সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

জামাতের টাকার লোভে মোল্লা জামাল সহ কয়েক মৌলভীর কোরআনের সুরা বিকৃতি ও রাসুল (স:) অবমাননা

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
জামাতের তিন কোটি টাকার লোভে চার মৌলভীর কোরআন ও রাসুল (স:) এর জীবনী বিকৃতি

১৯৮৮ সালে গোলাম আযম এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, সুরা বাকারার শেখ চারটি আয়াত প্রথমে দেয়া উচিত ছিল। এবার অতীত ইতিহাস ভুলে কয়েকজন ওয়াজকারীর সাথে তিন কোটি টাকার চুক্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে কোরআনের বিকৃতি ও রাসুলের নামে মিথ্যাচারের অপচেষ্টা করছে। অনুসন্ধানে সুরা আনফালের বিকৃতি করার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে একজন আলেম সাঈদীকে নবী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরোক্ষ চেষ্টার জন্য তারেক মনোয়ারকে অভিযুক্ত করেছেন। এদিকে সাইদীকে ইমাম মাহদী ঘোষণা করে সহজ সরল মানুষকে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে।

রাসুল (সা:) এর নবুয়তের ৭ম থেকে দশম বছর পর্যন্ত মক্কার বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছেন, ক্ষমতা লাভ করার চেষ্টা করেছেন এবং পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে তিন বছর কারাগারে বন্দী ছিলেন ইত্যাদি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও বানোয়াট কথা উল্লেখ করে সারাদেশে ওয়াজ করছে। ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ওয়াজগুলোর ভিডিও ছেড়ে সারা বিশ্বে প্রচার করছে।

জানা যায়, বছর দুয়েক আগে তারেক মনোয়ারের সাথে ওয়াজকারী হিসেবে পরিচিত শাইখ জামাল উদ্দিন, হাবিবুল্লাহ মেজবাহ ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন মোল্লার বৈফক হয়। উক্ত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ও রাজনৈতিক ঘটনাবলীর আলোকে কোরআনের সুরাগুলোর মিথ্যা তাফসির করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রথমে আপত্তি করলেও জামাতের ফান্ড থেকে জামালকে দেড় কোটি টাকা ও অপর দুজনকে ১ কোটি টাকা প্রদান এবং আর্থিক সহযোগিতা অব্যহত রাখার আশ্বাস দেয়া হলে তারা বানোয়াট কাহিনী বর্ণনা করে ওয়াজ করা শুরু করে। এর পরই শাইখ জামাল নামে উক্ত ওয়াজকারী বারিধারার জামালপুর টাওয়ারে শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে একটি অফিস ভাড়া নেয়। এখানে মূলত জামাত শিবিরের কয়েকজন জঙ্গির সহযোগিতায় কোরআন ও হাদিস বিকৃতি ও অপপ্রচারের কলা কৌশল প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পরবর্তিতে আমির হামজা নামে এক ওয়াজকারীকে এক কোটি টাকা দেয়া হয়। একই উদ্দেশ্য প্রচারে আবদুল কাদের জেহাদী ও আবদুল জব্বারকে কত টাকা দেয়া হয়েছে তা জানা যায় নি।

যেভাবে নবী (সা:) এর মিথ্যা কাহিনী তৈরি ও কোরআনের বিকৃতি করা হয়:
রাসুল সা: নব্যুয়তের প্রথম ১৩ বছর মূলত আল্লাহর একত্ববাদের উপর গুরুত্ব দিয়ে ইসলাম প্রচার করেন। প্রথম তিন বছর গোপনে প্রচারের পর প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করলে আবু জেহেলসহ কোরাইশরা তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। নবুয়তের ৬ষ্ঠ বছরে ওমর (রা:) ও হামজা (রা:) ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলাম গ্রহণ বেড়ে গেলে রাসূল (সঃ)কে হত্যা করার লক্ষ্যে আবু তালিবের কাছে আবু জেহেল আহবান জানায়। তিনি তাদের হাতে তুলে দিবেন না মর্মে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এ অবস্থায় ৭ম বছরে কোরাইশদের অন্যান্য গোত্র বয়কটের ঘোষণা দিলে রাসূল (সঃ) সহ বনি হাশেম ও বনু মুত্তালিব গোত্রের নারী-পুরুষ ও শিশুসহ সবাইকে নিয়ে শি’আবে আবু তালিব নামে মক্কার পার্শ্ববর্তি স্থানে আশ্রয় নেন। একে অনেকে প্রথম হিজরত বলে।
দশম বর্ষে আবু তালিব ও খাদিজা (রা:) এর মৃত্যু হলে রাসুল (সা:) মদীনায় হিজরত করেন।

