শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ১০:১০ অপরাহ্ন

মানসিক আতঙ্কে উহানফেরতরা!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

চীনের উহান থেকে যাদের ফিরিয়ে এনে আশকোনার হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে, তারা কেউ এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন৷ তবে তাদের এখন আতঙ্ক এখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাদের কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেটা নিয়ে৷

হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি ছাত্রের সঙ্গে যখন সোমবার বিকালে ডয়চে ভেলের প্রতিনিধির কথা হয় তখন তিনি ক্যাম্পের ছাদে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলছিলেন৷ তারা পানির খালি বোতলকে ফুটবল বানিয়ে সময় কাটানোর জন্য এই খেলার আয়োজন করেন৷ তার কথা, ‘কী করব ভাই, সময় যে আর কাটে না৷ এখন মোটামুটি সবকিছুই ঠিক আছে৷ কিন্তু কবে বাড়ি ফিরতে পারব সেটা নিয়েই উদ্বিগ্ন৷’

এরমধ্যে আরও অনেক উদ্বেগের কারণ ঘটেছে৷ তারা এখান থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর কী পরিস্থতি হয়, এলাকার লোকজন কীভাবে নেয় সেটা নিয়েও তারা আতঙ্কিত৷ কারণ চীন থেকে আসা এবং চীনা নাগরিকদের নিয়ে একটা আতঙ্ক আমরা এরই মধ্যে লক্ষ্য করতে পারছি৷

তিনি বলেন, ‘আমরা যেদিন আসি সেদিন এয়ারপোর্ট থেকে বাসে করে আমাদের হজ ক্যাম্পে আনা হয়৷ আমাদের বাস ছিল কালো গ্লাসের৷ আর আমাদের বাসের চারপাশে যারা বাইরে ছিলেন তাদের মধ্যে আমরা আতঙ্ক দেখেছি৷ যারা মাস্ক পরা ছিলেন তারাও আবার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন৷ যাদের মাস্ক ছিল না তারা হাত বা জামা-কাপড় দিয়ে ভয়ে মুখ ঢাকেন৷ তারা তাদের নিরাপত্তার জন্য এটা করছেন৷ কিন্তু আমাদের খারাপ লাগে৷’

তিনি আরও জানান, ‘হজ ক্যাম্পে আমাদের যারা খাবার দিতে আসেন তারাও ভয়ে থাকেন৷ রুমের বাইরে দরজা থেকেও দূরে তারা খাবার রেখে চলেন যান৷ আমাদের নিয়ে এখানেও আতঙ্ক৷ কিন্তু আমরা যারা এসেছি তারা কেউই এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নই৷’

তবে তিনি সরকার ও দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাবতেই পারিনি এত দ্রুত আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে৷’

কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন

শনিবার যে ৩১২ জন ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যে আট জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল জ্বর থাকায়৷ কিন্তু তাদের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর৷ তাদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে এখন হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে৷ আরেকজন গর্ভবতী নারীকে তার একটি শিশু সন্তানসহ সিএমএইচেই রাখা হয়েছে৷ তবে ক্যাম্প থেকে নতুন করে আরেকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷ ডা. আলমগীর জানান, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এবং চীনে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি৷’

ক্যাম্প পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে

ক্যাম্পে একঘেয়েমি কাটানোর জন্য আটটি বড় পর্দার টিভি দেয়া হয়েছে৷ দেওয়া হয়েছে ওয়াফাই কানেকশান৷ তবে প্রথম দিন তাদের কয়েকজনের স্বজনেরা এলেও এখন আর কেউ আসছে না৷ কারণ কাউকেই দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না৷ হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত একজন ছাত্রের ভাই ইলিয়াস মন্ডল জানান, ‘আমরা যেতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু আমাদের জানানো হয়েছে দেখা করতে দেয়া হবে না৷ তাই আমরা যাইনি৷ আমার ভাই কবে বাড়ি ফিরে আসবে তার অপেক্ষা করছি৷’

ডা. আলমগীর জানান, ‘১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ স্পষ্ট হয় তাই অনেকে বলছেন ১৪ দিনের মধ্যে তারা ছাড়া পাবেন৷ কিন্তু আসলে তা নয়৷ যদি কারুর এর মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে তো তার চিকিৎসা লাগবে৷’

মোট আটটি গণরুম রয়েছে ক্যাম্পে৷ এরমধ্যে দুটিতে নারীরা রয়েছেন৷ বাকি ছয়টিতে পুরুষ৷ সেখানে অবস্থানরত আরেকজন ছাত্র জানান, ‘শুরুতে যে অব্যবস্থাপনা ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে৷ ওয়াশরুমে সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ দেয়া হয়েছে৷ দুই বেলা নাস্তা এবং দুই বেলা খাবার দেয়া হয়৷ আমরা ভেতরে ঘোরাফেরা করতে পারি৷ তবে গণরুম নিয়ে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক আছে৷ এই রুমে একজন আক্রান্ত হলে বাকিরাও হতে পারে৷’

সহানভূতিশীল হতে হবে

ডা. আলমগীর জানান, ‘আশকোনা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টিম কাজ করছে৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আছে৷ সেনাবাহিনী আছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আছে৷ তাদের প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ খাবার থেকে সবকিছু তাদের দেয়া হচ্ছে৷ আর তাদের বেডগুলোর দূরত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনেই করা হয়েছে৷ কিন্তু তাদের এখানে তো আলাদাভাবে কিছু দিন সবার নিরাপত্তার স্বার্থেই কষ্ট করে থাকতে হবে৷’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা যেহেতু নতুন ভাইরাস, তাই এর সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই৷ লক্ষণ দেখে চিকিৎসা হয়৷ যার জ্বর তার জ্বরের চিকিৎসা৷ যার কাশি তার কাশির চিকিৎসা৷ এই চিকিৎসার সব প্রস্তুতি আমাদের আছে৷’

তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক এখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তারা সামাজিক সমস্যায় পড়তে পারেন৷ এই জন্য আমাদের তাদের প্রতি সহানভূতিশীল হতে হবে৷’-ডয়চে ভেলে


আরও সংবাদ