তু শেক্সপিয়ারের সেই মুচি সিজারের বিজয়ের মহত্বে অভিভূতও ছিলো, আর তাই সে সিজারের বিজয় উৎসবে যোগ দিতেই পথে নেমেছিলো। একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার জনগণ। জনগণ যদি দেশের প্রতিটি ভালো কাজে অংশগ্রহণ করে তবে তা ফলপ্রসূ হবেই। বিশেষ করে তরুণরা যখন কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে তবে তার বিজয় অবশ্যম্ভাবী। সরকারকে ধন্যবাদ, তারা নতুন নতুন চিন্তা প্রবর্তন করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের তরুণ সমাজকে বলবো, আপনি অংশগ্রহণ করুন। আপনার উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করুন।

লেখক : গোলাম সারোয়ার – কলামিস্ট ও অনলাইন এক্টিভিস্ট 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
ebarta24.com © All rights reserved. 2021