কিন্তু এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে আবু তালিবের জায়গাকে কারাগার, রাসুল (সা:)কে কয়েদী বলে এবং মক্কার কাফেরদের আলেম আবু জেহেলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি কাহিনী বর্ণনা করা হয় এবং সকলকে “ইসলামের জন্য গুণ্ডামি” করার আহবান জানায়। সুরা আল আনফালকে “রাসুল কারাগারে বন্দি থাকতে আল্লাহ বলেছেন” বলে উল্লেখ করেছে। অথচ এ সুরা নাজিল হয়েছে মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছরে বদরের যুদ্ধের পর। উল্লেখ করা ৩০ নং আয়াতে হত্যার চক্রান্ত বলে যে কথা বলা হয়েছে তা আল্লাহ রাসুলকে হত্যার চক্রান্তের কথা অবগত করলে তিনি সওর গিরিগুহায় আশ্রয় নেন এবং রাসুলের স্থানে আলী (রা:) এর ঘুমিয়ে থাকেন – এই ঘটনার প্রতি দিক নির্দেশ করেছে।

তাদের এ ওয়াজের ভিডিওগুলিতে অনেক আলেম ক্ষোভ জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।

নবী-রাসুলদের নামে প্রচলিত লোক কাহিনী ও বাইবলিক্যাল ট্রেডিশনের কারণে বিভিন্ন কাহিনী স্থান পাওয়ার কথা জানা যায়। পাকিস্তান ৫০ এর দশকে মওদুদী এমন একটি অপচেষ্টা করেছিল কিন্তু আলেম ওলামাদের প্রতিবাদের কারণে সেভাবে বিকৃত করতে পারেনি। জামাত শিবিরের এই পালিত জ্ঞানপাপীদের দ্বারা যে বিকৃতি হয়েছে এমন বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মনগড়া কাহিনী বর্ণনার ঘটনা বাংলাদেশে এ যাবত হয়েছে বলে জানা যায়নি।

হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর কঠোর নির্দেশ হচ্ছে, আল্লাহ ও রাসুলের নামে কোন কথা বানিয়ে বলা যাবে না, এমন কি ভাল কথাও মিথ্যা হলে তা বলা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তিনি বলেন নি এমন কোন কথা তাঁর নামে বললে সেই ব্যক্তির স্থান হবে জাহান্নামে। তাই এই ভন্ড মোল্লাদের মিথ্যাচার কুফুরীর শামিল।

বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও হাদিস গবেষক আবদুল্লাহ হারুন বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড সুস্পষ্টভাবে শাস্তযোগ্য অপরাধ। দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলে আল্লাহ, রাসুল ও ইসলাম অবমাননার অপরাধে তাদের স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। তওবা করে নতুনভাবে বিবাহ না করলে স্ত্রীদের সাথে তাদের সম্পর্ক জেনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

নব্য আবু জেহেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে, তারেক, জামাল ও আমীর হামজাদের মত মৌলভিরা যেভাবে নিজেদের ঈমান বিক্রি করার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ওয়াজ করাসহ ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন শান্তিপ্রিয় মুসলিমরা।

সুরা আনফালের প্রকৃত তাফসির
https://islamhouse.com/bn/books/2797466/

শাইখ জামালের কল্পকাহিনী এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে তোহমত: https://www.youtube.com/watch?v=jw5fN46AzvM

আইয়ুব আলীর বানোয়াট তাফসির: https://www.youtube.com/watch?v=vKpJm7B90oA

আবুল জব্বারের বানোয়াট তাফসির https://www.youtube.com/watch?v=z_2u3ULLEfk

হাবিবুল্লা মেজবার বানোয়াট তাফসির
https://www.youtube.com/watch?v=j3TTNV0T65k

 

সুরা আনফালের প্রকৃত তাফসীর শুনুন প্রখ্যাত আলেম মতিউর রহমান মাদানির বর্ণনায়


আরও সংবাদ